রাজনীতির মাঠ দাপাচ্ছেন- এক সময় পাকিস্তান ক্রিকেট দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন ইমরান খান। ১৯৯২ সালে পাকিস্তানকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপের একমাত্র শিরোপা। তার ২৬ বছর বাদে ইমরান খান আবার পাকিস্তানের নেতৃত্বে।
ইমরান খান: এবার আর কাঁধে ১১ জনকে সামলানোর ভার নয়। কাঁধে নিলেন দেশটির ২০ কোটি মানুষের ভার। পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি। ইমরান খানের মতো আরও অনেক তারকা খেলোয়াড় থেকে রাজনীতির মাঠ দাপাচ্ছেন। তেমন কিছু তারকা খেলোয়াড় এবং রাজনীতিবিদের কথা উল্লেখ করা হলো:
রোমারিও: ব্রাজিলের অনেক তরুণ এখনো রোমারিওর মতো হতে চায়। এমন আশা কেউ ব্যক্ত করলে পরিষ্কার করে শুনে নেওয়া ভালো। তিনি রোমারিওর মতো ফুটবলার হতে চান নাকি রাজনীতিবিদ। নাকি ফুটবলার, রাজনীতিবিদ দুটোই হতে চান তিনি। ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ এনে দেওয়া ফুটবলার রোমারিও দেশটির গভর্নর হওয়ার দৌড়ে আছেন। এর আগে দু’বার রিও ডি জেনিরোর সিনেটর হয়েছেন তিনি।
বেবেতো: ব্রাজিলের হয়ে ১৯৯৪ বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছেন বেবেতো। সেবার দলের হয়ে তিন গোল করেন তিনি। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আবার ব্রাজিল ফাইনালে ওঠে। ফ্রান্সের কাছে হারলেও ১৯৯৮ বিশ্বকাপে নিজের নামের পাশে তিন গোল লেখেন তিনি। বর্তমানে বেবেতো রিও’র নিম্ন সভাকক্ষের সদস্য। নামতে চান দেশটির সিনেটর হওয়ার লড়াইয়ে।
অর্জুনা রানাতুঙ্গা: ১৯৯৬ সালে শ্রীলংকার হয়ে বিশ্বকাপ জেতেন রানাতুঙ্গা। ছিলেন দলটির অধিনায়কও। এরপর রাজনীতিতে নামেন রানাতুঙ্গা। বর্তমানে তিনি দেশটির জাহাজ ও পানি পরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
সনাথ জয়সুরিয়া: শ্রীলংকার হয়ে মাঠ কাঁপানো ব্যাটসম্যান সনাথ জয়সুরিয়া রাজনীতির মাঠও কাপিয়েছেন। ২০১০ সালে ক্রিকেটার থাকা অবস্থায় দেশটির সাধারণ নির্বাচনে অংশ নেন তিনি। মাতারা থেকে শ্রীলংকার সংসাদ নির্বাচিতও হন জয়সুরিয়া। দেশটির মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। মাতারার আসন থেকে তিনি রেকর্ড ভোটে নির্বাচিত হন। তবে ২০১৫ সালের নির্বাচনে আর অংশ নেননি তিনি।
গ্যারি কাসপারভ: পুতিনের বিপক্ষে রাজনীতির মাঠে লড়তে গেলে মাথায় অঢেল বুদ্ধি থাকা চাই। গ্যারি কাসপারভ হয়তো তা পারবেন। কারণ তিনি বিশ্ব দাবা চ্যাম্পিয়ন। তাকে বিশ্বের সেরা দাবাড়ূও বলা হয়। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের বিপক্ষে রাজনীতিতে নেমেছেন কাসপারভ। ২০০৫ সালে দাবা ছাড়ার পর কাসপারভ ওই বছরই দল গঠন করেন। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জনমত গঠনের।
নাইমুর রহমান দুর্জয়: বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাইমুর রহমান দুর্জয়। দেশের হয়ে ৮টি টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছেন ২৯টি। এরপর রাজনীতিতে নামা দুর্জয়ের। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-১ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি।
এছাড়া বাংলাদেশের ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয় সফল সাংসদ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জয় যুব ও ক্রীড়া উপমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। ক্রিকেটার মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন রাজনীতিতে নেমেছেন। ভারতের নভোজিৎ সিং সিধু, অলিম্পিকে রূপা জয়ী রাজ্যবর্ধন রাঠোর, অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ব্রিটিশ তারকা সেবাস্তিয়ান কো, আমেরিকার বাস্কেটবল তারকা বিল ব্র্যাডলিরা খেলার পাশাপাশি রাজনীতির মাঠ গরম করছেন।
