‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ ফুটবল বিশ্বকাপের ২১তম আসরের পর্দা নেমেছে। হয়েছে অনেক রেকর্ড অনেক অঘটন। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক রাশিয়া বিশ্বকাপের স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত
১. পেনাল্টি জুজু জয়
ইংল্যান্ড মানেই বড় টুর্নামেন্টে টাইব্রেকারে হার। কিন্তু রাশিয়ায় ঘটল ব্যাতিক্রম ঘটনা। অবশেষে কোনো বড় টুর্নামেন্টে পেনাল্টি জুজু জয় করলো ইংল্যান্ড। এজন্য সে দলের এরিক ডিয়ার এবং গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড বিশেষভাবে ধন্যবাদ পেতে পারেন। রাশিয়ায় বিশ্বকাপের নক-আউট পর্বের ম্যাচে নানা নাটকীয়তার পর পেনাল্টিতে জয় পায় গ্যারেথ সাউথগেটের দল।
২. দুর্দান্ত কামব্যাক
খেলার ইনজুরি টাইমের শেষ মুহূর্তে অ্যাটাকের জন্য বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থি ব্যঁ খ্যোর্থুয়ার বাড়িয়ে দেয়া বল দ্রুতই পৌঁছে যায় নেসার শ্যাদলির কাছে। তিনি সেই বল অসাধারণ নৈপুণ্যে জালে জড়ান। ফলে ৩-২ গোলে জাপানের বিরুদ্ধে জয় পেয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছায় বেলজিয়াম। অথচ, শুরুতে দুই গোল করে এগিয়ে গিয়েছিল এশিয়ার দলটি।
৩. নায়ক যখন গোলরক্ষক
ক্রোয়েশিয়া এবং ডেনমার্কের মধ্যকার নক-আউট পর্বের ম্যাচে দুই দলের গোলরক্ষকই লড়েছেন সমান তালে। উত্তেজনাপূর্ণ সেই ম্যাচে পেনাল্টি শ্যুট-আউটে হেরেছে ডেনমার্ক। ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক ডানিয়েল সুবাসিচ শ্যুট-আউটের তিনটি শট ফেরাতে সক্ষম হন। রাশিয়ার বিপক্ষেও সুবাসিচ নৈপূন্যে জয় পার ক্রোয়েটরা। তাকে ছাড়া আর কাকে সেই ম্যাচের নায়ক বলা যায়!
৪. স্পেনকে ফিরিয়ে নায়ক যিনি
ফিফা ব়্যাংকিংয়ে দুর্বল অবস্থানে থাকা রাশিয়া যে এই বিশ্বকাপে এত দূর অবধি আসবে, তা কে ভেবেছিল? ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচে সৌদি আরবকে ৫-০ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করে স্বাগতিকরা। আর নক-আউট পর্বে স্পেনের মতো শক্তিশালী দলকে রুখে দিতে সক্ষম হয় দলটির গোলরক্ষক ইগর আকিনফেভের দক্ষতায়। পেনাল্টি শ্যুট-আউটে দু’টি শট রুখে ঘরের মাঠে নায়কে পরিনত হন তিনি।
৫. রোনালদোর মানবিকতা
নকআউট পর্বে পর্তুগালের বিপক্ষে উরুগুয়ের দু’টি গোলই করেন এডিনসন কাভানি। স্বাভাবিকভাবে এমন খেলোয়াড়ের উপর অন্তত মাঠে ক্ষিপ্ত থাকার কথা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কিন্তু না, হলো উলটো। খেলার ৭৪ মিনিটে চোট পাওয়া কাভানি যখন খুড়িয়ে খুড়িয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন তাকে সহায়তায় এগিয়ে আসেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। সে ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয় রোনালদোর।
৬. দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে জামার্নির হোচট
গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচের ইনজুরি টাইমে দুই গোল করে জার্মানিকে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। ফলে ১৯৭৮ সালের পর এই প্রথম গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়তে হলো বিশ্বকাপের আসরগুলোতে সবচেয়ে ধারাবাহিক দল জার্মানিকে। দক্ষিণ কোরিয়াও অবশ্য বিদায় নিয়েছে, তবে মেক্সিকোকে নক-আউট পর্বে যেতে সহায়তা করেছিল তাদের জয়।
৭. অবশেষে স্বরূপে মেসি
গতবারের মতো এবারও মেসির উপর ভরসা রেখে আর্জেন্টিনার হাতে বিশ্বকাপ দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন অনেকে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর পর মেসিকে ঠিক যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পেনাল্টি মিস থেকে শুরু করে সহজ গোলের একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করেছেন তিনি। তবে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে কয়েক সেকেন্ডের জন্য আসল মেসির দেখা পেলেন ভক্তরা। সেই ম্যাচে নিজের অপেক্ষাকৃত দুর্বল ডান পা দিয়ে চমৎকার এক গোল করেন তিনি।
৮. হ্যারি কেনের গোল্ডেন বুট জয়
পানামার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচের প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিক করেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন। চলতি বিশ্বকাপে তিনি গোল করেছেন ছয়টি। ছয়টির মধ্যে তিনটি গোলই এসেছে পেনাল্টি থেকে। আসর শেষে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার যায় হ্যঅরিকেনে হাতে।
৯. শেষ বেলার সেই অবিস্মরণীয় গোল
যদিও এবারের বিশ্বকাপে জার্মানির পারফর্ম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই, তা সত্ত্বেও সুইডেনের বিপক্ষে খেলা শেষ হওয়ার কয়েক সেকেন্ড আগে ফ্রি-কিক থেকে টনি ক্রুসের করা গোলটি ফুটবল ভক্তদের অনেক বছর মনে থাকবে। তবে দলের অন্য খেলাগুলোতে যেসব খেলোয়াড় দলকে ডুবিয়েছেন , তাদের মধ্যেও অন্যতম ছিলেন ক্রুস।
১০. তারকার মেলায় পুতিন
ফুটবল ইতিহাসের জীবন্ত তারকাদের সঙ্গে এক ফ্রেমে বন্দি হন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও (বাম থেকে দ্বিতীয়)। ছবিতে আছেন লোথার ম্যাথাউস (একেবারে বামে), পেলে এবং ম্যারাডোনা (মাঝে), জে জে ওকোচা (একেবারে ডানে) এবং কানু (পেছন থেকে ডানদিকে)।
