বিমানবন্দর স্টপেজে বাস থামতেই দৌড়ে এসে দুইজন হিজড়া বাসে উঠে পড়ে এবং যাত্রীদের কাছ থেকে ১০ টাকা করে আদায় করে। যারা ভালোভাবে টাকা দিয়ে দিলে তাদের রক্ষা, আর যারা টাকা কম বা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায় তাদের অবস্থা বেহাল করে ছাড়লো।
অকথ্য ভাষায় গালাগাল এবং নিজের পরনের কাপড় খুলে কি এক বিশ্রী অবস্থা করলো। উত্তরার একটি কলেজে পড়েন এক ছাত্র, কলেজ শেষে বাসায় ফিরছেন ঐ বাসে করেই, তার কাছে টাকা চাইলে তিনি বলেন , আমার কাছে বাস ভাড়া ছাড়া ৫ টাকা আছে। কিন্তু হিজড়া তো ৫ টাকা নিবেই না সে বলছে ১০ টাকা না দিলে কাপড় খুলবো । প্রেমিকা নিয়ে যখন পার্কে যাও তখন কেমনে টাকা থাকে।’
আগে মানুষ যা দিত, তা নিয়েই খুশি থাকত হিজড়ারা। কিন্তু ইদানীং তাদের আচরণ বদলে গেছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে তারা।
ট্রাফিক সংকেত বা যাত্রী নেওয়ার জন্য যানবাহন থামলে লাফিয়ে উঠে পড়লেই যাত্রীদের কিছু করার থাকে না। তাদের সঙ্গে তর্ক করলে যাত্রীদের আরও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়। টাকা না দিলে যাত্রীদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল শুনতে হয়।
তাছাড়া হিজড়া সেজে যারা টাকা আদায় করছে তাদের মধ্যে অনেক ‘নকল’ হিজড়া আছে, যাদের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিনা পরিশ্রমে অর্থ উপার্জন করা।
গ্রামাঞ্চলে কিংবা জেলা শহরগুলোয় হিজড়াদের একঘরে হয়ে থাকতে হয় বলে তারা মহানগরগুলোয় চলে আসে। এদিক থেকে ঢাকা তাদের সবচেয়ে পছন্দ। সদ্য জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর খবর পেলেই বাসাবাড়িতে চলে আসছে হিজড়ারা। তাদের দাবির পরিমাণ অর্থ না দিলে বিশৃঙ্খলা শুরু করে। উত্তরা, রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনার খবর জানা যায়।
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০০৪ সালে একটি জরিপ করেছিল। ওই জরিপে হিজড়াদের সংখ্যা ১৫ হাজার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে হিজড়াদের দাবি, শুধু ঢাকা শহরেই কমপক্ষে ৩০ হাজার হিজড়া আছে। ২০১৩ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার হিজড়াদের একটি পৃথক লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
