সৌদি আরবের বাদশা সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে। একই সময়ে তিনি কূটনৈতিক প্রথা ভঙ্গ করেছেন বলেও সমালোচনা চলছে।
সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে সৌদি আরবের মক্কায় ৫৭টি মুসলিম দেশের সংগঠন ওআইসি-র সম্মেলন ছিল। সেখানেই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ হয় সৌদি বাদশা সালমান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের। সম্মেলনের প্রথম সাক্ষাতেই নাকি ইমরান খান সৌদি বাদশাহকে অপমান করেছেন-এমন অভিযোগ উঠেছে।
পুরো ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এক মিনিট ১৪ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নিজের আলিশান গাড়ি থেকে নেমে সৌদি বাদশাহর দিকে হেঁটে আসছেন ইমরান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পেয়ে সৌজন্যতামূলক কিছু একটা বলেন বাদশাহ। সেই বক্তব্য দোভাষী, ইমরান খানকে অনুবাদ করে শোনান। উত্তরে ইমরান খানও কিছু বলেন। সেটিও সৌদি বাদশাহর জন্য অনুবাদ করতে থাকেন ওই দোভাষী। কিন্তু সেই অনুবাদ শেষ হওয়ার আগেই সেখান থেকে চলে যান ইমরান।
পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এই ঘটনায় স্বভাবতই অসন্তুষ্ট হয়েছেন সৌদি বাদশা। ইমরান খানের শরীরি ভাষাও সৌজন্যমূলক ছিল না বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।
ওআইসি-র সম্মেলনের পাশাপাশি সৌদি আরব ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। সেই বৈঠক সৌদি আরবের তরফ থেকে বাতিল করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সৌদি বাদশাহর প্রতি অসৌজন্যমূলক আচরণের জন্যই এই বৈঠক বাতিল হয়েছে।
এদিকে ইমরানের এমন আচরণ নিয়ে রীতিমতো তাকে টুইটারে তুলোধুনা করেছেন অনেকে। একজন লিখেন, ‘দয়া করে কেউ এই ব্যক্তিকে কূটনীতির সামান্য নীতিশাস্ত্র শেখান।
শোনা যাচ্ছে, সৌদি বাদশাহ ইমরান খানের এমন অসভ্য আচরণের জন্য বৈঠক বাতিল করেছেন। যদিও আমরা আশা করছি, এটি কেবল একটি গুজব, অন্যথায় আমাদের বেশি অনুরোধ করতে হবে।’
‘এটি অত্যন্ত অপমানজনক। ইমরান প্রবেশ করলেন, বাদশা সালমানকে কিছু বললেন এবং দোভাষী বাদশাকে তা অনুবাদ করে শোনানোর আগেই, তার কোনো জবাব না শুনেই ইমরান আকস্মিকভাবে হেঁটে গেলেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করার সময় কূটনৈতিক আচরণ শেখানোর জন্য নির্বাচন কমিটির নিকট সুপারিশ করব।’
