
ইতিহাসের ৬ষ্ঠ দল হিসেবে একাধিকবার বিশ্বকাপ জিতেছে ফ্রান্স। ফ্রান্সের দু‘বার বিশ্বকাপ জয়ের পিছনের কারিগর একজনই। তিনি দিদিয়ের দেশম। ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রথমবারের মতো ফরাসীদের উল্লাসে ভাসিয়েছেন দেশম। ২০ বছর পর আবারো ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ উপহার দিল দেশম। এবার তার ভূমিকা কোচের। দেশমের ট্যাকটিসের কাছে হারতে হয়েছে বাকিদের।
শুধু তাই নয় ইতিহাসের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে দেশম খেলোয়াড় ও কোচ হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছেন। এমন একজন সফল ব্যক্তির সমালোচনা সয়ং নিন্দুকও করতে দুইবার ভাববে। অথচ সফল এই কোচের পদত্যাগের দাবি তুললেন ফ্রান্সেরই এক ফুটবলার।
বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া ৩১ বছর বয়সী ফরাসি উইঙ্গার হাতেম বেন আরফা ফরাসি ফুটবলের ভবিষ্যতের স্বার্থে দেশমকে আর কোচের পদে দেখতে চান না। ফ্রান্স ফুটবল ম্যাগাজিনে নিজের কলামে দেশমের রক্ষণাত্মক কোচিং কৌশলের তীব্র সমালোচনা করে বেন আরফা লিখেছেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফির পেছনে লুকানোটা ফ্রান্সের জন্য ভীষণ বিপজ্জনক হতে পারে। খেলার এই ধরনটাকে আদর্শ ধরে নিলে সর্বনাশ হয়ে যাবে। আপনি অস্বীকার করতে পারেন না যে, ফ্রান্স দলের অতি রক্ষণাত্মক কৌশল ভীষণ কুৎসিত।
আমি মানছি, এটা দারুণ কার্যকর। কিন্তু ফ্রান্স আসলে জুয়া খেলে জিতেছে। প্রতিপক্ষের প্রতিটি ভুলের সুযোগ তারা কাজে লাগিয়েছে। এভাবে আপনি সবসময় জিততে পারবেন না। নতুন প্রজন্ম যদি এটা অনুসরণ করে, ভবিষ্যৎ অন্ধকার। দলের স্বার্থেই তাই সরে দাঁড়ানো উচিত দেশমের। যাতে তার উত্তরসূরি দলের সম্ভাবনাকে ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারেন। প্রতিভাবান তরুণ তুর্কিদের স্বাধীনতা দিলে তারা ব্রাজিলের মতো সুন্দর ফুটবল উপহার দেবে। সেজন্য জিদানের মতো একজন কোচ দরকার।’
প্রশ্ন উঠেছে দল থেকে বাদ পরে তবে কি ক্ষোভের বসেই দেশমের সমালোচনা করলেন হাতেম বিন আরফা?
