কোর্টনি ওয়ালশকে নিয়ে ভাবার সময় হয়েছে

আমরা খেলোয়াড়দের দোষ দিতে পারি, ক্যাপ্টেনসিতে ত্রুটি খুঁজতে পারি, কিন্তু আসল জায়গা নিয়ে কথা বলি না। এক সময় পেসররা ভালো বোলিং করত, কোর্টনি ওয়ালশ আসার পর তাদের অবস্থা খারাপ থেকে খারাপতর থেকে খারাপতম হচ্ছে। এখন হয়তো বিষয়টি ভাবার সময় এসেছে। আবার ৭ মাসেও একজন হেড কোচ খুঁজে না পাওয়া গেলে শুধু খেলোয়াড়দেরই নয় বোর্ডকেও এর দায় নিতে হবে।”

কথাগুলো কোনো সাধারণ মানুষের নয়। সারাদিন রোজা রেখে গভীর রাত পর্যন্ত জেগে খেলা দেখার পর মনের ভেতর পুষে রাখা ক্ষোভ উগরে দেওয়া মাসুদ কায়সার নামের এক ক্রিকেটপাগল মানুষের কথা। যদিও এই কথাটি এখন আর কেবল তারই একার নয়। এটা এখন কোটি মানুষ কথা। আফগানিস্তানের কাছে গত রাতে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ টাইগাররা এক ম্যাচ আগে হেরে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন প্রায় সবারই প্রশ্ন কোর্টনি ওয়ালশের কাছ কি পেয়েছি আমরা? কি টেকনিক তিনি শিখিয়েছেন যে, কিভাবে লাইন লেন্থ ঠিক রেখে কোন সময় কোথায় বল ফেলতে হয় সেটাও বোধ হয় ভুলে গেছেন পেসাররা?

‘সবার আগে অই ভুটকো ওয়ালশকে ফাঁসিকাষ্ঠে পাঠান। নিজেতো কিছু যোগ করতে পারেইনি বরং হিথ (হিথ স্ট্রিক-ওয়ালশের আগের বোলিং কোচ) যতটুকু এগিয়ে রেখে গিয়েছিলো, তার দ্বিগুণ পিছিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের বোলিংকে।’ কথাগুলো আরও এক ক্রিকেটভক্তের কথা। যিনিও রাত জেগে খেলা দেখার পর এমন মন্তব্য করে কাল ঘুমাতে গিয়েছিলেন।

২০১৬ সালের সেপ্টম্বরে অনেকটা ঢাক-ঢোল পিটিয়েই বাংলাদেশ জাতীয় দলের নতুন বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের নাম ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই দুই বছরে বাংলাদেশকে কোনো ভালো পেসার উপহার দিতে পেরেছেন কি তিনি, অবশ্যই না উত্তরই আসার কথা। যখন তিনি যোগ দেন তখনও বাংলাদেশ পেসারদের প্রাধান্য দিয়ে একাদশ সাজাতো। হাতে জমা ছিল আরও বেশ কয়েকজন পেসার। কিন্তু নতুন কিছু কৌশল রপ্ত করানো তো দূরের কথা কোর্টনি ওয়ালশ আসার পর একাদশে সুযোগ পাওয়া পেসারদেরই (ব্যতিক্রম কেবল মাশরাফি বিন মর্তুজা) তাদের বোলিংয়ের ধার আগের চেয়ে কমেছে। তাহলে এত টাকা দিয়ে তার মতো একজন কোচ লালন-পালন করার কি কোনো দরকার রয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের?

তাই তো ক্ষোভ প্রকাশ করে আরেক ক্রিকেট পাগল মানুষের কথা- ‘সব কিছুর মূলে কোর্টনি সাহেব। উনি যেদিন থেকে দলে এসেছেন সেদিন থেকেই দেশের ক্রিকেটের এই অবস্থা। বোলিং ইতিহাসের সেরা খারাপ। ব্যাটিং, তা তো দেখতেই পারছি। ম্যাচ উইন? সেটাও দেখতে হবে। সব মিলিয়ে কুফা আর কোচিং এ জিরো। সাকিব প্রসঙ্গে আর না-ই গেলাম। দেয়ালে কি এখনও পিঠ ঠেকবার বাকি আছে?? এখন হেড কোচ ঠিক করা আর নতুন বোলিং কোচ নিয়ে আসা এদেশের ক্রিকেটকে গভীর সমুদ্র থেকে বাঁচানোর মতই।’

আরেকজনের মন্তব্য যে ক্রিকেটকে নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি, আজ এই দশা!! জাতি হিসেবে এই লজ্জা রাখি কোথায়??

আরেকজনের মন্তব্য এই হলো আমাদের বাংলাদেশ দল! এইসব অথর্বের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ না করে দেশে যে লাখ লাখ বেকার যুবক আছেন তাদের কর্মসংস্থানের জন্য এ অর্থ ব্যয় করলে বিনিময়ে এ দেশ অনেক কিছু পেতো।

এখন দেখার বিষয় দু’দিন আগে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া এই আফগানদের কাছে এমন বাজেভাবে সিরিজ হারার পরও বিসিবির টনক নড়ে কিনা। সেদিকেই তাকিয়ে দেশের কোটি কোটি ক্রিকেট পাগল মানুষ।