হদিস নেই সাবেক সৌদি যুবরাজের

সৌদি আরবের যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে হওয়া এক মামলায় উঠে এসেছে আরেক স্পর্শকাতর বিষয়। মামলার মূল বিষয়ের পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে, সাবেক যুবরাজ ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মেদ বিন নায়েফ এখন কোথায়, যদিও মামলাটি এরই মধ্যে বাতিল হয়ে গেছে।

সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান ছিলেন নায়েফের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী। সিংহাসনের পথ প্রশস্ত করতেই ২০১৭ সালে তাঁকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেন এমবিএসখ্যাত বর্তমান যুবরাজ। গত বছরের মার্চ মাস থেকে নায়েফকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সবচেয়ে বিশ্বস্ত একজন ছিলেন নায়েফ। সিআইএর একজন কর্মকর্তা জানান, রাজপরিবারের ভেতরে সালমানের চেয়ে নায়েফের প্রতি সমর্থন বেশি ছিল।

নায়েফের সন্ধান না পাওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে বাতিল হওয়া ওই মামলার সূত্রে। ক্যারিবীয় অঞ্চলের সেন্ট লুসিয়ায় একটি তেল শোধনাগারে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সৌদি ব্যবসায়ী নাদের তুর্কি আলদোসসারি। ওই প্রকল্পসংক্রান্ত একটি চুক্তি ভঙ্গ করার অভিযোগ আনা হয় মোহাম্মদ বিন নায়েফের বিরুদ্ধে। আলদোসসারির ছেলে রাকান গত বছরের জুনে এমবিএন ও অন্যান্য সৌদি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ অভিযোগে পেনসিলভানিয়ার আদালতে মামলা করেন। রাকান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। পরে ওই মামলায় মুহাম্মদ বিন সালমানের নামও যুক্ত করা হয়।

বেশ নাটকীয়তার পর গত মাসে মার্কিন আদালত এই মামলার কার্যক্রম বতিল করে। এর আগে মোহাম্মদ বিন নায়েফকে আদালতে তলব করা হলেও তাঁর সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ। আলদোসসারির পক্ষের আইনজীবী দাবি করেছেন, নায়েফকে সৌদি কারাগারে আটকে রেখেছেন বর্তমান যুবরাজ। ওই আইনজীবী দাবি করেছেন, আলদোসসারিকেও কারান্তরীণ করা হতে পারে। এসব বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত কোনো মন্তব্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

সিআইএ সূত্র জানিয়েছে, নায়েফের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও রাজদ্রোহের অভিযোগ এনেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্যানেল দাবি করেছে, ‘কারাবন্দিত্বের বিরুদ্ধে আইনজীবীর মাধ্যমে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচারকের সামনে লড়াই করার সুযোগ নেই নায়েফের।’ সূত্র : এএফপি।