টেস্ট সিরিজে ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি টাইগাররা। সাদা পোশাকে টানা দুই টেস্টে ভরাডুবির পর তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে রঙিন পোশাক গায়ে চাপিয়ে জয় দিয়ে তা রাঙিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে অনেকদিন পর নতুন রুপে আবারও দেখা পাওয়া যায় লাল-সবুজদের।
এ নিয়ে ক্রিকেট ভক্তরা বলছেন, দলের কঠিন সময়ে পুরো টাইগার শিবিরের চেহারা বদলে দিয়েছেন প্রাণ ভোমরা মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি আসলেন আর জয় করলেন। তিনি খেলেন, খেলান আর জয় করেন। এটাই হল তার ম্যাশ ম্যাজিক!
এদিন গায়ানায় সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যার ফলে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেছে টিম-টাইগাররা।

প্রথম ওয়ানডের পারফরমেন্সের মতো দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও নিশ্চয় মাশরাফিদের এমন ভাবনা থাকবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাকী দুই ওয়ানডে খেলেই দেশে ফিরবেন মাশরাফি। এর আগে, ওয়ানডে সিরিজ শুরুর পূর্বে অধিনায়ক মাশরাফি বলেছিলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই মূলত ২০১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে বাংলাদেশের। যদিও এখনো তা দিন বাকী। তবুও মাশরাফির কথাটা বাস্তবেই পারফেক্ট।
এ সিরিজের আগেই যে কোচ নেয়া হয়েছে স্টিভ রোডসকে। তাও বিশ্বকাপের চিন্তা মাথায় রেখেই। যেহেতু ইংল্যান্ডে হচ্ছে আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট। ফলে একজন ইংলিশ কোচই যথার্থ এ সময়ে। এখানে টেস্ট, টি-২০ এর প্লান বা এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা কিছুটা গৌণই থেকেছে।
সে যাই হোক, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চিন্তা-ভাবনাটাই মাশরাফি মুখে বলেছেন। প্রস্তুতিটা ভালভাবেই শুরু করেছে টিম বাংলাদেশ। হাজারো ব্যর্থতার বিভীষিকা মাথায় নিয়ে চলতে থাকা টিম বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ক্রিস গেইল, জেসন হোল্ডারদের হারানোটা ওয়ানডে শক্তির যথার্থতারই প্রমাণ মেলে।
প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে শুধু জয়ই পায়নি টিম বাংলাদেশ। দলের প্রতিটা ডিপার্টমেন্টের শক্তি মত্ত্বারও প্রদর্শন ছিল। টেস্টে যে ব্যাটিং লাইন ব্যর্থ। সেই ব্যাটিং লাইন ৫০ ওভারের ম্যাচে কারিবীয়ান বোলারদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ২৭৯ রানের যে ইনিংসটা খেলেছে। এটা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনের গভীরতারই বহিঃপ্রকাশ। দ্বিতীয় ম্যাচেও এমনটাই অব্যাহত থাকবে বাংলাদেশ দলের কাছে এটাই প্রত্যাশা। ওই ম্যাচে ওপেনিংয়ে তামিম ও সাকিব ওয়ান ডাউনে যে পার্টণারশীপ খেলেছেন। সেটা এক কথায় দুর্দান্ত। এরপর সাব্বির ব্যর্থ হলেও মুশফিকের ইনিংসটা ছিল দেখার মতো।
এছাড়া মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি মোসাদ্দেক ও মেহেদি হাসান মিরাজের মতো ট্যালেন্ট ব্যাটসম্যান রয়েছে দলে। যাদের সামর্থ্য রয়েছে বড় ইনিংস খেলার।
ফলে ওয়ানডে ব্যাটিং লাইন নিয়ে দুশ্চিন্তা একটু কমই আছে। শুধু হেড কোচ স্টিভ রোডসই নন। দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এক সময়ের দুর্দান্ত ব্যাটসম্যান নেইল ম্যাকেঞ্জি। ব্যাটসম্যানদের এগিয়ে নেয়ার পেছনে তারও ভুমিকা থাকবে। বিশেষ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ডের মতো কন্ডিশনে কিভাবে কী করতে হবে সেটা তিনি খুব ভাল বুঝাতে পারবেন।
সিরিজের প্রথম খেলায় বোলিংয়েও চমৎকার পারফরমেন্স ছিল বাংলাদেশের। কোর্টনি ওয়ালশ বোলারদের সঙ্গে বেশ কিছুদিন যাবৎ আছেন। সেটার ফল পাচ্ছেন তারা। টেস্টে না পারলেও ওয়ানডেতে সেটা দেখিয়েছেন। মাশরাফি ছাড়াও রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজরা ভালোই ভুগিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটসম্যানদের। বিশেষ করে ক্রিস গেইল, এভিন লুইসের মত ব্যাটসম্যানরা সেভাবে খেলতে পারেননি। ব্যাট হাতে ক্রিজ আঁকড়িয়ে থাকতে হয়েছে। গেইল ৪০ করেছিলেন ৬০ বলে।এটা তো তার স্বভাবের বাইরে যেয়েই খেলেছিলেন। ফলে বোলারদের পারফরমেন্সের প্রশংসা করতেই হচ্ছে। সব মিলিয়ে খেলাটাতে বাংলাদেশ দল তাদের সম্মিলিত শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে পেরেছিলেন।
আপাতত এটাই স্বস্থির। বিশ্বকাপের প্রস্তুতির সূচনায়। এবং নতুন দুই কোচেরও সূচনাতে ক্যারিবীয়ান কন্ডিশনেও বাংলাদেশের যে সামর্থ্য সেটা দেখিয়ে দেয়ায় অ্যাডভান্সে থেকেই দলকে এগিয়ে নিতে পারবেন তারা।
এখনো দুই ম্যাচ বাকী আছে। সেখানেও অনেক কিছু ইনপ্রুভ করার ব্যাপারটি রয়ে গেছে। জয় পেতে হবে তো অবশ্যই। একইসঙ্গে প্রত্যেকটি ডিপার্টমেন্টের উন্নতি করাটাও অত্যন্ত প্রয়োজন।
এদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশ্যই বাংলাদেশ দলকে নিয়েও তারা প্রচুর হোম ওয়ার্ক করবে। কেননা, তারাও নিশ্চয় ঘরের মাঠে সিরিজে হারতে চাইবে না। ক্রিস গেইল, জেসন হোল্ডাররা নিশ্চিতভাবে এ লজ্জা থেকে মুক্তি পেতে আপ্রাণ চেষ্টা যাবেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
ফলে বাংলাদেশ পরের ম্যাচে আরও সতর্ক থেকেই খেলবে এবং নিজেদের লক্ষ্যমাত্রায় এগিয়ে যাবে এমনটাই স্বাভাবিক।
গায়ানার প্রোভিডেন্স স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার (২৫ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় শুরু হবে।
