‘অনন্ত ভালোবাসা’ সিনেমা দেখে কী’ কখনো মনে হয়েছিল বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে একদিন রাজত্ব করবে সেই হ্যাংলা-পাতলা ছে’লেটি! এখন বাংলাদেশের সিনেমা মানেই শাকিব খান। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এক চেটিয়া রাজত্ব করে যাচ্ছেন তিনি।
বর্তমানে সাফল্য ও দর্শকপ্রিয়তার বিচারে শাকিব খানের ধারে-কাছেও কোনো নায়ককে পাওয়া দুস্কর। তবে একজন সাধারণ মাসুদ রানা থেকে সুপারস্টার শাকিব খান হয়ে ওঠার পথটা সহ’জ ছিল না। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ শাকিব রাজত্ব করছেন এই চলচ্চিত্র অ’ঙ্গনে।শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। পরিচালক আফতাব খান টুলুর হাত ধ’রে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালেও শাকিব খান অ’ভিনীত মু’ক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত ‘অনন্ত ভালবাসা’।
ছবিটি সেসময় খুব একটা সফল না হলেওনায়ক হিসেবে শাকিব সবার দৃষ্টি আক’র্ষণ করেন। অ’ভিনয় জীবনের দ্বিতীয় বছরেই সে সময়ের শী’র্ষ অ’ভিনেত্রী শাবনূরের বিপরীতে ‘গো’লাম’ সিনেমায় অ’ভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। এরপর আর পেছনে ফি’রে তাকাতে হয়নি তাকে। একে একে দুজন দুজনার, বিষে ভরা নাগিন, শি’কারী, স্বপ্নের বাসর, মায়ের জেহাদ, রাঙ্গা মাস্তান, হিং’সার পতন, ব’ন্ধু যখন শত্রু’র মতোন জনপ্রিয় সিনেমা। তবে এর মাঝে দেখেছেন ব্য’র্থতার রুপ ও। তবু থেমে থাকেনি তার পথ চলা। চিত্রনায়ক মান্নার মৃ’ত্যুর পর চলচ্চিত্র যখন থমকে যাওয়ার উপক্রম, সেখানেই হুট করে জ্বলে উঠেন শাকিব। জ্বলছেন আজও। আজ ঢাকা তো কাল ভা’রত, মালয়েশিয়া, স্কটল্যান্ড, লন্ডন হয়ে অস্ট্রেলিয়া।
অ’প্র’তিরো’ধ্য অগ্রযাত্রায় অ’প্রতিদ্বন্দ্বী পথচলা অ’ভিযাত্রী শাকিব খানের। তবে ২০১৬ সালে যৌথ প্রযোজনার সিনেমা শি’কারি দিয়ে পর্দায় এক নতুন শাকিব খানের দেখা মেলে। চারদিকে সাড়া ফে’লে তার সেই নতুন রূপ। বাংলাদেশের পাশাপাশি শাকিব ভা’রতের পশ্চিমবঙ্গেও হয়ে উঠেন আ’লোচিত। বলা যায় তারকা শাকিবের নবজ’ন্ম ছিল সেই বছর। এরপর নবাব, সত্ত্বা এবং বীর সিনেমা দিয়েও হইচই ফে’লে দেন শাকিব। ২২ বছরের ক’র্মজীবনে শাকিবের ঝুলিতে এসেছে একাধিক পুরস্কার। যার মধ্যে রয়েছে চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আটটি মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কার,তিনটি বাচসা’স পুরস্কার ও চারটি সিজেএফবি পারফরম্যান্স পুরস্কার।
ভালোবাসলেই ঘর বাঁ’ধা যায় না, খোদার পরে মা, আরও ভালোবাসবো তোমায় এবং সত্তা সিনেমা’র জন্য চারবার শ্রেষ্ঠ অ’ভিনেতা বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। সুভা, আমা’র প্রা’ণের স্বামী, প্রিয়া আমা’র প্রিয়া, ও বলবো কথা বাসর ঘরে, আদরের জামাই, ডন নাম্বার ওয়ান, পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রে’ম কা’হিনী, রাজনীতি, চালবাজ, ভাইজান এলো রে, নাকাব ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য সিনেমা। তবে শুধু সিনেমাতে অ’ভিনয়ই নয় চলচ্চিত্র প্রযোজনা, মঞ্চ পরিবেশনা, বিজ্ঞাপনেও রয়েছে তার বিচরণ। এছাড়াও ২০১১ সালে মনের জ্বা’লা চলচ্চিত্রে প্রথমবারে মতো তিনি নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে গানে কণ্ঠ দেন।
এই সুপারস্টারের জ’ন্ম ১৯৭৯ সালের ২৮ মা’র্চ গোপালগঞ্জে’র মুকসুদপুর উপজে’লার রাঘদীতে। বাবা-মায়ের দেয়া নাম ছিল মাসুদ রানা। বাবা সরকারি ক’র্মচারী হওয়ায় চাকরির সুবাদে তার শৈশব কৈশোর থেকে বেড়ে ওঠা নারায়ণগঞ্জ জে’লায়। আজকের সুপারস্টারের শৈশবের স্বপ্নের গল্পটাও ছিল আপনার আমা’র মতোই খুব সাধারণ। আট-দশ জনের মতোই ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও শেষমেষ হয়ে গে’লেন অ’ভিনেতা। ব্য’ক্তিগত জীবনে শাকিব খান এক পুত্রের জনক। তবে ভে’ঙে গেছে তার দাম্পত্য জীবন।
২০১৯ সালের বছরের মা’র্চ মাসে স্ত্রী’ চিত্রনায়িকা অ’পু বিশ্বা’সকে ডিভোর্স দিয়েছেন তিনি।সাফল্য শাকিবকে এত উচ্চতায় নিয়ে গেছে যে, ভক্তরা নামে নয়, ‘সুপারস্টার’, ‘কিং খান’, ‘ঢালিউড কিং’ এইসব বিশেষণে ডাকতেই বেশি আনন্দ পান। তবে সেই সাধারণ মাসুদ রানা থেকে আজকের এই সুপারস্টার শাকিব হতে পাড়ি দিতে হয়েছে অনেক চড়াই-উতরাই। ভালোবাসা, ক’ঠোর পরিশ্রম, আর স্বপ্নকে বাস্তব হতে দেখার জন্য ব্য’র্থতার পরও কাজ করে যাওয়া এই মন্ত্রেই তিনি হয়ে উঠেছেন আজকের সুপারস্টার।
