রাজনীতিতে সামনে আরও খেলা আছে

পর্দার আড়ালে রাজনীতিতে নানা গুঞ্জন, হিসাব-নিকাশ চলছে। বিএনপির দ’ন্ডিত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া অসু’স্থ শ’রীর নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন- এমনটা নি’শ্চিত জে’নে সংসদে বিরো’ধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টি নতুন করে নিজেদের পথ নির্ধারণ করছে। অর্থাৎ বিএনপির সরকারবিরো’ধী রাজনৈতিক ময়দানের জায়গাটি নিজে’রা দখলে নিতে চাইছে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের পরি’ষ্কার বলেছেন, তারা আর মহাজোটে নেই।

পার্টির কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদসহ নেতারা এখন এক হয়ে গেছেন। জাতীয় পার্টির মহাসচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু সরকারবিরো’ধী স’মালোচনায় বক্তৃতা-বিবৃতিতে মুখর। নেতারা তৃণমূল নেতা ও সমন্বয়কারীদের নিয়ে দ’ফায় দ’ফায় বৈঠক করে তাদের অব’স্থান খো’লাসা ক’রেছেন। এমপিদের স’ঙ্গে ও নেতাদের বৈঠক হয়েছে কয়েক দ’ফা। বলা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গব’ন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সুমহান মু’ক্তিযু’দ্ধের মীমাংসিত ইতিহাস এবং অব’স্থান বাদে সরকারের যে কোনো ক’র্মকান্ডের স’মালোচনা তারা ক’রতে পারবেন।

জাতীয় পার্টি মনে করে, বিগত দুটি জাতীয় নির্বাচনে শেষ মুহূ’র্তে পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বিভ্রান্ত না হলে, ভুল না করলে সংসদে এখন তাদের আসন সংখ্যা আরও বেশি থাকত। তাই আগামী জাতীয় নির্বাচনে তারা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে চান। শ’ক্তিশালী অব’স্থান নিতে চান।

জাতীয় পার্টির নেতারা মনে করেন, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দেশের বাইরে চলে গেলে লন্ডনে নির্বাসিত দ’ন্ডিত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সেখান থেকে যতই দল চালাতে যান না কেন, এখানে নেতা-ক’র্মী রা আরও মা’নসিকভাবে দু’র্বল হবেন। বিগত নির্বাচনে যেমন তারা ক্যারিশমা দেখাতে পারেননি তেমনি আগামীতে ফল আরও বিপর্যয়কর হবে। বিএনপি টানা ১৩ বছর ক্ষ’মতার বাইরে থাকায় এবং মা’মলার আঘা’তে ক্ষ’তবিক্ষ’ত হওয়ায় নেতা-ক’র্মী রা সংগঠন গোছাতে পারেননি। মাঠের বিএনপি যেমন দু’র্বল তেমনি দলের নীতিনির্ধারকরাও অস’হায়। এ অব’স্থায় জাতীয় পার্টির সামনে সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে। জাতীয় পার্টির এ অভিলাষযাত্রার নেপথ্যে কোনো শ’ক্তি বা সরকারের সমর্থন আছে কিনা তা জা’না যায়নি। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর আওয়ামী লীগ এককভাবেই সরকার গঠন করেছে। এখানে জাতীয় পার্টিকে বিরো’ধী দলের আসন দেওয়া হলেও ১৪ দলের শরিকদেরও সরকারে ঠাঁই দেওয়া হয়নি। এ ক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে ১৪ দলের প্রার্থীরা নৌকা নিয়ে জোটগত নির্বাচন করবেন, নাকি আ’লাদাভাবে আওয়ামী লীগের সমর্থনে সংসদে আসবেন এটা এখনো পরি’ষ্কার নয়।

তবে ১৪ দলীয়ভাবেই আসার সম্ভাবনা বেশি। পর্যবেক্ষকরা বলে আ’সছেন বিগত জাতীয় নির্বাচনে একদিকে শেখ হাসিনার দেশজুড়ে উন্নয়নের মহা-ক’র্মযজ্ঞ, অন্যদিকে সাংগঠনিক তৎপরতায় সরগরম আওয়ামী লীগের বিপরীতে বিএনপি ভোটের ময়দানে ছিল একদম দু’র্বল, অগোছাল ও গণবি’চ্ছিন্ন। নেতা-ক’র্মী রা অনেকেই ছিলেন মা’মলাজালে আ’টকা। এমনি অব’স্থায় ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একদিকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আরেকদিকে নির্বাচন কমি’শনের নিব’ন্ধন বা’তিল যু’দ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামীকে স’ঙ্গে রেখে নির্বাচনের যে লড়াই তা ভোটারদের মাঝে প্র’ভাব ফেলা দূ’রে থাক রাজনীতিতে সার্কাস তৈরি করেছিল। প্রশা’সন অতি উৎসাহী ভূমিকা না নিয়ে নির্বাচন কমি’শন যদি গ্রহণযোগ্য বিত’র্কমু’ক্ত নির্বাচনও দিত তাহলে বিএনপি ৪০টির বেশি আসন পেত না। এতে বিরো’ধী দল নিয়ে সংসদ প্রা’ণবন্ত থাকত। তবে সেখানে অন্য কোনো হিসাব কাজ করেছে কিনা তা গ’ভীরভাবে এখন অনেকেই চিন্তা করছেন। দিনে দিনে বিএনপিকে যেখানে নেওয়া হচ্ছে, যে শ’ক্তিক্ষয় ঘটানো হয়েছে তাতে অনেকের ধারণা, বিএনপির রাজনীতি প্রায় নিঃশেষ করে দেওয়ার প’রিস্থিতিই তৈরি হচ্ছে।

