১১ স্বামীকে হত্যার অভিযোগ ইরানি এক নারীর বিরুদ্ধে

১১ স্বামীকে হত্যার অভিযোগ ইরানি এক নারীর বিরুদ্ধে
১১ স্বামীকে হত্যার অভিযোগ ইরানি এক নারীর বিরুদ্ধে

ইরানে কোলসুম আকবারি নামে এক নারীর বিরুদ্ধে ২২ বছরের ব্যবধানে ১১ জন স্বামীকে হত্যা এবং একজনকে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। আদালতে চলছে চাঞ্চল্যকর এই সিরিয়াল কিলিং মামলার শুনানি।

কোলসুম আকবারি: এক নারীর বিরুদ্ধে ১১ স্বামী হত্যার ভয়ঙ্কর অভিযোগ

ইরানে কোলসুম আকবারি নামের এক নারীর বিরুদ্ধে উঠেছে ভয়ঙ্কর অভিযোগ—২২ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি তার ১১ জন স্বামীকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করেছেন। তার বিরুদ্ধে এখন আদালতে চলছে মামলার শুনানি, যা ইতোমধ্যেই আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় আলোড়ন তুলেছে।

অভিযুক্তের পরিচয় ও বয়স নিয়ে বিভ্রান্তি

সরকারি নথি অনুযায়ী, কোলসুম আকবারির বয়স বর্তমানে ৫০-এর শেষ দিকে। তবে নিহতদের পরিবারের দাবি, তার প্রকৃত বয়স আরও বেশি।

আকবারির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগসমূহ

অভিযোগের ধরন:

  • ১১টি প্রথম ডিগ্রির হত্যা

  • ১টি হত্যাচেষ্টা

আদালতের নথি অনুযায়ী:

২০০১ সাল থেকে আকবারি একে একে তার স্বামীদের হত্যার ছক আঁকেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি মূলত বয়স্ক ও অসুস্থ পুরুষদের লক্ষ্যবস্তু করতেন। তাদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে, ধীরে ধীরে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করতেন। তার উদ্দেশ্য ছিল উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ, দেনমোহর এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধা আদায় করা।

হত্যার পদ্ধতি: ধাপে ধাপে পরিকল্পনা

বিষ প্রয়োগ ও কৌশল:

  • ডায়াবেটিস ও যৌন ক্ষমতা বৃদ্ধির ওষুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানো

  • ধীরে ধীরে শরীর দুর্বল করে ফেলা

  • একাধিক ক্ষেত্রে শ্বাসরোধ করে হত্যা

  • শিল্প ব্যবহারের অ্যালকোহলও ব্যবহার করেছেন বলে জানায় তদন্তকারী দল

প্রসিকিউশনের ভাষ্য:

“আসামি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তার কর্মকাণ্ড আড়াল করতে জানতেন। অধিকাংশ মৃত্যু ছিল এতটাই স্বাভাবিক বলে মনে হতো যে সন্দেহের কোনো জায়গাই থাকত না।”

তদন্তের মোড় ঘোরা: এক বেঁচে ফেরা ভুক্তভোগীর স্বীকারোক্তি

২০২৩ সালে আজিজুল্লাহ বাবায়ি নামক প্রবীণ এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার পরিবার তদন্ত দাবি করে। তিনি সম্প্রতি কোলসুম আকবারিকে বিয়ে করেছিলেন।

এক পারিবারিক বন্ধুর বিবরণ:

একজন বন্ধুর বাবা, যিনি আগে আকবারির স্বামী ছিলেন, জানান যে তাকেও একবার বিষ খাওয়ানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সৌভাগ্যবশত তিনি বেঁচে যান ও তালাক দিয়ে দেন। এখান থেকেই তদন্তে গতি আসে।

মানসিক অবস্থা নিয়ে বিতর্ক

আকবারির আইনজীবী তার মানসিক স্থিতিশীলতা যাচাইয়ের আবেদন জানান। কিন্তু ভুক্তভোগীদের আত্মীয়রা দাবি করেন:

“একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি এত নিখুঁতভাবে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারেন না।”

স্বীকারোক্তি ও বিচার কার্যক্রম

গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রথমে আকবারি আদালতে অপরাধ স্বীকার করতে অস্বীকার করেন। তবে তদন্ত চলাকালে ভিডিওতে হত্যাকাণ্ডের পুনঃঅভিনয় করতে দেখা যায় তাকে, এরপরই তিনি স্বীকারোক্তির সত্যতা মেনে নেন।

সাক্ষ্যপ্রমাণ:

  • তদন্তে জড়িত ভিডিও ফুটেজ

  • পুরনো ময়নাতদন্ত রিপোর্ট

  • ভুক্তভোগীদের আত্মীয়দের সাক্ষ্য

আদালতে ৪৫+ পরিবার, মৃত্যুদণ্ডের দাবি

এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৪৫ জনেরও বেশি ব্যক্তি বাদী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। চারজন নিহতের পরিবার সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। বাকিরা পরবর্তী শুনানিতে তাদের দাবি জানাবেন।

বিচারকদের পর্যালোচনার অপেক্ষা

বর্তমানে বিচারক প্যানেল সাক্ষ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করছেন। পরবর্তী শুনানিতে আসামির বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

এক বিরল সিরিয়াল মর্ডার মামলার পর্দাফাঁস

কোলসুম আকবারির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি ইরানের ইতিহাসে এক নারীর হাতে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ সিরিয়াল কিলিং মামলাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হবে।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, প্রতারণা ও অপরাধ কোনো নির্দিষ্ট রূপে আসে না—সতর্ক থাকতে হয় প্রতিটি সম্পর্কের ভিতরেও।