শেখ হাসিনা কি হেফাজতীদের কঠোর শাস্তি দিচ্ছেন!

হেফাজতের অনুসারী ও নষ্ট ভ্রষ্ট বাম আর জামায়াত-বিএনপি মিলে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে সারা দেশে যে তাণ্ডব চালিয়েছে, তা নিয়ে শাস্তির দাবি উঠেছে। হেফাজতের ব্যানারে ২৬ মার্চ তাদের ডাকা হরতালের দিন ও পরবর্তী সময়ে যে সব স্থানে নাশকতার মাধ্যমে জনগণের জানমালের ক্ষতি করা হয়েছে তার শাস্তি কী হওয়া উচিৎ, সেটা নিয়ে সমাজের বিরাট একটা শ্রেণি খুব অস্থির সময় পার করছে।

আমরা শাস্তি কে দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। ১। শারীরিক শাস্তি ২। মানসিক শাস্তি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কোন শাস্তিটা সবচেয়ে কঠিন ও বেশি কার্যকরী? শাস্তি যদি সেটা ফাঁসি না হয়, তাহলে বেত্রাঘাত, লাঠির আঘাত দিলে কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যথা বেদনা সেরে যায় বা আঘাতের চিহ্ন মিলিয়ে যায়। অথবা শাস্তিতে দেয় আঘাত থেকে পাওয়া ব্যথা বা ক্ষত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু জেল কিংবা জেলে দেওয়া হবে বা হতে পারে এমন মানসিক শাস্তি মানুষের মন থেকে শুরু করে শরীরের সর্বাঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের কাছ মানসিক শাস্তি বড় শাস্তি হিসাবে অনেকে গণ্য করে থাকেন। আমরা হেফাজতের তাণ্ডব ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রাম, ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। তারা যে অপরাধ করেছে, সাধারণ মানুষের চোখে সেই অপরাধের শাস্তি হিসাবে জেল-জরিমানা এমনকি তার চেয়েও বড় শাস্তি সম্ভাবনা আছে, বাংলাদেশের আইনে। কিন্তু সেই ব্যবস্থা নিতে সরকার কেন এত দেরি করছেন সেটাই সাধারণ মানুষের কাছে বড় প্রশ্ন। অনেকে বলছেন সরকারের সঙ্গে হেফাজতের এক অংশের আপোষ করেছে, তাই তেমন করে হেফাজতের জঙ্গিদের (!) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না অথবা কালক্ষেপণ করছেন।

অন্যদিকে হেফাজত, নষ্ট ভ্রষ্ট বাম জামাত-বিএনপি পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে ধর্মঘটের সময় মানে হেফাজতের ডাকা হরতালের সময় পুলিশের গুলিতে সারাদেশে কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এরা সবাই হরতালের পক্ষের আন্দোলনকারী। আহত হয়েছেন অনেক বেশি, যাদের মধ্যে আন্দোলনকারী ছাড়াও আছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্য। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কেন, কোন পরিস্থিতিতে গুলি করে মানুষ হত্যা করলেন সেটাও খতিয়ে দেখা দরকার। তাদেরকে কি গুলি ছুড়তে বাধ্য করা হয়েছে? তাহলে যারা গুলি ছুড়তে বাধ্য করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। আর যদি সঙ্গত কারণ ছাড়াই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা গুলি ছুঁড়ে মানুষ হত্যা করে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে এর জন্য দরকার সুষ্ঠু তদন্ত প্রমাণ ও সাক্ষ্য।

জনগণের জানমাল ক্ষতি করার জন্য দায়ী নাশকতাকারীদের কয়েকজনকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার করা গেছে। বাকী আরও অনেকে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়ায় আছে। হরতালের নামে নাশকতা করার জন্য কোথা থেকে অর্থের যোগান দেওয়া হয়েছে, সেটা খতিয়ে দেখার জন্য হেফাজতের ৫৪ জন নেতার ব্যাংকের হিসাব তলব করা হয়েছে। এদিকে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে জেনার অভিযোগ উত্থাপন করেছেন তার কথিত দ্বিতীয় স্ত্রীর বড় ছেলে। অনেক আলেম মামুনুল হকের এই আচরণকে জেনা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আমাদের দেশের খুবই জনপ্রিয় (!) আলেম আজহারীও কোরআন হাদিসর আলোকে বলেছেন বিয়ে কোন গোপন জিনিস নয়, গোপন বিয়ে মাধ্যমে শারীরিক মেলামেশা ইসলামে জেনা হিসাবে গণ্য করা হয়। এর অভিযোগের ফলে সোশ্যাল মিডিয়াতে চলছে সমালোচনার ঝড়। মামুনুল হকের একাধিক নারী বান্ধবীর টেলিফোন কথোপকথন সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হয়েছে। তার পক্ষে অনেকে কথা বললেও মামুনুল হক যে মিথ্যাচার করেছেন তা ইতোমধ্যেই প্রমাণ হয়ে গেছে। তাই তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনের কথা বলেও সেখানে উপস্থিত হননি। যারা তার পক্ষে এসেছিলেন তারাও সঠিক জবাব না দিতে পেরে বলতে গেলে রণে ভঙ্গ দিয়ে চলে গেছেন। মামুনুল হক এখন ফেসবুক লাইভে কথা বলছেন খুব নরম সুরে। তাঁকে ফেসবুক লাইভে খুব বিমর্ষ, বিবর্ণ চেহারায় দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে উনি চরম মানসিক অশান্তির মধ্যে আছেন। কারণ হেফাজতের কেন্দ্রীয় নেতাদের টেলিফোন সংলাপেও মামুনুল হকের আচরণকে দায়ী করা হয়েছে।

