১৬ দিন বন্ধ থাকার পর আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ১লা মে শনিবার থেকেই এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ইন্ডিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকাসহ ১২ দেশের সঙ্গে সাময়িকভাবে আকাশপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১ মে থেকে বর্তমানে অতিঝুঁকিপুর্ণ বিবেচিত দেশ ছাড়া বিশেষ শর্তসাপেক্ষে আন্তর্জাতিক কমার্শিয়াল ফ্লাইট পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
কোভিড-১৯ সংক্রমণের হার বিবেচনায় ৩৮টি দেশে চলাচলের ওপর বিশেষ শর্ত আরোপ করা হয়েছে। এ ছাড়াও অতি ঝুঁকিপুর্ণ দেশসমূহের সঙ্গে সাময়িক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই দুই তালিকার বাহিরে থাকা দেশ থেকে আসা যাত্রীদের করোনা নেগেটিভ সনদ প্রদর্শন সাপেক্ষে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিন কঠোরভাবে পালনের নির্দেশও দেয়া হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের তিন দেশ কাতার, বাহরাইন ও কুয়েত ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় থাকলেও সেখান থেকে আগতদের ৩ দিনের প্রতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ১২টি দেশকে অতিঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় রেখে সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ সব দেশ থেকে শুধু প্রবাসী ও বাংলাদেশি নাগরিকরাই ঢাকায় আসতে পারবে। এ দেশগুলোতে স্থায়ীভাবে বসবাসকারীরা আপাতত বাংলাদেশে ফেরার অনুমতি পাবে না।
তবে এ ক্ষেত্রে ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের শর্ত পূরণ করতে হবে তাদের। এ ক্ষেত্রে আসতে আগ্রহীদের আগে থেকেই সরকার মনোনীত হোটেলে বুকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অতিঝুঁকিপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ১২ দেশ হলো আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, সাইপ্রাস, জর্জিয়া, ভারত, ইরান, মঙ্গোলিয়া, ওমান, সাউথ আফ্রিকা ও তিউনিশিয়া।
এ ছাড়াও ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রাখা হয়েছে ২৬টি দেশের নাম। এ সব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
দেশগুলো হলো অস্ট্রিয়া, আজারবাইজান, বাহরাইন, বেলজিয়াম, চিলি, ক্রোয়েশিয়া, এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, ইরাক, কুয়েত, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুয়েনিয়া, নেদারল্যান্ডস, প্যারাগুয়ে, পেরু, কাতার, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক ও উরুগুয়ে।
এই দুই তালিকার বাহিরে থাকা দেশগুলো থেকে স্বাভাবিকভাবেই দেশে যাওয়া আসা করা যাবে।
তবে এ ক্ষেত্রে কঠোরভাবে হোম কোয়ারেন্টিন মানতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই যাত্রীদের কোভিড নেগেটিভ সনদ দেখাতে হবে।
