আজ পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার বিএল বাড়ি গ্রামের বরকত শাহের ছেলে আলহাজ আহসান উদ্দিন শাহ ‘বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষটি’ আর নেই।দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিতরোগে ভোগে অবশেষে চলে গেলেন চলে গেলেন।
আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩টার সময় ১২৬ বছর বয়সে মারা যান তিনি।ছিলেন তিনি। আজ মঙ্গলবার বাদ এশা তার জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হবে।
ইন্দোনেশিয়ায় সোদিমেদজো নামের ১৪৬ বছর সবচেয়ে বেশি বয়সী ব্যক্তিটি মারা যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত ‘বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক মানুষ’ মনে করা হচ্ছিল বাংলাদেশের আহসান উদ্দিন শাহকে।
যদিও এর কোনো রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই।জানা গেছে, মৃত্যুর আগে বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও নিয়মিত নামাজ আদায় করতেন তিনি। অবশ্য গত তিন বছর ধরে তিনি বসে বসে নামাজ আদায় করেন।
১৮৯২ সালের জানুয়ারি মাসের কোনও একদিন তিনি জন্মগ্রহণ করেন।আহসান উদ্দিন শাহ এক স্ত্রী ও ১৪ (সাত ছেলে ও সাত মেয়ে) সন্তানের জনক। মহান মুক্তিযুদ্ধের আগেই ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত তিনি ৫ ছেলে ও ৪ মেয়েসহ মোট
৯ সন্তান জন্ম দেন।স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি আরও ২ ছেলে ও আরও ৩ মেয়েসহ মোট ৫ সন্তানের বাবা হন। সব মিলিয়ে ১৯৮৭ সালে তিনি ১৪ সন্তানের জনক হন।
নিজের বাবার দীর্ঘ জীবনের বিষয়ে আহসান উদ্দিনের ছোট ছেলে গোলাম মওলা বলেন, আমার বাবা তার দীর্ঘজীবন পরিক্রমায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির আমূল পরিবর্তন যেমন দেখেছেন, তেমনি তিনটি শতক দেখা
এই প্রবীণের জীবদ্দশায় ব্রিটিশশাসিত সরকার, পাকিস্তান সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের শাসন দেখে যেতে পারেছেন। এই দীর্ঘজীবনের জন্য তিনি কৃতিত্ব দিয়েছেন নিয়ন্ত্রিত জীবন এবং খাদ্যাভ্যাস।
ছোটবেলা থেকেই তিনি নিয়মিত গরুর দুধ পান করতেন। তার প্রিয় খাবার ছিল দুধ কলা ভাত। তিনি নিজেই নিজের খাবার খেতে পারতেন। তিনি গরুর দুধ ছাড়া ভাত খেতে চাইতেন না।
‘পাবনার ঈশ্বরদীর পাকশীতে যখন হার্ডিঞ্জ ব্রিজ নির্মাণ করা হয় তখন আমার বয়স ছিল ১৮ থেকে ২০ বছরেরও কাছাকাছি। দীর্ঘদিন কাজ শেষে ১৯১৫ সালে সেতুর ওপর ডবল রেললাইন দিয়ে
যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচলের উদ্বোধন করেন তৎকালীন ভারতের গভর্নর জেনারেল ও ভাইসরয় লর্ড চার্লস হার্ডিঞ্জ যার নামে বর্তমানে সেতুটির নামকরণ।তার দেয়া তথ্য মতে, ১৯০৮ সালের দিকে ব্রিটিশশাসিত ভারত
সরকার ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রেলপথ তৈরির কাজ শুরু করে। তিনি জানান, ঈশ্বরদী-সিরাজগঞ্জ রেলপথ তৈরির সময় তিনি ও তার বন্ধুরা সেখানেঅনেক আড্ডা দিয়েছেন।
রেললাইনের জন্য যখন মাটিকাটা শুরু হয়, তখন তিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে ওই রাস্তার ওপর ডাঙ্গুলি খেলেছেন। সেখানে গরু চরিয়েছিলেন।মৃত্যুর আগে সাংবাদিকদের কাছে তার বয়সের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন এই কথাগুলো ।
