র‌্যাবের কার্যালয়ে অভিনেত্রী নওশাবা

রাজধানীর উত্তরা থেকে গতকাল রাত দশটায় অভিনেত্রী নওশাবাকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শিক্ষার্থীদের চলমান নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন নিয়ে মৃত্যু ও ধর্ষণের গুজব ছাড়ানোর অভিযোগে অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

র‌্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে নেয়া হয়েছে।

এর আগে গতকাল দুপুরের দিকে তিনি কান্নাকাটি করে উত্তেজিত হয়ে ফেসবুক লাইভে আসেন। সেখানে নওশাবা বলেন, “আমি কাজী নওশাবা আহমেদ, আপনাদের জানাতে চাই। একটু আগে ঝিগাতলায় আমাদেরই ছোট ভাইদের একজনের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে।

আপনারা সবাই একসাথে হোন প্লিজ। ওদেরকে প্রোটেকশন দেন, বাচ্চাগুলো আনসেভ অবস্থায় আছে, প্লিজ। আপনারা রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন, প্লিজ রাস্তায় নামেন এবং ওদেরকে প্রোটেকশন দেন।”

সেখানো আরো বলেন, “সরকার প্রোটেকশন দিতে না পারলে আপনারা মা-বাবা, ভাই-বোন হয়ে বাচ্চাগুলোকে প্রোটেকশন দেন, এটা আমার রিক্যুয়েস্ট। এদেশের মানুষ-নাগরিক হিসেবে আপনাদের কাছে রিক্যুয়েস্ট করছি যে, ঝিগাতলায় একটি স্কুলে একটি ছাত্রের চোখ তুলে ফেলা হয়েছে এবং দুইজনকে মেরে ফেলা হয়েছে এবং ওদের অ্যাটাক করা হয়েছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা সেটা করেছে। প্লিজ ওদের বাঁচান প্লিজ। তারা ঝিগাতলায় আছে।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ শনিবার দুপুর ১টায় শিক্ষার্থীকে মেরে ফেলার ‘গুজব’ শুনে সাইন্সল্যাব এলাকা থেকে কিছু শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ের দিকে ছুটে যায়। এসময় কার্যালয় লক্ষ্য করে ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে শিক্ষার্থীরা।

তখন কার্যালয় থেকে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বের হয়ে তাদের আটকানোর চেষ্টা করে। এতে আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। দেড় ঘণ্টা ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলতে থাকে। পরে বেলা আড়াইটার দিকে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এসময় কয়েক রাউন্ড টিয়ার শেল ছোড়া হয়।