লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। উত্তেজনা নিরসনে ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আগামীকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছে। এদিকে, ২০ জন ভারতীয় সেনার মৃত্যুর ৪০ ঘণ্টা পর মুখ খুললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, ‘ভারত শান্তি চায়।’
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় শান্তি ফেরানোর জন্য সেনা ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত ও চীন। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংঘর্ষে চীন জড়াতে চায় না বলেও জানিয়েছে বেইজিং। সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নরবণের বলে জানায় আনন্দবাজার পত্রিকা। তিনি বলেন, “লাদাখে ২০ জন জওয়ানের বলিদান ব্যর্থ হবে না।” আর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর চীনা কাউন্টার পার্ট ওয়াং ই-কে ফোন করে অভিযোগ করেন, লাদাখে পরিকল্পনামাফিক হামলা করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধীদের চাপের মুখে মোদি সরকার সুর চড়ালেও বাস্তবে কি তাদের সামনে প্রতিশোধ নেওয়ার কোনো পথ খোলা আছে?
সোমবার রাতের সংঘর্ষে আহত ভারতীয় সেনার সংখ্যা প্রায় দেড়শো। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কয়েক জন এখনো নিখোঁজ বলে শোনা গেলেও বাহিনীর পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। সূত্রের মতে, নিহত ২০ জন সেনার অধিকাংশের মাথায় চোট ছিল। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শরীর ছিল ক্ষতবিক্ষত। তীব্র ঠান্ডায় আহত অবস্থায় দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকার ফলে অনেকেই হাইপোথার্মিয়ায় মারা যান। এ দিকে সংবাদ সংস্থা এএনআই সংঘর্ষে ৪৩ জন চীনা সেনা হতাহত হয়েছেন বলে জানালেও এ নিয়ে আওয়াজ নেই বেজিংয়ের। তাদের অবস্থান বদলের কোনো ইঙ্গিতও নেই। চীনা সৈন্য এখন পূর্ব লাদাখ সীমান্তে ‘ভারতীয় ভূখণ্ডের কয়েক কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে বসে আছে’। আনন্দবাজার জানায়, চীনা সেনা যে এলাকা পর্যন্ত ‘অনুপ্রবেশ’ করেছিল, সেখানেই রয়ে গেছে। সীমান্ত বরাবর সৈন্য সমাবেশ বাড়িয়েছে দু’পক্ষ। উপগ্রহ চিত্রে তা ধরা পড়েছে। ভারতীয় পক্ষ শ্রীনগর থেকে বাড়তি সেনা পাঠানো হয়েছে লাদাখে। নজরদারিতে ব্যবহার করা হয়েছে বিমান। সেনা সমাবেশ বাড়াতে শুরু করেছে চীন। সারি সারি সামরিক ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকার ছবি উপগ্রহ চিত্রে। প্রস্তুত বাঙ্কার। বসানো হয়েছে কামানও। চীনের দিকে একাধিক সেনা কপ্টার উড়তে দেখা গেছে।
