রোজাদাররা যে দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবেন

জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামক একটি দরজা আছে। রোজাদার ছাড়া আর কেউ সেই দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। রোজাদাররা প্রবেশ করলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে এবং ওই দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করবে না।

রোজার বিশেষ ফজিলত হচ্ছে জান্নাতের রাইয়ান দরজা। এটা রোজাদারের বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা। রাইয়ান শব্দটি আরবী رى এসেছে। এর অর্থ হলো চূড়ান্ত তৃপ্তি সহকারে পান করা। রোজাদাররা জান্নাতে প্রবেশের পর সুস্বাদু পানীয় পান করবে, যার ফলে কোনোদিন তারা তৃষ্ণার্ত হবে না। ইবনে খুযাইমা উপরোক্ত হাদীসের আরো একটু বর্ধিত বর্ণনা দিয়েছেন। তা হলো : যারা প্রবেশ করবে, তারা পান করবে এবং যে পান করবে সে আর কোনোদিন তৃষ্ণার্ত হবে না। রোজাদারের জন্য জান্নাতের দরজা রাইয়ান নামকরণের তাৎপর্যও তাই।

হজরত সাহল (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘জান্নাতে রাইয়ান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সাওম (রোজা)পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেয়া হবে, সাওম পালনকারীরা কোথায়? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে এ দরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে।’ (বুখারী)

আল্লাহর নবী (স.) বলেন, ‘রমজানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম দশদিন আল্লাহর রহমত নাজিলের, দ্বিতীয় দশদিন গোনাহ মাফ তথা মাগফিরাতের এবং তৃতীয় দশদিন আল্লাহর আজাব থেকে নাজাতের জন্য নির্ধারিত।’

পবিত্র ও মর্যাদাপূর্ণ মাহে রমজানের বিশেষ বৈশিষ্ট্য বিবৃত করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এটা এমন এক মাস যে প্রথম দশদিন রহমতের বারিধারায় পরিপূর্ণ। মাঝের দশ দিন ক্ষমা ও মার্জনা লাভের জন্য নির্ধারিত এবং শেষ দশদিন জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের উপায়রূপে নির্দিষ্ট।

রোজাদারদের মাঝে এমন এক শ্রেণির লোক আছেন যারা তাকওয়া ও পরহেজগারী সম্পন্ন এবং পাপ ও বর্জনীয় কাজকর্ম থেকে বেঁচে থাকার জন্য সর্বদাই যত্নবান। তারা সিয়াম সাধনার মাঝে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে গেলে চেতনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তওবা ও এস্তাগফার করে নিজেদের সংশোধন ও ত্রুটিমুক্ত করে নেন।

এ শ্রেণির রোজাদারদের প্রতি রমজান মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রহমতের বারী বর্ষণ হতে থাকে। তারা যখন রোজার প্রথম দশদিন একান্ত নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে অতিবাহিত করেন, তখন তারা আর সেই লোক থাকেন না। যেমনটি রোজা শুরু হওয়ার প্রাক্কালে ছিলেন। বরং তাদের মাঝে মুমিন সুলভ মহৎ গুণাবলী আগের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়ে যায়।

আমাদের মাঝে রমজানের প্রথম দশদিন শুরু হয়েছে। এ দশদিন শেষ হতেই রমজানের রহমত বন্ধ হয়ে যাবে। এরপর আসবে মাগফিরাত ও নাজাতের দশদিন করে বাকি ২০ দিন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে সেহরি খাওয়ার মধ্য দিয়ে মাহে রমজান শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার প্রথম রোজা। সিয়াম বা রোজার অন্যতম শর্ত হলো যথাসময়ে সেহরি ও ইফতার খাওয়া। নির্দিষ্ট সময়ের পর সেহরির খাবার খেলে রোজা ভঙ্গ হয়। আবার ইফতারের সময়ের আগে খাবার খেলে রোজা ভঙ্গ হয়। তাই যথাসময়ের মধ্যে সেহরি ও ইফতার অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে।

আজ শুক্রবার ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৩৯ মিনিট। আজ সেহরির শেষ সময় ভোর ৩টা বেজে ৪৫ মিনিট।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত মুসলিম শরীফের এক হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যারা রমজানের চাঁদের প্রথম তারিখ থেকে শেষদিন পর্যন্ত রোজা রাখবে তারা সে দিনের মতই নিষ্পাপ হয়ে যাবে, যেদিন তাদের মাতা তাদেরকে নিষ্পাপরূপে জন্ম দিয়েছিলেন। অর্থাৎ মাতৃগর্ভ থেকে মানুষ যেভাবে নিষ্পাপ অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয় রমজানের ৩০ দিন রোজা পালন করলে তেমনিভাবে নিষ্কলুষ হয়ে যাবে।’