
দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পর দাপুটে বোলিং। একেবারে কোনঠাসা হয়ে পড়ে উইন্ডিজরা । ফলাফল বাংলাদেশের দাপুটে জয়। প্রথম ওয়ানডেতে ৪৮ রানে জিতে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল টাইগাররা। মাশরাফিদের বেঁধে দেয়া ২৮০ রান তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ওভার শেষে ৯ উইকেটে ২৩১ রান করে উইন্ডিজরা।
হেটমায়ারের বিদায়ের পর যখন পরাজয় আসন্ন, তখন মনে এত ফুর্তি আসে কী করে স্বাগতিক দর্শকদের? ক্যারিবীয়দের এত সব বুঝতে বয়ে গেছে! তারা মাঠে এসেছেন মজা করতে। মিউজিকের শব্দ কানে এলেই হলো, আপনাআপনি শরীরটা দুলে উঠবে তাদের। হেটমায়ারের আউটের পর আন্দ্রে রাসেল যখন বাংলাদেশের বোলারদের দু-একবার উড়িয়ে মারলেন, একজন প্রবীণ নারী দর্শক এত সুন্দর করে নাচছিলেন, লং অফে ফিল্ডিং করা সাব্বির রহমান তো দেখে হেসেই বাঁচেন না! সীমানা দড়িতে দাঁড়িয়ে হালকা বাতচিতও সেরে ফেললেন বাংলাদেশ দলের তরুণ ব্যাটসম্যান।
তামিম–সাকিব দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এনে দিয়েছেন ২০৭ রান।ক্যারিবীয় দর্শকেরা ক্রিকেটে নির্মল আনন্দ খুঁজে পেলেও আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সেটি পাওয়ার কথা নয়। বাংলাদেশ যে হারাতে পারে, এবার সেটি গায়ানায় এসে টের পেল উইন্ডিজ। বাংলাদেশ অবশ্য আপত্তি তুলতে পারে। টেস্ট সিরিজ বাজেভাবে হেরেছে বলে তারা নিশ্চয়ই ‘জঘন্য’ দল হয়ে যায়নি; ওয়ানডেতে এই দলটা অন্যরকম—মাশরাফিরা দাবি করতেই পারেন। গায়ানা ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে হোল্ডারদের বিপক্ষে পাওয়া ৪৮ রানের জয়টা স্বস্তিতে নিশ্বাস নেওয়ার বড় উপলক্ষ বাংলাদেশের।
অ্যান্টিগা টেস্টের প্রথম সকালে ৪৩ রানে অলআউট হওয়ার ভূত পিছু নিয়েছিল, সেটি থেকে আপাতত মুক্তি তো মিলল। এই মুক্তি যে গায়ানায় মিলবে, সে আশা অনেকে হয়তো ছেড়েই দিয়েছিলেন। এমনকি আজ যখন তামিম ইকবাল খুব ধীর-লয়ে সেঞ্চুরি (ওয়ানডেতে যেটি বাংলাদেশের সবচেয়ে মন্থর সেঞ্চুরি) করলেন, তা নিয়েও কি কম সমালোচনা হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে? পরে ক্রিস গেইলের মতো বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানও যখন ‘টুক-টুক’ করে এগিয়েছেন (৬০ বলে ৪০), তখন হয়তো বোধগম্য হয়েছে, এই মন্থর উইকেটে ঝড় তোলা সহজ কাজ নয়।
১৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন তামিম। হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।দুর্দান্ত বোলিংয়ে সামনে থেকে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। শুরু থেকেই ক্যারিবীয়দের ব্যাটসম্যানদের এমনভাবে চেপে ধরেছেন, তাঁরা স্বস্তিতে শ্বাস নিতে পারেননি। অধিনায়কের বোলিং বিশ্লেষণটা দেখুন: ১০ ওভারে ১ মেডেন দিয়ে ৩৭ রানে ৪ উইকেট। মাশরাফিকে সমর্থন দিতে এগিয়ে এসেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান।
