বিশ্ব ফুটবলে ঐতিহ্যবাহী ও সবচেয়ে বেশিবার শিরোপাজয়ী দল ব্রাজিল। সেই ১৯৩০ সাল থেকে ২০১৪ বিশ্বকাপ পর্যন্ত মোটে ২০টি বিশ্বযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার সবক’টিতে অংশ নিয়ে ৫ বার শিরোপা জিতে সেলসাওরা। এবারের আসরেও ট্রফির অন্যতম দাবিদার তারাই। দ্বিতীয় রাউন্ড কিংবা পরবর্তীতে কি হবে সেটা পরের হিসাব নিকাশ। কিন্তু গ্রুপ পর্বে অনায়াসেই পার পেয়ে যাবেন নেইমাররা।
বিশ্বকাপের ২১তম আসরে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের গ্রুপে পড়েছে সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা ও সার্বিয়া। বুঝাই যাচ্ছে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই দ্বিতীয় রাউন্ডে পা দিবে তারা। এরপর দ্বিতীয় রাউন্ডের গিয়ে ‘এফ’ গ্রুপের দল জার্মানি অথবা মিক্সিকোর মুখোমুখি হতে হবে পেলে-জিকোর উত্তরসূরীদের। জার্মানির বিপক্ষে ব্রাজিলের ইতিহাসটা ভালো না হলেও ব্রাজিল ভক্তদের দাবি, এবারের আসরে নেইমার-মার্সেলো কিংবা ফিরমিনোর হাত ধরে ধামাকা দেখাবে ব্রাজিল। অর্থাৎ সবকিছু মিলিয়ে জোড়া হ্যাটট্রিকের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
এখন কথা হলো, আসছে বিশ্বকাপে কেমন হবে ব্রাজিলের একাদশ। ভক্তদের প্রিয় খেলোয়াড়রা থাকছেন তো সেরা একাদশে? এমন ভবনা প্রতিটি ভক্তমনে। তাই আজ গোনিউজ পাঠকদের (পর্ব-২) জন্য রয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সেরা লাইন আফ ও একাদশ। সেরা একাদশে খুঁজে নিন আপনার প্রিয় তারকাকে। দেখে নিন আপনার মনের মতো হয়েছে কিনা একাদশটি।
তিতের ছোঁয়ায় ছয় বার?
ফরম্যাট
অ্যাটাকিং ফরম্যাট ৪-৩-৩ এ খেলতে দেখা যাবে তিতের ছাত্রদের।
পজিশন
গোল কিপার:
২০১৪ সালে ব্রাজিলিয়ান লিজেন্ড দিদার অবসরের পর এলিসন ইন্টারন্যাসিওনালের প্রথম চয়েস গোলকিপার হয়। ব্রাজিলের হয়ে অনূর্ধ্ব ১৭ ও ২০ দলে খেলেছেন তিনি। এরপর ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে এক প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেক হয় এলিসনের। আর বর্তমানে ব্রাজিলের গোলকিপারদের তালিকায় প্রথম পছন্দ তিনি।
ডিফেন্ডার
সিলভা- থিয়াগো সিলভাকে দেখা যাবে ডিফেন্ডে নেতৃত্বে দিতে। ৬৮ ম্যাচে ৫ গোল করা পিএসজি তারকার কাঁধে থাকবে আসন্ন আসরে ব্রাজিলের গুরু দায়িত্ব।
মার্সেলো- ভয়ঙ্কর অ্যাটাকিংয়ের জন্য বিখ্যাত ৩০ বছর বয়সী রিয়াল তারকা মার্সেলো। থিয়াগো সিলভার সঙ্গে ডিফেন্সে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যাবে তাকে। বর্তমানে রিয়ালের হয়ে দুর্দান্ত সময় পার করছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৬ গোল করেছেন মার্সেলো।
প্রস্তুত মার্সেলো
