৩০ কোটি টাকার রাস্তা হাতের টানে উঠে যায় ক্ষুব্ধ জনতা উপড়ে ফেলল সড়ক

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি সড়ক সংস্কার কাজ নিয়ে এলাকাবাসী সংক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সড়ক জনপদ বিভাগের আওতায় ৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তয়নের ক্ষেত্রে চরম দুর্নীতি ধরা পড়েছে। কোন ভাবে পাথর ও বিটুমিন মিশ্রিত উপকরণ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ দেখে স্থানীয় জনগণ তা এখন উপড়ে ফেলেছে। বরিশাল প্রেক্ষাপটে এ ধরনের ঘটনা বিরল হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এমএম খান এন্টারপ্রাইজের সত্ত্বাধিকারী মাহফুজ খান পরস্থিতি বেগতিক দেখে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে শ্রমিকদের সরিয়ে নিয়েছে। অন্যদিকে ক্ষুব্ধ জনতা গত শুক্রবার মিডিয়াকর্মীদের উপস্থিতিতে সড়কের দীর্ঘ স্থান হাত দিয়েই টেনে হিচড়ে খুড়ে ফেলে। বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে- আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর থেকে রাজিহার হয়ে ঘোষেরহাট পর্যন্ত বরিশাল অংশে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি কালভার্টসহ ১৮ ফুট প্রসস্তের ১২.৭০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজ পায় ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একই সাথে সওজ বিভাগের একই কার্যাদেশে ওই প্রতিষ্ঠান আগৈলঝাড়া উপজেলায় বিভিন্ন সড়ক উন্নয়নে আরও প্রায় ৫৮ কোটি টাকার প্রকল্পর কাজ বাস্তবায়ন করছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের শুরুতে কাজ পাওয়ার পর সম্প্রতি সড়ক সংস্কার শুরু করে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকাশ্যে সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার এবং ইচ্ছ-খুশি মত কাজ করতে থাকে। গত কয়েকদিনে বৃষ্টিতে সংস্কার সড়কের দুর্নীতির বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সেখান থেকেই উঠে এসেছে পাথর ও বিটুমিন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী প্রতিবাদী হয়ে ওঠে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কাজ সঠিকভাবে করার জন্য তাগিদ অনুরোধ রাখে। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালিক মাহফুজ খান কারও কথায় কর্ণপাত করছিলেন না।

নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানায়- জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মন্ত্রী পদমর্যাদায় থাকা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ পরিবার সংশ্লিষ্ট হওয়ায় ঠিকাদার মাহফুজ খান বেশ শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। তাছাড়াও সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রভাবশালী ঠিকাদার হওয়ার তার ইচ্ছা মতই চলছিল কাজ। এলাকাবাসী সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরে শুক্রবার সংক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিকেলে দলমত নির্বিশেষে একত্রিত হয়ে সড়ক নির্মাণে নিয়োজিত শ্রমিকদের ধাওয়া করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরাও ছুটে যান ঘটনাস্থলে। এসময় দেখা যায় ক্ষুব্ধ জনতা সড়কের দীর্ঘ এলাকার পাথর মিশ্রিত বিটুমিন তুলে ফেলে। সমান তালে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে শ্লোগান দিতে থাকেন। অবশ্য এসময় ঠিকাদার মাহফুজ খান ঘটনাস্থলে ছিলেন না।

জানা গেছে- তিনি তার কর্মচারীদের কৌশলে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নেয়। বর্তমানে সড়ক সংস্কার কাজ স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষুব্ধ জনতা শুক্রবারই বরিশালে দুই একদিনের সফরে থাকা পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী (অবসরপ্রাপ্ত) জাহিদ ফারুক শামীমের কাছে সড়ক সংস্কারে দুর্নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন এবং প্রতিকার চান। তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন আশ্বাস দিয়েছেন। অপর একটি সূত্র জানায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ’র নিজ এলাকা হওয়ায় ঠিকাদার মাহফুজ খান স্বল্প সময়ে সড়ক সংস্কার সমাপ্তে দুর্নীতির আশ্রয় নেন।

এ প্রসঙ্গে মাহফুজ খানের ব্যাখ্যা হচ্ছে- তিনি কাজটি পেয়েছেন বটে, কিন্তু বাস্তবায়নে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিয়েছেন। শুক্রবার তার বক্তব্যের বরাত দিয়ে সওজের সাথে যোগাযোগ করা হলে সেখানকার কর্মকর্তা বিস্ময় প্রকাশ করেন।

মাহফুজ খানের বক্তব্য সঠিক নয় বলে বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গোলাম মোস্তফা সময়ের আলোকে বলেন- কাজ প্রাপ্ত ঠিকাদারকেই জবাবদিহিতা করতে হবে। এখানে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে কাজ হস্তান্তর করার এখতিয়ার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নেই। তবে সড়ক ও জনপদ বিভাগ মাহফুজ খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা এড়িয়ে যান।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে- মাহফুজ খান ঝালকাঠি বিএনপি নেতা হওয়া সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের বড় বড় কর্মকর্তাদের সাথে তার গভীর সখ্যতা রয়েছে। আওয়ামী লীগের গত ১০ বছরের শাসনামলে এই অঞ্চলের সওজের সব কাজের তিনিই ঠিকাদার। আগৈলঝাড়ার ন্যায় ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে সড়ক সংস্কার আরও অনেক দুর্নীতি রয়েছে। কিন্তু তিনি থেকে যাচ্ছেন ধরা ছোয়ার বাইরে।’