আসন্ন দুটি চলচ্চিত্রের কুশীলবদের নিয়ে রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ করে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল। আর সেই অনুষ্ঠানে গিয়ে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে। এতে চটে গিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করতে চাইলে অনন্ত জলিল নিজে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট দুঃখ প্রকাশ করে ‘সরি’ বলেন, এরপরে সাংবাদিকরা শান্ত হলেও কিছু সাংবাদিক অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে চলে যান।
জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের আসন্ন দু’টি চলচ্চিত্রের পরিচয় পর্বের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়- ছবি দুটি স’ম্পর্কে সাম্যক ধারণা ও অ’ভিনয় শিল্পীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। আমন্ত্রণপত্র না নিয়ে আসায় একজন গণমাধ্যম’র সঙ্গে দায়িত্বরত এক কর্মী বাজে ব্যবহার করে ও ‘দেখে নেওয়া’র বাক্য ব্যবহার করেন। এতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিলে অনন্ত জলিল নিজেই ছুটে আসেন। ভুক্তভোগী গণমাধ্যমকর্মীদের ‘সরি’ বলেন।
অনন্ত জলিল দুঃখপ্রকাশ করে বলেন, ‘আপনারা ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট-এর লোকদের ওপর রাগ করে চলে যাবেন এটা হতে পারে না। ওরা ইভেন্টের দায়িত্বে ছিল, ওরা আমাদের পার্টনার নয়, ওরা ছবির মালিকও নয় প্রোডিউসারও নয়। আমি সবচেয়ে বেশি সাংবাদিকদের সম্মান করি। এটা সবাই জানে অনন্ত ভাই কত শ্রদ্ধা করে সাংবাদিকদের। আমি কোনো অনুষ্ঠানে গেলে কখনো আগে বসি না, আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে দেখা করি। আমি এতোটাই শ্রদ্ধা করি সাংবাদিকদের। একটা ইভেন্ট কম্পানির জন্য তো আমি দায়ী হতে পারি না।’
অনন্ত জলিলের এই কথার রেশ ধরে গণমাধ্যমকর্মীরা বলে ওঠেন, ‘আপনি কেন এদের দায়িত্ব দেন যারা আপনার সম্মান নষ্ট করে?’ এই প্রশ্নের রেশ ধরে অনন্ত জলিল বলেন, ‘এই যে ভালো একটি কথা বলেছেন, আম’রা একটা কম্পানিকে হায়ার করি। এখন বলতে পারেন ভবিষ্যতে এই কম্পানি আর কাজ পাবে কি না, ইউ গাইজ আর নো’জ। আম’রা অনুষ্ঠান করতেছি এটার নামই হলো প্রেস কনফারেন্স ইনক্লুডিং ওপেনিং সেরেমোনি। এখানে ওই কম্পানি যদি খা’রাপ করে থাকে ভবিষ্যতে তারা কাজ পাবে কি না, আই ডোন্ট নো, এটা আপনারাই ভালো বলতে পারবেন।’
গণমাধ্যমকর্মীরা বলে ওঠেন- ‘এরা যে আজ আপনার ইমেজ নষ্ট করলো, অনুষ্ঠানে বিঘ্ন ঘটালো’- এমন কথার প্রেক্ষিতে অনন্ত জলিল বলে ওঠেন, ‘এতে আমা’র ইমেজ নষ্ট হবে না। আমা’র যদি ইমেজ নষ্ট হতো তাহলে অনন্ত আজকের এই পর্যায়ে উঠে আসতে পারতো না। আজকে যদি আমি খা’রাপ ব্যবহার করি, অন্তত সাংবাদিকদের সাথে খা’রাপ ব্যবহার করি তাহলে ভবিষ্যতে সিনেমাই করবো না।’
তাৎক্ষণিকভাবে অনন্ত জলিল ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কর্তৃপক্ষকে অ’ভিযু’ক্ত কর্মীকে ‘ক্লোজ’ করার নির্দেশ দেন। দুর্ব্যবহারের শিকার একজন গণমাধ্যমকর্মীকে বুকে টেনে নিয়ে বলেন, ‘গোটা বাংলাদেশে আমা’র বদনাম নাই। কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে বদনাম করার চেষ্টা করে তাহলে সেটা পারবে না। কারণ আমি মিডিয়ার সঙ্গে খা’রাপ ব্যবহার করি না।’
এই ঘটনার পর কিছু গণমাধ্যমকর্মী অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করলেও স্বাভাবিকভাবেই ‘দিন- দ্য ডে’ ও নেত্রী-দ্য লিডার চলচ্চিত্রের কুশীলবদের পরিচয় পর্ব সংবাদ সম্মেলন সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র দুটির বিদেশি শিল্পীরাও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এক অনুষ্ঠানে দিন দিন দ্য ডে চলচ্চিত্রটি ৮০ টি দেশে মুক্তি দেওয়ার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, এখনো বিশ্বব্যাপী কভিডের সংক্রমণ থামেনি। বরং ইউরোপে আগের মতোই অবস্থা। যেহেতু ই’রান আন্তর্জাতিকভাবে ছবি মুক্তি দেয়, আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশের অনেক দেশেই তাদের ছবি প্রদর্শিত হয়, তাই আমি জেনেছি এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা, আ’মেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া- এ পাঁচটি মহাদেশের প্রায় ৮০টি দেশে একসঙ্গে দিন দ্য ডে মুক্তি দেওয়া হবে। এ ছবিটি পাঁচটি ভাষায় মুক্তি পাবে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যেখানে বাংলাদেশিরা কাজ করেন, সেখানে বাংলা ভাষাতেই মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি আমি।
এদিকে, ‘নেত্রী : দ্য লিডার’র চলচ্চিত্রে অনন্ত বর্ষা ছাড়াও এ ছবিতে অ’ভিনয় করবেন ভা’রতের তিন জনপ্রিয় খল অ’ভিনেতা। আজ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকেই সিলেটে এ ছবির শুটিং শুরু হ ওয়ার কথা। এ ছবিতে নেত্রীর ভূমিকায় থাকবেন বর্ষা। অনন্ত থাকবেন তার বডিগার্ড। পরিচালনা করবেন ভা’রতের উপেন্দ্র মাধব। পাশাপাশি অনন্ত জলিল ও তুরস্কের একজন পরিচালকও পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন। এ ছবিটি তুরস্কের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হচ্ছে।
