সতীর্থ খেলোয়াড়দের কুরআন শেখান ক্রিকেটার জাহানারা

জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি ও দলের স’ঙ্গে ম্যাচ পরবর্তী টুকটাক আলোচনা শেষে নিজে’র রুমে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডার জাহানারা আলম।

নারী দিবসের শুভেচ্ছা জা’নানোর পাশাপাশি সাক্ষাৎকার নিতে যোগাযোগ করা হয় তার স’ঙ্গে । সাক্ষাৎকারের মাঝেই হাজির হন এক সতীর্থ খেলোয়াড়।

ফোনের ওপাশ থেকে শোনা গেলো, ‘আপু কখন পড়াবেন?’ কৌতূহলী মনে প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশ গেমসের ক্রিকেট ইভেন্টে খেলতে গিয়ে পড়ালেখার প্রসঙ্গ আ’সছে কেন? ‘জাহানারাকে কী পড়ানোর কথা বললেন সেই সতীর্থ?’

অনুমতি নিয়ে এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পর, শুরুতে খানিক ইতস্তত করলেন জাহানারা আলম। পরে খু’লে বলেন ‘পড়ানো’র বিষয়টি। তিনি মূলতঃ সতীর্থ খেলোয়াড়দের কুরআন তিলাওয়াত শেখান। ম্যাচের পর হোটেলে ফি’রে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করেন তারা কয়েকজন। ওই সময়টা জানতেই জাহানারার কাছে এসেছিলেন সেই সতীর্থ খেলোয়াড়।

জাহানারা জা’নালেন, দলের মধ্যে যাদের আগ্রহ আছে, তাদের সবাইকেই কুরআন তিলাওয়াত শেখান তিনি। তার কথা, ‘আমি আ’সলে আমা’র সতীর্থদের কুরআন পড়াই। সিনিয়র-জুনিয়র যাদেরই আগ্রহ আছে, যারা ইচ্ছুক…, তাদের সবাইকেই পড়াই। আমি নিজে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করি। আমি চাই তারাও কুরআন পড়ুক, নামাজ পড়ুক পাঁচ ওয়াক্ত। এজন্য আরকি, আমি এটা করি।’

ধ’র্মীয় দায়িত্ববোধ থেকেই মূলতঃ মহৎ এই কাজটি জাহানারা করছেন আরও আগে থেকেই। বিশেষ করে করো’না ভা’ইরাসের লকডাউনে যখন ঢাকার বাসায় একা একা পরিবার থেকে দূ’রে ছিলেন, তখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপের সহায়তায় একজন সতীর্থ খেলোয়াড়কে কুরআন তিলাওয়াত ক’রতে শিখিয়েছেন।

নিজে নিয়মিত ধ’র্মক’র্ম করার পাশাপাশি অন্যদের এভাবে শেখাতে পারাকে জীবনের অন্যতম অর্জন হিসেবে উল্লেখ করলেন জাহানারা, ‘করো’না লকডাউনের সময় আমি হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিওকলের মাধ্যমে একজনকে কুরআন পড়িয়েছি। এছাড়া আরেকজনকে বাসায় নিজে’র হাতে কুরআন শিখিয়েছি। লকডাউনে এটা আমা’র সবচেয়ে বড় অর্জন, যে দুই-একজনকে কুরআন শিখাতে পেরেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘একজনকে আরবি পড়িয়ে এখন কুরআন ধ’রিয়েছি। এখন শুরুর দিকে একটু দেখিয়ে দিলে ভালো। একজন মোটামুটি এখন সুন্দরভাবে পড়তে পারে, তাকে আর দেখিয়ে দিতে হয় না। আরেকজন এখন ক্যাম্পে আমা’র স’ঙ্গে ই আছে, ওকে আমি একটু দেখিয়ে দেই। চেষ্টা করি প্রতিদিন আধঘণ্টা, একঘণ্টা সময় নিয়ে দেখিয়ে দিতে।’

এছাড়া জাতীয় দলের বাইরে থাকা একজনকেও আরবি পড়ানো শুরু ক’রেছেন জাহানারা। শিগগিরই তাকে কুরআন ধ’রানোর আশা জা’নিয়ে তিনি বলেন, ‘এছাড়া ক্যাম্পের বাইরের আরেকজন ক্রিকেটারকে নতুন করে আরবি পড়ানো শুরু করেছি ভিডিওকলের মাধ্যমে। ইনশাআল্লাহ্ এক সপ্তাহ সময়ের মধ্যে তাকেও কুরআন ধ’রিয়ে ফেলতে পারব।’

জাহানারা নিজে চেষ্টা করছেন ধ’র্মীয় বিধিনি’ষেধ মেনে জীবন চালাতে। বাকিদেরও দেন একই প’রামর্শ। তবে পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে সবসময় ধ’র্মীয় পোশাকে থাকা সম্ভব হয় না এ পেস বোলিং অলরাউন্ডারের। এর বাইরে বাকিসব কাজগুলো ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক করার চেষ্টা সবসময়ই থাকে বলে জা’নালেন জাহানারা।

তার কথা, ‘আ’সলে আমা’র চিন্তাভাবনা হলো, পেশা আমা’র ক্রিকেট তবে আমি জীবনযাপন করব ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক। হ্যাঁ! খেলোয়াড়ি পোশাকটা হতে পারে একটু আ’লাদা। তবে এর বাইরে আমি মনে করি, বাকি সবকিছু ঠিক আছে। অ’ন্তত সে মোতাবেক চেষ্টা করি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া, কুরআন তিলাওয়াত করা, সত্য কথা বলা, সৎভাবে চলা… এগুলো ক’রতে।’