মামুনুল হকের পক্ষের ঘনিষ্ঠ কিছু মাওলানাকে গতকাল তড়িঘড়ি করে তার দ্বিতীয় বিয়ের বৈধতা দিতে দেখা গেছে। কারণ তাঁদের বিয়ে ছিল মৌখিক, মানে মামুনুল হকের ভাষ্য মতে তাদের বিয়ের সাক্ষী আছে কিন্তু কাবিননামা নাই। কিন্তু কোথায়, কবে বিয়ে হয়েছে এ নিয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মামুনুল হক কেউ মুখ খুলছেন না। অন্যদিকে মামুনুল হক এর প্রথম স্ত্রীকে সাংবাদিকের সাথে বা অন্য কারো সঙ্গে কথা বলতে মামুনুল হকের একই সুরে কথা বলার জন্য মামুনুল হকের বোন চাপ দিচ্ছে এমন টেলিফোন সংলাপ ফাঁস হয়েছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে হেফাজতের নীতি নির্ধারকরা অনেকেই মারাত্মক মানসিক অশান্তি বা মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন।

গতকাল মামুনুল হক সহ আরও কিছু নেতার বিরুদ্ধে নাশকতা ও অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে সব মিলিয়ে হেফাজতের নেতাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে মানসিক অশান্তি তারা এখন ভোগ করছেন আমরা তার পরিমাপ করতে পারছি না। কিন্তু তাদের আচরণ এবং চেহারা দেখে এটা যে কেউ অনুমান করতে পারবেন যে, হেফাজতের নেতারা ভালো নেই, শান্তিতে নেই। খুবই অশান্তি এবং আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন, তাদের অনেকেই যে পালিয়ে আছে সেটাও ফাঁস হওয়া তাদের টেলিফোন সংলাপের মাধ্যমে জানা গেছে।

সরকারের আচরণ বা কৌশল আর হেফাজত নেতাদের বর্তমান অবস্থা দেখে আমার একটা সত্য ঘটনা মনে পড়েছে। আমি শুধু নামটাও স্থানটা উহ্য রাখছি। সম্ভবত: ১৮৯২ সালের ঘটনা। কোন এক গ্রামের এক সুন্দরী বিধবা মসজিদের দেওয়াল ছুঁয়ে, চাঁদ তারাকে সাক্ষী রেখে বিয়ে করে এবং শারীরিক মেলামেশা শুরু করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি গর্ভবতী হয়ে যায়। এটা জানাজানি হলে ১৮ গ্রামের মাতব্বররা মিলে সালিশে বসেন বিচার করতে। সালিশের প্রধান মাতব্বর সব শুনে দেখেন যে, মেয়েটা তিন চার মাসের গর্ভবতী। সালিশ থেকে জোর দাবি ওঠে ব্যভিচারী মেয়েটিকে কঠোর শাস্তির দেবার। পেটের বাচ্চার কথা চিন্তা করে মাতব্বর রায় দিলেন, এই জেনাকারী মেয়েটি তার গর্ভের সন্তান প্রসবের আগে পর্যন্ত প্রতিদিন সকালে সূর্য উঠার ঘণ্টা দুই পরে আর বাদ আছর তার বাড়ি থেকে ঘোমটা ছাড়া বের হয়ে সারা গ্রাম ঘুরে বাসায় ফিরবে। বাচ্চা হওয়ার ৪০ বা ৪৫ দিন পরে বিচার হবে। রায়ের পর মানুষ বলা শুরু করলেন, এটা কোন বিচার হলো!

যাই হোক, সালিশের তিন মাস পরের ঘটনা। মাতব্বর সাহেব বাড়ির দহলিজের সিঁড়িতে বসে হুক্কা টানছিলেন। অন্ধকারের মধ্যে তিনি অনুভব করলেন কেউ তার পা ধরে খুব মৃদু স্বরে কি যেন বলছে। মাতব্বর জিজ্ঞেস করলেন, কে তুমি কি বলতে চাও? জোরে বলো আমি শুনতে পাচ্ছি না। এ সময় একজন নারী কণ্ঠে বললেন, হুজুর আপনি ৩ মাস আগে অমুক গ্রামে আমার বিচার করেছেন। আমি আপনার দেওয়ার শাস্তি আর সহ্য করতে পারছি না। আপনি পাথর ছুড়ে আমাকে মেরে ফেলুন, তাও ভাল কিন্তু এই শাস্তি আমি আর সইতে পারছি না। মাতব্বর বললেন, এটা হয় না, তুমি যাও তোমার বাচ্চা প্রসবের ৪০/৪৫ দিন পরে তোমার বিচার হবে, তখন দেখবো। যাইহোক, কুপি বাতি এনে মেয়েটাকে যখন মাতব্বর দেখলেন তখন তাকে চেনা যাচ্ছিল না। তার চেহারা এতই বীভৎস হয়ে গেছে যে তা ভাষায় বর্ণনা কঠিন। মাতব্বর সন্দেহ করে বললেন, কে তুমি? তখন মেয়েটি বলল, সকাল আর বিকেলে যে পরিমাণ গ্রামের মানুষের