কক্সবাজারের টেকনাফ থানার জিডি প্রমাণ করে সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওসি প্রদীপ । মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় নবম দফায় প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন-রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পিপি ফরিদুল আলম। তিনি বলেন, ওসি প্রদীপ সিনহা হত্যার সাথে জড়িত আছে, অপারেশনে বের হওয়ার সময় থানায় যে জিডি করতে হয়। ঘটনার দিন করা ৬৭৭ নম্বর জিডিতে সিনহা হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ করে। এতে বোঝা যায়, সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে ওসি প্রদীপ ও লিয়াকত।’
রবিবার ( ৯ জানুয়ারি) কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিনহা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম। বিকালে আদালত থেকে বেরিয়ে ফরিদুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, মেজর সিনহাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে ওসি প্রদীপ ও লিয়াকত। আমরা এসব যুক্তিতর্ক আদালতে উপস্থাপন করতে পেরেছি।
এদিকে আসামি পক্ষের আইনজীবীর মন্তব্য ভিন্ন। আসামি পক্ষের আইনজীবী রানা দাশ গুপ্ত বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা তিন জন সাক্ষী ও আসামিদের জেরা এবং সাক্ষ্যে ওসি প্রদীপের অপরাধ প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।’
সকাল সোয়া ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলে মামলার যুক্তিতর্ক। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলমের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।
সকাল ৯টার দিকে বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপসহ এই মামলার ১৫ আসামিকে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। ফরিদুল আলম বলেন, সর্বশেষ আট দফায় গত ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন, জেরাও শেষ হয়েছে। ৬৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ এবং জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য গ্রহণ করেছিলেন আদালত। একই সঙ্গে রবিবার থেকে আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।
ঘটনার পাঁচদিন পর ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ নয় পুলিশের নামে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়ার ফেরদৌস।
