রাশিয়া বিশ্বকাপে নিজের সেরাটা দিয়ে লড়েছেন পল পগবা। ফ্রান্সের দ্বিতীয় শিরোপার দিনে গোল করা ছাড়াও পুরো আসরজুড়ে রুদ্ধদ্ধার ছিল তার গতি। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপ চলাকালীন অনেককে হাস্যরস করে বলেছেন, ম্যানচেস্টারের চেয়ে দ্বিগুণ শক্তি সমৃদ্ধ এই পগবা। এর জন্য ফ্রান্স কোচ দেশম থেকে মরিনহোকে সবক নিতেও বলেছিলেন গার্ডিয়ান পত্রিকার এক স্পোর্টস রিপোর্টার।

আসলেই কিন্তু তাই। পগবার এই শক্তিমাত্তা আপোসে স্বীকার করে নিয়েছেন ম্যানচেস্টারের কোচ হোসে মরিনহো। বুঝাতে চেয়েছেন পগবা কেন বিশ্বকাপের অন্যতম স্টার। এছাড়াও বলেছেন, ‘আমি মনে করে করি তার পারর্ফম এবং কন্ট্রিভিউশনের ফল ফ্রান্সের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। বিশেষ করে আসরের দ্বিতীয় পার্ট থেকে সে (পগবা) নিজেকে স্পেশাল হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে। এখন আশা করি বুঝতে পারবে কেন সে এত ভালো খেলেছে। ’
এদিকে খবর রটেছে ম্যানচেস্টারে যোগ দিচ্ছেন আরেক মিডফিল্ডার ফ্রেড। স্প্যানিশ মিডিয়ায় খবর রটেছে, সামনের সপ্তাহে দলের অনুশীলনেও দেখা যাবে তাকে। তাই ফুটবল বোদ্ধাদের ইঙ্গিত, পগবার বিদায়ের আশঙ্কায় আগে থেকে প্রস্তুতি সারছে ম্যানচেস্টার। যদিও বিষয়টিকে স্রেফ নাকচ করে দেন মরিনহো। বলেছেন, ‘এ নিয়ে আমার কোন ধারণা নেই। সত্যি আমি জানি না কে আসবে, কে যাবে। সত্যিই আমি জানি না।’
তবে শেষের দিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে নতুন মৌসুমে বিশ্বকাপের দারুণ ফর্ম আবারো দেখানোর জন্য পগবাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন হোসে মরিনহো।
প্রসঙ্গত, গোপন কথা, মরিনহোর ট্যাকটিসে অভ্যস্ত নয় পগবা। তাই পূর্বের ক্লাবে ফিরে যাবেন তিনি। তা ফেরাতেও বিপুল খরচ করতে পারে জুভেন্টাস। ফ্রান্স জাতীয় দলে পগবার সতীর্থ ব্লাইজ মাতুইদি নাকি ম্যান ইউ’র এক কর্তাকে বলে দেন, ‘এখন আর পলের কাছে এসে আপনাদের লাভ নেই। পরে কখনও ওর কাছে আসার কথা ভাববেন।’
ইংলিশ সংবাদ মাধ্যম দ্য সানের দাবি, পগবাকে ফেরাতে তার পুরনো ক্লাব জুভেন্টাস অন্তত ১৩৩ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত দিতে রাজি। শুধু তাই নয়, রোনালদোর সঙ্গে জুটি বাধিয়ে বিশ্বসেরা ক্লাবে পরিণত হওয়ার এই সুযোগ হেলায় হারাতে চায় না জুভরা। পগবাও তার পুরনো সতীর্থ পাওলো দিবালা, আন্দ্রে বারজাগলি এবং জিওর্জিও কিয়েল্লিনির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
এখন দেখার বিষয়, পগবাকে ম্যানচেস্টারে থাকছেন নাকি পূর্বের ক্লাবে পা দিচ্ছেন।
