শৈশবে যে’কজন মানুষের খেলা দেখে আনন্দ পেতাম, তাদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন লালা ভাই খ্যাত রাজ্জাক। যতটা না তার খেলা দেখে আনন্দ পেতাম, তারচেয়ে বেশি আনন্দ পেতাম তার বোলিং এ্যাকশন দেখে। আম্পায়ারের সামনে দিয়ে গিয়ে অদ্ভুত রকমের ভঙ্গিমায় বোলিং করতেন।
২০০১- ২০০২ মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক। ঘরোযা ক্রিকেটে ভালো পারফরমেন্স করায় বাংলাদেশ এ দলে ডাক পান। জিম্বাবুয়ে এ দলের বিপক্ষে ১৭ রানের বিনিময়ে ৭ উইকেট নিয়ে নিজের অস্তিত্বের জানান দেন।
২০০৪ সালে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে হংকংয়ের বিপক্ষে ১৬ জুলাই বাংলাদেশের ৭২ তম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেক হয়। ১৬ এপ্রিল ২০০৬ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক হয় সাদা পোশাকে। অভিষেকের পর থেকে দেশের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে মাঠে নেমেছেন মোট ১৫৩ ম্যাচে। ২৯.৩ গড়ে উইকেট শিকার করেছেন ২০৭ টি। বেস্ট বোলিং ফিগার ২৯/৫। এছাড়াও
প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে ওয়ানডেতে ২০০ উইকেটের রেকর্ড গড়েন। ওয়ানডের তুলনায় টেস্ট ক্যারিয়ার ছিল খুবই ছোট। সাদা পোশাকে মাঠে নেমেছেন মাত্র ১৩ ম্যাচে। ৫৯.৮ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ২৮টি। বেস্ট বোলিং ৯৩/৩। টোয়েন্টিতে ৩৪ ম্যাচে ১৯.০ গড়ে ৪৪ উইকেট লাভ করেন। ইকোনমি ৬.৮৮। বেস্ট বোলিং ১৬/৪।
নিষেধাজ্ঞা : অক্টোবর ২০০৮ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে রাজ্জাকের বোলিং এ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন ড্যারিল হার্পার, এবং অশোকা ডি সিলভা। এবং তিনি সাময়িক সময়ের জন্য নিষিদ্ধ হন। ২০০৯ সালে জুলাই মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রথম ওডিআই ম্যাচে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন করেন।
প্রত্যাবর্তন ম্যাচেই নিজের বোলিং নৈপুণ্য দিয়ে দলকে জয় উপহার দেন। ৩৯ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট লাভ করে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হন। এর কিছুদিন পর অক্টোবর – নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল ৫ ম্যাচের ওডিআই সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে আসে। সেই সিরিজে বাংলাদেশ ৪- ১ সিরিজ জয় করে। পুরো সিরিজে ১৫ উইকেট শিকার করে ম্যান অব দ্যা সিরিজ নির্বাচিত হন রাজ্জাক।
১৯৮২ সালের এই দিনে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দলে নেই দীর্ঘদিন থেকেই। কিন্তু এখনও দাপটের সাথে খেলে বেড়াচ্ছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। এইতো ২০১৮ সালে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে ৫০০ উইকেটের রেকর্ড করেন। হয়তো জাতীয় দলে আর দেখা যাবে না তাকে। তবে বিসিবির প্রতি একটাই চাওয়া থাকবে, শেষবারের মতো তাকে যেন একটি ম্যাচে সুযোগ দেয়া। যেন সেই ম্যাচ খেলে অবসর নিতে পারেন। পরিশেষে ৩৭ তম জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও ভালবাসা রইল।
