মোংলা বন্দর দিয়ে আমদানি করা একটি বিলাসবহুল গাড়ি ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বোকা বানিয়ে একটি প্রতারক চক্র নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার রাতে বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক বিভাগ থেকে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
বন্দর সূত্র জানায়, গত ২ জুন বিদেশি পতাকাবাহী জাহাজ এমভি বাইকিং ওয়াসান নামক জাহাজে করে জাপান থেকে বিভিন্ন মডেলের প্রায় ৫ শতাধিক গাড়ি মোংলা বন্দরে আসে। পরবর্তীতে এ গাড়িগুলো বন্দরের শেডে রাখা হয়।
গাড়ির এ চালানের মধ্যে আধুনিক মডেলের ল্যান্ড ক্রজার প্রাডো২০১৮ মডেলের একটি গাড়ি ভুয়া কাগজ দেখিয়ে গত ৪ জুন মোংলা বন্দরের শেড থেকে ছাড়িয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনীর ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় একটি প্রতারক চক্র।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে বন্দরের এক কর্মকর্তার ভাষ্য, প্রথমদিকে প্রতারক চক্রের জাল কাগজপত্রের বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা তাৎক্ষণিক কিছুই বুঝতে পারেননি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ যখন বুঝতে পারেন ততক্ষণে গাড়িসহ প্রতারক চক্র হাওয়া। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনার একদিন পর মঙ্গলবার রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মোংলা থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ।
মামলার সত্যতা স্বীকার করে মঙ্গলবার রাত সাড়ে এগারোটায় মোংলা থানার তদন্ত কর্মকর্তা তুহিন মন্ডল বলেন, বন্দর থেকে একটি বিলাসবহুল গাড়ি প্রতরণার মাধ্যমে কে বা করা নিয়ে গেছে। যার চেচিস নাম্বার(পিআরজে-১৫০০০০৮৩৬৫৪)।
তিনি বলেন, গাড়িটির আমদানিকারক ঢাকার অটো মিউজিয়াম নামক প্রতিষ্ঠান এবং এর লোকাল এজেন্ট খাজা শিপিং। এ ব্যাপারে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বন্দরের ট্রাফিক অফিসার মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে বন্দরের এত নিরাপত্তার মাঝে এ ধরনের ঘটনাকে বন্দরের ভাবমুর্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল রাত ১২টায় বলেন, মোংলা বন্দর দেশের দ্বিতীয় সমুদ্র বন্দর। এখানে এ ধরনের ঘটনা খুবই দুঃখজনক।
তিনি বলেন, এ ঘটনার দায় কাষ্টমস্ কখনো এড়াতে পারে না। বর্তমানে মোংলা বন্দর যেখানে এগিয়ে যাচ্ছে সেখানে এধরনের ঘটনা মোংলা বন্দরের ভাবমুর্তি নষ্ট করবে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বন্দর কর্তৃপক্ষকে তদন্তের আহ্বান জানান বন্দরের এ ব্যবহারকারী।
