চারিদিকে বন্যার পানিতে থই থই ৷ ভেসে গেছে গোটা কেরালা রাজ্য ৷ মৃতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে ৷ শনিবার সকাল পর্যন্ত তা উঠেছে সাড়ে তিনশোর কাছাকাছি। দুর্বিসহ হয়ে উঠেছে কেরালাবাসীর জীবন ৷
এরই মধ্যে সন্তানসম্ভবা এক মহিলা পড়লেন বিপদে। চারিদিকে যখন বাঁচার জন্য হাহাকার ৷ বন্যা গ্রাস থেকে নিজেকে রক্ষার তাগিদ, তখনই শুরু হলো প্রসব যন্ত্রণা! ব্যথার তীব্রতা যখন বেড়ে চলল, মহিলা দিশেহারা হয়ে পড়লেন। এই অবস্থায় চারদিকে থই থই করা পানি ঠেলে কোথায় যাবেন তিনি?
এমন সময় আকাশে শোনা গেল ভারি আওয়াজ। ওই নারীর বাড়ির ছাদের ওপরে এসে থেমেছে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার ৷ সেখান থেকে দ্রুত নেমে আসেন একজন ডাক্তার ৷ প্রসব যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা নারীর শারিরীক অবস্থা পরীক্ষা করেন। সিদ্ধান্ত দেন হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে তাকে৷
সঙ্গে সঙ্গে হেলিকপ্টার থেকে নেমে আসে বেল্ট। এই বেল্টে বেঁধেই সন্তানসম্ভতা এই নারীকে তুলে নেয়া হল হেলিকপ্টারে৷
তারপর সোজা হাসপাতালে ৷ অল্পক্ষণ পরে কোল জুড়ে আলো করে এল পুত্রসন্তান। চিকিৎসকের কথায়, দেরি হলে তাকে প্রাণ বাঁচানো মুশকিল হতো ৷
এদিকে ভয়াবহ বন্যা রাজ্যের ১৪টি জেলার একটি বাদে সবই পানির নিচে। গত নয় দিনে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৪ জনে। আর বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে এখনো কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। এমতাবস্থায় উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার আরো বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।
বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে শুক্রবার এক টুইটে মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন বলেন, গত ১০০ বছরে এত ভয়ঙ্কর বন্যা দেখেনি কেরালা। শনিবার পর্যন্ত ফের নতুন করে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুক্রবারের হিসেবমতো, মৃত ৩২৪। এখনও পর্যন্ত অন্তত দু’লক্ষ মানুষ গৃহহীন। ১৫০০টি অস্থায়ী শিবিরে ঠাঁই হয়েছে তাদের। ৮০টি বাঁধ খুলে দেওয়া হয়েছে।
