সুন্দরী নায়িকা শ্রাবন্তীর অবাক করা জীবন কাহিনী

শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায় ১৯২৭ সালের ১৩ আগস্ট ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। মাত্র 6 বছর বয়স থেকেই তিনি অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ছোটবেলা থেকে নাচের প্রতি ছিলেন বিশেষ দুর্বল। শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম টালিগঞ্জের অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন এই নায়িকা। কিন্তু তখন হয়তো ভাবেন নি সুন্দরী নায়িকা হিসেবে একছত্র চালাবেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে স্বপন সাহার পরিচালনায় ‘মায়ার বাঁধন’ ছবিতে শিল্পী হিসেবে কাজ করেছিলেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ওই ছবিতে কিন্তু হালের আরেক সেকশনে সোহম ও শিশুশিল্পী হয়ে প্রথম মুখ দেখিয়েছিল. মায়ার বাধন ছবির পর আরো কয়েকটি ছবিতে শিশুশিল্পী হিসেবে দেখা গিয়েছিল শ্রাবন্তী কে।

নায়িকা হয়ে বড় পর্দায় প্রথম মুখ দেখান নায়ক জিতের বিপরীতে ২০০৩ সালে ‘চ্যাম্পিয়ন’ ছবিতে। মাঝের বিরতিতে শ্রাবন্তী নিজেকে তৈরি করেছেন। নায়িকা হিসেবে টালিগঞ্জের পা রাখার পরেই মিষ্টি হাসি দিয়ে জয় করে নেন বহু ভক্তের হৃদয়। কিছুদিন উজ্জ্বল মুহুর্ত কাটানোর পর অবশ্য তার জীবনে অন্ধকার নেমে আসে।ব্যক্তিগত জীবনে কিছু সমস্যার কারনে টানা পাঁচ বছরের জন্য সিনেমার জগত থেকে উধাও শ্রাবন্তী। সমস্যা কাটিয়ে উঠে আবার ২০০৮ সালে ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ছবির মাধ্যমে ফিরে আসেন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে। তারপর ‘দু জনেতে’ রোমান্স করেন কলকাতার এক নম্বর নায়ক দেবের সঙ্গে। এই ছবির সাফল্যের পর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ওয়ান্টেড, অমানুষ, জোস, সেদিন দেখা হয়েছিল পরপর হিট ছবি উপহার দিয়েছেন দর্শকদের। বাণিজ্যিক ধারার এ সাফল্যে ভিন্নধারার একটি শ্রেণী খুশি হতে পারেননি। তার ফলে শ্রাবন্তী উপরের বিরূপ মন্তব্য করতে দেখা গেছে। মিষ্টি হাসির এই নায়িকা তার যুৎসই জবাব দেন অপর্ণা সেনের ‘গয়নার বাক্স’ ছবির মাধ্যমে। এই সিনেমায় শ্রাবন্তীর অভিনয় দেখে নড়েচড়ে বসলেন বাংলা সিনেমার যোদ্ধারা। বাণিজ্যিক হোক বা আর্ট ফিল্ম যাই বলা হোক না কেন সবজায়গাতেই মাঠ কাঁপিয়ে যাচ্ছেন অনবরত। তারপর হুল্লোড়, দৃশ্যান্তর, জিও পাগলা, বীরপুরুষ, শিকারি, শুধু তোমার জন্য সিনেমাগুলোতে প্রশংসনীয় দক্ষতা ফুটিয়ে তুলেছেন। তার কারণে তিনি একজন দক্ষতা সম্পন্ন অভিনেত্রী।