ফিলিপ লুইজ- অ্যাথলেটিক মাদ্রিদের এই তারকা বর্তমানে ভালো সময় পার করছেন। রাশিয়া আসরে তিতের সেরা একাদশে থাকার সুযোগ রয়েছে তারা। জাতীয় দলের হয়ে ৩১ ম্যাচে ২ গোল করেছেন লুইজ।
মিরিন্ডা: ইন্টার মিলানের এই ফুটবলার জাতীয় দলের হয়ে ৩১টি ম্যাচ খেলেছেন। ডিফেন্সে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বেশ সুনাম রয়েছে তার।
মিডফিল্ড
ক্যাসেমিরো: জাতীয় দলের হয়ে ২২ ম্যাচ খেলে কোন গোলের দেখা পাননি ক্যাসেমিরো। কিন্তু রিয়ালের জার্সিতে বেশ উজ্জ্বল তিনি। বর্তমানে রয়েছেনও সেরা ফর্মে। তাই তাকে দেখা যেতে পারে তিতের পছন্দের একাদশে।
পাওলিনহো: ক্লাব কিংবা জাতীয় দলের জার্সি বলুন, সব জায়গাতেই উড়ছেন হাওয়ার বেগে। বার্সার কোচ ভালভার্দে ও ব্রাজিল কোচ তিতের; দু’জনেরই পচন্দের পাওলিনহো।
রাতারাতি তারকা বনে যেতে পারেন ফিরমিনো।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৫ নাম্বার জার্সিধারী এই মিডফিল্ডার ৪৭ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন। মূলত গোল দেয়া নয় বরং গোল করাতে ওস্তাদ এই ফুটবলার।
কুতিনহো-জাতীয় দলের হয়ে ৩৫ ম্যাচ খেলে নয় গোল করেছেন কুতিনহো। বর্তমানে ক্লাব বার্সায় খেলছেন তিনি। এবারের রাশিয়া বিশ্বকাপে দলকে সেরাটুকু দিতে প্রস্তুত কুতিনহো।
ফেরনানদিনহো: ব্রাজিলের এই মিডফিল্ডার দেশের জার্সিতে ৪২টি ম্যাচ খেলেছেন। দলের আক্রমণভাগের ফুটবলারদের সাথে তার বোঝাপড়া যথেষ্ট ভালো।
৯৯ দিন ইনজুরির সঙ্গে যুদ্ধ করার পর ক্রোয়েশ্চিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ম্যাচ দিয়ে ফিরেন নেইমার। আর ফিরেই রীতিমত চমক দেখান তিনি। বদলি খেলোয়াড় হিসেবে নেমে গোলের দেখা পান। ব্রাজিলের ১০ নাম্বার জার্সিধারী নেইমার ৮৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ৫৩ গোল করেছেন।
বর্তমান প্যারিসের জনপ্রিয় ক্লাব পিএসজিতে গুরুত্বপূর্ণ স্ট্রাইকার হিসেবে খেলছেন।
নেইমারের দিকে তাকিয়ে থাকবে গোটা বিশ্ব।
গাব্রিয়েল জেসুস
ক্লাব ক্যারিয়ারে উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম গাব্রিয়েল জেসুস। ম্যানচেষ্টার সিটিতে বেশ দাপটের সঙ্গে খেলছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে জেসুস ১৫ ম্যাচে নয় গোল পেয়েছেন।
রোবার্তো ফিরমিনো : আলো এমন একটা জিনিস। আপনি যত জিনিস দিয়েই ঢেকে রাখুন না কেন, তা সময় বুঝে জ্বলবেই। ব্রাজিলের রোবার্তো ফিরমিনোও সেই ধরনের ফুটবলার। যার প্রতিভার কমতি নেই। লিভারপুলের এই তারকা যে কোন মুর্হুতে প্রতিপক্ষে রক্ষণভাগ ধ্বংস করে দেয়ার ক্ষমতা রাখেন। তাই রাশিয়া বিশ্বকাপে জেসুস-নেইমারের সঙ্গে ফিরমিনোকে বিবেচনায় রাখতে পারেন তিতে।
জাতীয় দলের হয়ে ১৯ ম্যাচে ৫ গোল করেছেন নয় নাম্বার জার্সিধারী এই তরুণ।
