কাঞ্চন ফুলের কথা

কাঞ্চন ফুল নামটি যেমন সুন্দর, এ ফুলটি দেখতেও বেশ চমত্কার। কাঞ্চন ফুলের নাম শোনেনি এমন মানুষ খুেঁজ পাওয়া মুশকিল। বাংলাদেশে রক্তকাঞ্চন, শ্বেত কাঞ্চন ও দেবকাঞ্চন—এই তিন ধরনের কাঞ্চন ফুলের দেখা মেলে। ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে এ তিন ধরনের কাঞ্চন ফুলের সমারোহ আমাদের প্রকৃতিকে সাজিয়ে তোলে বর্ণিল সাজে।

রক্ত কাঞ্চন

তুলনামূলকভাবে তিন কাঞ্চন ফুলের মধ্যে রক্তকাঞ্চনই দেখতে বেশি সুন্দর। বসন্তের রক্তিম এ ফুলটির নাম শুনলেই বোঝা যায় এই ফুলে রঙয়ের উপস্থিতি কেমন হবে। শীতের শেষে যখন রক্তকাঞ্চনের সব পাতা ঝরে যায় তখন পত্রহীন গাছ ভরে ওঠে রক্তিম ফুলে। রক্তকাঞ্চনের আদি নিবাস ভারতে। তবে বহুকাল ধরে বাংলাদেশে এর বিস্তারের ফলে এটি আমাদের নিজস্ব গাছ হয়ে উঠেছে। এরা দেবকাঞ্চনের চেয়ে আকারে কিছুটা ছোট হয়। এদের পাতার গড়ন দেবকাঞ্চনের মতোই। রক্তকাঞ্চনের ফুল ৫টি পাঁপড়ি যুক্ত। তবে এ ফুলের একটি পাঁপড়ি আকারে বড় ও গাঢ় রঙয়ের হয়ে থাকে। কাঞ্চন গাছের বাকল থেকে ট্যানিং, রঙ ও দড়ি তৈরি করা যায়। কাঞ্চন বীজের তেল এক সময় সস্তা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হতো। কাঞ্চনের শিকড় বিষাক্ত। এটিকে আদিবাসীরা সর্প দংশনের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।

শ্বেতকাঞ্চন বা সাদাকাঞ্চন

শ্বেতকাঞ্চন মূলত গুল্ম শ্রেণির গাছ। তবে অনেক সময় এগুলো কিছুটা বড়ও হয়ে থাকে। বাংলাদেশে কয়েক প্রজাতির কাঞ্চনের মধ্যে শ্বেতকাঞ্চন বা সাদাকাঞ্চন বেশ সহজলভ্য। শীতকাল ব্যতীত প্রায় সারাবছরই শ্বেতকাঞ্চন ফুল ফুটে থাকে। বর্ষাকালেও শ্বেতকাঞ্চন আলাদা রূপ নিয়ে হাজির হয় প্রকৃতিতে। শ্বেতকাঞ্চনের কাণ্ড নিচু, প্রচুর শাখা-প্রশাখা যুক্ত এবং কিছুটা ছড়ানো ছিটানো থাকে।

দেবকাঞ্চন

আমাদের দেশে কয়েক প্রজাতির কাঞ্চনফুলের মধ্যে দেবকাঞ্চন অন্যতম। দেবকাঞ্চনের আদি আবাসস্থল হিমালয়ের পাদদেশ ও আসামের পাহাড়ি অঞ্চল। তবে চীন, শ্রীলঙ্কা ও মালেশিয়ায় দেবকাঞ্চনের দেখা পাওয়া যায়। বাংলাদেশে এ কাঞ্চনের বংশ বিস্তার বহুকাল আগের। দেবকাঞ্চন, রক্তকাঞ্চন ও শ্বেতকাঞ্চনের কাণ্ড ও পাতার গড়ন প্রায় একই, পার্থক্য শুধু ফুলে। এ কারণে ফুল না ফুটলে এদের আলাদা করা কঠিন। দেবকাঞ্চন মাঝারি আকারের অর্ধ চিরসবুজ গাছ। এটি ৮-১০ মি. উঁচু হয়ে থাকে। এর মাথা ছড়ানো। গাছ ও পাতা রক্তকাঞ্চনের চেয়ে আকারে একটু বড়। এর পাতা মাথার দিকে বিভক্ত। সাধারণত আমাদের দেশে হেমন্তকালে দেবকাঞ্চনের ফুল ফুটে থাকে।