মালয়েশিয়া ৮৫টি পাসপোর্টসহ এক বাংলদেশিকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ ৷ দেশটিতে চলা অবৈধ অভিবাসী আটক (ওপস্ মেগা থ্রি) অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানায় অভিবাসন দপ্তর ৷ স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম বার্নামা’য় প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়,বুধবারে সেলাংগর-এর একটি মিনি মার্কেটে অভিযান চালানোর সময় ৮৫টি পাসপোর্ট জব্দ করে ইমিগ্রেশন ৷ মিনি মার্কেটটির একাংশে অফিস বানিয়ে অবৈধ উপায়ে অবৈধ কর্মীদের রি-হাইয়ারিং(বৈধকরণ)-এর আওতায় নিবন্ধন করিয়েছে ওই বাংলাদেশি ৷
অভিবাসন দপ্তরের মহা পরিচালক দাতুর শ্রি মুস্তফার আলী বলেন, একই দিন ওই এলাকায় অভিযানে অন্তত ৭০ বাংলাদেশিসহ ১১৩ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তফার আলী জানিয়েছেন বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মিনি মার্কেটটি একটি কম্পানির মালিকানাধীন পরিচালিত ৷ তারা গত একবছর ধরে অবৈধ কর্মীদের অবৈধ পন্থায় বৈধকরণ প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধন করার প্রতারণার ব্যবসায় চালিয়ে আসছিল ৷ নিবন্ধন করাতে জন প্রতি অনন্ত একলাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দেড় লাখেরও বেশি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি।”

জব্দ করা পাসপোর্টগুলোর মধ্যে অধিকাংশই বাংলাদেশিদের বলে জানান তিনি। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের বৈধকরণের জন্য রি-হিয়ারিং নামে একটি প্রকল্প ২০১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি চালু করে দেশটির সরকার। ওই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ৩০ জুন। এই সুবিধা নিয়ে যারা নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছে।
ইমিগ্রেশন পুলিশ পরিচালিত ‘মেগা-থ্রি’ নামের এই অভিযানে প্রতিদিনই অনেকে ধরা পড়ছেন। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে চার ঘণ্টা সুবাং জায়া এলাকায় অভিযানে অভিবাসন বিষয়ক বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার ১১৩ জনের মধ্যে বাংলাদেশি ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের নাগরিক রয়েছে।
অবৈধরা আগামী অগাস্টের মধ্যে স্বেচ্ছায় নিজের দেশে ফেরত না গেলে তাদের বিরুদ্ধে এই আরও জোরদার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
মালয়েশিয়ায় এ বছর (২০১৮ সালে) বিভিন্ন দেশের ২১ হাজার অবৈধ অভিবাসী আটক করেছে অভিবাসন বিভাগ। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি রয়েছে। আর ৩০ জুন রি-হায়ারিংয়ের মেয়াদ শেষে মধ্যরাত থেকে চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত দুই হাজারের অধিক বিদেশি কর্মী আটক হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ শতাধিক বাংলাদেশি রয়েছে।
