গুয়েতামালায় ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে নিহত বেড়ে ৭৫, অসংখ্য নিখোঁজ

গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরিতে আবারও অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে। রোববার থেকে এ পর্যন্ত অগ্ন্যুৎপাতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে। নিখোঁজ রয়েছে কমপক্ষে ১৯২ জন।

এদিকে অস্থায়ী মর্গ এবং ছাইয়ে ঢাকা রাস্তার মধ্যে নিখোঁজদের মরিয়া হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা। আগ্নেয়গিরির লাভায় শরীর পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের শনাক্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত অল্প সংখ্যক মানুষের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।

দুই দফা অগ্ন্যুৎপাতে আহত হয়েছে কয়েক’শ মানুষ। হতাহত ও নিখোঁজ হওয়ার বেশিরভাগ ঘটনাই প্রথম অগ্ন্যুৎপাতে।

বিবিসি জানিয়েছে, সোমবার আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন অগ্ন্যুৎপাত বন্ধ হয়ে গেছে। গুয়াতেমালার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সিসমোলজি’র প্রধান এডি সানচেজ বলেছিলেন, আগামী কয়েকদিনে আর অগ্ন্যুৎপাত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

কিন্তু মঙ্গলবার উদ্ধারকাজ চলাকালে হঠাৎ করেই আবারও ফুয়েগোর দক্ষিণ দিকে বিস্ফোরণ হয় এবং উত্তপ্ত গ্যাস ও লাভা বের হতে থাকে।গুয়াতেমালা-গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরি

বেশকিছু গ্রাম অগ্ন্যুৎপাতের ছাই এবং কাদামাটিতে চাপা পড়েছে। নিখোঁজদের অনুসন্ধানে কাজ করছে সেনা সদস্য ও অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা।

আক্রান্ত এলাকা থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (কনরেড) জানিয়েছে, ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ। অগ্ন্যুৎপাতের ধোঁয়া ৩৩ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত আকাশে ছড়িয়ে পড়ে।গুয়াতেমালা-গুয়াতেমালায় আগ্নেয়গিরি-গুয়াতেমালা-গুয়াতেমালার ফুয়েগো আগ্নেয়গিরি

লাভার স্রোত এল রোদেও এবং স্যান মিগুয়েল লস লোতেসসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলেছে।

অগ্ন্যুৎপাতে হতাহতের ঘটনায় ঘোষিত তিনদিনের রাষ্ট্রীয় শোক চলছে। হতাহতের ঘটনায় শোক জানিয়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছে মেক্সিকো, এল সালভাদর ও ইসরায়েল।