বিশ্বকাপ, ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’র পর্দা ওঠার আর মাত্রি আটদিন বাকি। দুরু দুরু বুকে ফুটবলপ্রেমীরা ক্ষণগণনা শুরু করে দিয়েছেন নিশ্চয়ই। পাশাপাশি ফুটবলাররাও সেরাটা দেয়ার জন্য নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছেন। তেমনি এক দৃশ্য নজরে আসলো বার্সেলোনায় আর্জেন্টিনার অনুশীলন শিবিরে। আর ওইখানে দেখা গেলো চমক! মেসিদের অনুশীলন ক্যাম্পে দেখা মিললো এক নতুন মুখের। তিনি কখনো ফুটবলারদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছেন। কখনো বা নোট নিচ্ছেন। আবার তাকে দেখা যায়, কফি শপে আর্জেন্টিনার কোচ হোর্হে সাম্পাওলির সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ডুবে।
স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, কে এই বয়স্ক ভদ্রলোক, যাকে সাম্পাওলি এত গুরুত্ব দিচ্ছেন? সরকারি ভাবে আর্জেন্টিনার সাপোর্ট স্টাফের তালিকায় তো তার নাম নেই! আর্জেন্টিনার সাপোর্ট স্টাফের তালিকায় নামটা না থাকলে কী হবে, বার্সেলোনা ক্লাবের অন্দরমহলে এই নামটা কিন্তু খুব শ্রদ্ধার সঙ্গেই উচ্চারিত হয়। ফ্রান্সিসকো সেইরুল লো ভার্গাস। বন্ধুরা যাকে প্যাকো সেইরুল লো বলেন। যে বন্ধু তালিকায় এক সময় ইয়োহান ক্রুয়েফের নামও ছিল।
সেই ১৯৭৮ সাল থেকে বার্সেলোনা ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত। প্রথমে হ্যান্ডবল, অ্যাথলিটদের ফিটনেস কোচ হিসেবে কাজ করেছেন। পরে ক্রুয়েফ তাকে ফুটবল দলের সঙ্গে যুক্ত করেন। এক বছরের মধ্যে ফুটবল দলের প্রধান ফিটনেস কোচ হয়ে ওঠেন প্যাকো। প্যাকো-অস্ত্র কাজে লাগিয়ে বার্সায় শুরু হয় ক্রুয়েফ যুগ। পরে তিনি কাজ করেছেন পেপ গার্দিওলার আমলেও। এখনো বার্সেলোনার সঙ্গে নানা ভাবে যুক্ত ৭২ বছর বয়সি প্যাকো।
বার্সেলোনার সেই কিংবদন্তি ফিটনেস কোচই এখন আর্জেন্টিনার অন্যতম ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিশ্বকাপে। আর্জেন্টিনা শিবিরে প্যাকোকে আনার পিছনে কি তা হলে লিওনেল মেসির কোনো ভূমিকা আছে? এ ব্যাপারে পরিষ্কার কোনো ধারণা পাওয়া না গেলেও আর্জেন্টিনার সাংবাদিকদের বক্তব্য, সাম্পাওলির সঙ্গে বন্ধুর মতোই মিশছেন এই বর্ষীয়ান ফিটনেস কোচ।
মঙ্গলবার (৫ জুন) অবশ্য পুরোদমেই অনুশীলন করলেন মেসিরা। যেখানে ওজন কাঁধে নিয়ে বিশেষ ফিটনেস ট্রেনিং করতে দেখা গেল আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে।
