রাশিয়া বিশ্বকাপে ১ম পর্ব থেকে বিদায় নেয় জার্মান।হতাসা নিয়ে আসর থেকে বাদ পরে দলটি ।দলের ফরোয়টদের নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়।তবে সবচেয়ে বেশি সামলোচনা হয় সপারস্টার ওজিলকে নিয়ে বিশ্বেকাপের পর নানা গুঞ্জন এর পর হঠাৎ করেই জার্মান ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন জার্মান তারকা ওজিল।
আর্সেনালের এ তারকার বিদায়ে মর্মাহত হয়েছেন তার ভক্তরা। মূলত জার্মান ফুটবলে বর্ণবাদী আচরণ থাকায় তিনি বিদায় জানিয়েছেন জার্মানকে।রবিবার এক টুইটে অবসরের ঘোষনা দেন এই তারকা। সেখানে তিনি লিখেন, আমি তুরস্ক বংশোদ্ভূত তাই তুরস্কের প্রতি আমার ভালবাসা রয়েছে। আমার পিতা আমাকে শিখিয়েছেন, আমরা যেখান থেকে এসেছি, যেখানে আমাদের পরিবার বেড়ে উঠেছে এবং আমাদের স্মৃতি রয়েছে আমরা যেন তাকে ভুলে না যাই।
তিনি আরো লিখেন, অনেক ভাবনাচিন্তার পর আমি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিতে বাধ্য হলাম। বিশ্বকাপে আমার সঙ্গে যা হয়েছে সেটার পর আর জার্মানির হয়ে খেলব না। জার্মানির বর্ণবিদ্বেষের আবহে আমার মনে হয়েছে এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। এক সময় গর্ব হতো জার্মান জার্সি পরে মাঠে নামলে। এখন ছবিটা পুরো আলাদা। সিদ্ধান্তটা খুবই কঠিন। কিন্তু বিদায়বেলায় এটাই বলতে চাই, আমি সব সময় দেশের জন্য নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করেছি।আমি মুসলমান বলেই এমন আচরণ
গতকালের এ পোস্টের পর তিনি আজ সিঙ্গাপুরে পৌছেছেন হাসিমুখেই। জার্মানীর হয়ে তিনি ৯২টি ম্যাচ খেলেছেন এবং পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার হয়েছেন।
সম্প্রতি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তায়েপ এরদোগানের সঙ্গে ছবি পোস্ট করে বিতর্কে পড়েন ওজিল। এসময় ওজিল ও তার পরিবারের উপর মানুষের বিষেদাগারে অতিষ্ট হন তিনি।
এসময় ওজিল বলেন, ‘তার (ফেডারেশন সভাপতি) মতো বর্ণাবাদী মানসিকতার মানুষের উচিত নয় জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের মতো বিশ্বের অন্যতম বড় ফুটবল সংস্থার দায়িত্বে থাকা। গ্রিন্ডেল এবং তার সমর্থকদের চোখে যখন আমি ভালো খেলে জিতি তখন আমি একজন জার্মান। আর যখন হেরে যাই তখন আমি অভিবাসী।’
ভক্তদের বেপারেও লিখেন এ তারকা তিনি লিখেন, ‘‘খেলা শেষে (বিশ্বকাপের) এক জার্মান ভক্ত আমাকে বলেছিলো ‘তোর মতো তুর্কিকে ঘৃণা করি। শুয়োর, তোর মুখে প্রস্রাব করি।’ আরও কত ঘৃণাযুক্ত ইমেইল, হুমকি দিয়ে করা ফোন কল আর সামাজিক মাধ্যমে বাজে মন্তব্য আমি আর আমার পরিবার পেয়েছে তা নিয়ে আলাপ করতে চাই না।
এসব কিছু অতীতের এক জার্মানিকে সামনে তুলে আনে, যে জার্মানিকে নিয়ে আমি গর্ববোধ করতে পারিনা। আমি নিশ্চিত মুক্ত সামাজিক পরিবেশে বিশ্বাসী অনেক জার্মানও আমার সাথে একমত হবেন।’
তবে ওজিলের লাখো লাখো ভক্তরা কোন ভাবেই তার এই অফসর মেনে নিতে পারছে না।জার্মান ফুটবল হারালো একজন গ্রেটকে।