তবে যেমনি তিনি জনপ্রিয় তেমনি অনেকের কাছে অপ্রিয় একটি নাম। নানা সময় নানা কাজের মাধ্যমে তিনি আলোচিত হয়েছেন। লাগামছাড়া ব্যক্তিগত জীবন তার। তিন জনের সাথে বিয়ে এবং নানা সময় নানা জনের সাথে প্রেমের গুঞ্জন শোনা যায় তার সম্বন্ধে। চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারপরই তিনি চ্যাম্পিয়ন ছবির পরিচালক রাজীব বিশ্বাসের সাথে তিনি প্রেম করে বিবাহ করেন। এবং খুব তাড়াতাড়ি মা হয়ে যাবার কারণে সিনেমা জগৎ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হন। সেই সময় তিনি ২০০৩- ২০০৮ অব্দি স্বামীর সংসার নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন।

৫ বছর পর তিনি যখন খ্যাতির চূড়ায় উঠছেন।তখন রাজীব বিশ্বাসের সাথে তার ১১ বছর সম্পর্কের অবনতি হয় এবং তাদের ডিভোর্স হয়। এর কিছু বছর পর তিনি মডেল কৃষান ভিরাজ এর সাথে ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গত আগস্ট মাসে শোনা গিয়েছিল শ্রাবন্তী আবার ডিভোর্স দিতে চলেছেন তার বর্তমান স্বামীকে। একথা কতটা সত্য সেটা জানা নেই এবং সেই মুহূর্তে তিনি বিবাহিত ছিলেন সেটা সঠিকভাবে প্রকাশ হয়নি কৃষান ভিরাজ কে তালাক দেয়ার পর একমাত্র ছেলে অভিমূন্য কে নিয়ে দিন কাটছিল কলকাতার জনপ্রিয় নায়িকা শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়। চলচ্চিত্র নির্মাতা রাজীব বিশ্বাসকে তালাক দেয়ার পর সন্তান তার কাছে রেখে দেয়।

নায়িকা তবে ছেলেকে নিয়ে তিনি আর একা থাকবেন না তৃতীয়বারের মত ছেলের জন্য বানালেন আরো এক বাবা ও নিজের ৩য় স্বামী।শ্রাবন্তীর তৃতীয় স্বামী রোশন পেশায় একটি এয়ারলাইন্স কেবিন ক্রু সুপারভাইজার। তাদের সম্পর্কের সময়কাল বেশিদিনের না হলেও তারা পারিবারিক দিক দিয়ে ঘনিষ্ঠ। ২০১৯ সালের ১৯ এপ্রিল বিয়ে হয় রোশন এবং শ্রাবন্তীর মধ্যে। চন্ডিগডে গিয়ে দুজন চুপিসাড়ে পাঞ্জাবি রীতিতে বিয়ে সারেন‌ গোপনে। কিন্তু দিয়ে দেড় বছরের মাথায় শ্রাবন্তী সংসারে ভাঙনের সুর বেজে উঠেছে। শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত ভাবে তাদের ডিভোর্স হয়েছে কিনা তা প্রকাশ্যে আসেনি।

তবে রোশনের সাথে ডিভোর্স হওয়ার পর তিনি মধ্যমগ্রামে একটি জিম ওপেন করেন। তবে এখনকার মন রাজনীতিতে। সম্প্রতি ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন শ্রাবন্তী চ্যাটার্জী বেহালা থেকে বিজেপি থেকে মনোনীত হয়েছেন বিধায়ক পদে। এই সুন্দরী নায়িকা টলিউড ছেড়ে এখন রাজনীতি। সেজন্য একদিকে রাজনৈতিক চাপে ভক্তরা তার উপর বিরূপ মন্তব্য করে থাকে। তবে সব বিরূপ মন্তব্য কে পিছনে ফেলে এই নায়িকা এগিয়ে যাবার পথেই বিশ্বাসী। এই সাহসী নায়িকা মনোবল নিয়ে অনেকটাই আশাবাদী। এখন দেখার বিষয় সিনেমা জগতে যেমন তার মিষ্টি হাসি দিয়ে ভক্তকুলকে জয় করেছেন। রাজনীতিতেও কি ইনি কতটা সাফল্য পাবেন?