স্বাধীনতার পর মুক্তিযুদ্ধের গল্প নিয়ে অসংখ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। এক একটা চলচ্চিত্রে এক এক ধরনের গল্প উঠে এসেছে। কিন্তু সব মিলিয়ে হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ, বিজয় উল্লাসের চিত্রটাই শুধু ঘোরপাক খেয়েছে চলচ্চিত্রগুলোতে। কিন্তু এর বাইরেও যে একটা গল্প আছে বা মুক্তিযুদ্ধের যে একটা চালচিত্র রয়েছে সেটা এখনো অধরাই রয়ে গেছে। যুদ্ধের ভেতরকার গল্প, দেশ স্বাধীন হওয়ার ক্রান্তিকাল, সদ্য স্বাধীন দেশ পরিচালনার মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ, রাষ্ট্রনেতাদের অবস্থানসহ আরো বিভিন্ন বিশ্লেষণধর্মী গল্প দর্শকদের সামনে তুলে ধরা যেত সোনালি পর্দায়, কিন্তু সেটা খুব একটা সম্ভব হয়নি। এই অসম্ভব বিষয়টিকে উপস্থাপনের খানিকটা চেষ্টা করা হয়েছে সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বেঙ্গল বিউটি’ ছবিতে। চিত্রের মাধ্যমে গল্পটা না বললেও কথা পরম্পরায় ভয়াবহ এক যুদ্ধের পর রাষ্ট্রনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কীভাবে দেশ পরিচালনা করেছেন—সেই কাহিনি সুন্দরভাবে বুঝিয়েছে ছবিটি। এখানেই ছবিটির মুগ্ধতা।
কিন্তু হতাশার গল্প হলো, মাত্র একটি হলে (ব্লকবাস্টার সিনেমাস) মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। রাহশান নূর পরিচালিত চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন মুমতাহিনা টয়া। তিনি অভিনয় করেছেন ময়না চরিত্রে। তার বিপরীতে আফজাল চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরিচালক নিজেই। কি অদ্ভুত সুন্দর গল্প! ১৯৭৪ সালে সদ্য আমেরিকা ফেরত আফজাল নামের এক তরুণের বাংলাদেশ বেতারে ডিজি হিসেবে যোগদান, তার সঙ্গে ময়না নামের এক তরুণীর গড়ে ওঠা প্রেমকে ঘিরে ছবিটির মূল আখ্যান এগিয়ে চলে। সেই প্রেমের গল্পের মধ্যেই ফুটে উঠেছে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়ের কথা। ছবিটি দেখে এ বিষয়টি সহজেই অনুমেয় হয় মুক্তিযুদ্ধ ও এর পরবর্তী একটি সুনির্দিষ্ট সময়কালকে ধরতে নির্মাতা কতটা কৌশল ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। চলচ্চিত্রে উঠে এসেছে ১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সালের সময়ের গল্প। এই গল্প বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এই প্রথম।
সত্তর দশকের প্রপস, কস্টিউমসহ যাবতীয় আয়োজনের উপস্থাপন ছিল ঠিকঠাক। নির্মাণশৈলীতে শতভাগ নৈপুণ্যে ঠাসা বেঙ্গল বিউটি। আবহসঙ্গীতের কথা বলতেই হয়, দুর্দান্ত। ডিটেইলের ব্যবহার, ক্যামেরার মুভমেন্ট, অভিনয়শৈলী সব মিলিয়ে একটি ভালো বাংলা সিনেমা।
বর্তমান সময়ে এসে সত্তরের দশকের লোকেশন মেলানো কম কষ্টকর ছিল না। তা কীভাবে সবকিছু সম্ভব হলো? জানালেন অভিনেত্রী টয়া। তিনি বলেন, ‘ঢাকা, গাজীপুর, মানিক গঞ্জ, ঢাকা ইউনিভার্সিটি, নটরডেম কলেজসহ আরো বেশকিছু লোকেশনে আমরা শুটিং করেছি। পুরোনো বিল্ডিং খুঁজে খুঁজে বের করে আমরা শুটিং করেছি। এই ছবিতে বাংলাদেশ বেতারও অনেক বড় ভূমিকা রেখেছে। বাংলাদেশ বেতারে শুটিং হয়েছে। শুটিংয়ে আমাদের অনেক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। ১৯৭০ সালের পরিবেশ তৈরি করে সেটি দৃশ্যায়ণ করা খুব কঠিন ছিল। সিনেমাটির জন্য আমি পাঁচ মাস অনেক কষ্ট করেছি। এরমধ্যে চার মাস ধরে শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। বাকি এক মাস শুটিং করেছি।’ পাঁচ মাস কষ্ট করে যখন একটি সিনেমাতে অভিনয় করা হয়, আবার সেই সিনেমা যদি মাত্র একটি হলে মুক্তি পায় তাহলে এটা হতাশ হওয়ার মতোই খবর। তিনি আরো বলেন, ‘প্রথমে শুনেছিলাম ৪টি হলে মুক্তি পাবে। কিন্তু পরে দেখি একটি! তবে আগামী সপ্তাহে সম্ভবত আরো কয়েকটি হলে চলবে ছবিটি।’