বিএনপির অভ্যন্তরেও নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ, হ’তাশা চরমে। নিজেদের মতো করে সিদ্ধা’ন্ত গ্রহণ, দলকে ঢেলে সাজানো এবং ক’র্মপ’রিকল্পনা তৈরিতে তাদের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে। লন্ডন সদর দফতর থেকে যে বিত’র্কিত বক্তব্য আসে তা নিয়ে ক’ঠিন দুঃসময়েও এখানে বিএনপি নেতৃত্বকে হোঁচট খেতে হয়। তাই বলে আওয়ামী লীগ বিরো’ধী শ’ক্তি বা প্ল্যাটফরম বলে দীর্ঘদিন রাজনীতির ময়দানে দাপুটে অব’স্থান বহাল রাখা বিএনপিকে কি আদৌ দিনে দিনে নিঃশেষ করা সম্ভব? এমন প্রশ্ন নিয়ে পর্যবেক্ষক মহলে রয়েছে বিত’র্ক। অনেকে মনে করেন, আওয়ামী লীগবিরো’ধী শ’ক্তি হিসেবে জাতীয় পার্টির জায়গা দখল বা উঠে আসার চেয়ে ভঙ্গুর বিএনপির অব’স্থান বহাল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দলটির জনপ্রিয়তা আছে।

এ ক্ষেত্রে অনেকে মনে করেন, বিএনপির জনপ্রিয়তার উৎস গণতান্ত্রিক আন্দোলনে উঠে আসা নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি যেখানে অসু’স্থ শ’রীর নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন আর তার উত্তরসূরি তারেক রহমান দ’ন্ডিত এবং বহুল বিত’র্কে বিত’র্কিত হয়ে লন্ডনে নির্বাসিত সেখানে বিএনপিকে নতুন করে ঘুরে দাঁড় করানোর নেতৃত্ব কই। সরকারও যে মা’মলা-মোকদ্দমা থেকে নেতা-ক’র্মী দের সহজে ছাড় দেবে বা আন্দোলন নিয়ে মাঠে গড়াতে সুযোগদান করবে সে আলামত দেখা যাচ্ছে না। সংসদে বিএনপি সদস্যদের কথা বলতে যেখানে কোনো বা’ধাই দেওয়া হচ্ছে না, চাইলেই সময় দেওয়া হচ্ছে তেমনি মাঠে নামতে গেলেই পু’লিশের অ্যাকশন। এর মধ্যে দলে দলাদলি, কমিটি বাণিজ্য, মনোনয়ন বাণিজ্য যেমন রয়েছে তেমনি ব্য’র্থ নির্বাচন কমি’শনের অধীনে স্থা’নীয় সরকার নির্বাচনগুলোও তৈরি করেছে চরম প্রতিকূল পরিবেশ। বিএনপি শেষ পর্যন্ত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধা’ন্ত নিয়েছে। এটা যৌক্তিক কিনা তা নিয়েও আলোচনা হবে। ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচন বর্জনের বড় ধ’রনের খেসারত দলটিকে দিতে হয়েছে। বিএনপিকে নিঃশেষ করার প্রক্রিয়া সে’নাশাসক এরশাদ আমলেই সৃষ্টি হয়েছিল। সে’নাশাসক জিয়াউর রহমানের ট্র্যাজিক হ’ত্যাকান্ডের পর বিচারপতি সাত্তার সরকার আমলে চরম ব্য’র্থতা, কোন্দল, আ’ইনশৃ’ঙ্খলার অবনতিতে র’ক্তপাতহীন অভ্যুত্থানে ক্ষ’মতায় আসেন সে’নাশাসক এরশাদ। মা’র্শাল ল জা’রি হয়। সে সময় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৫-দলীয় জোটের পাশাপাশি অসীম ধৈর্য নিয়ে বেগম খালেদা জিয়া সাতদলীয় জোটের নেতৃত্ব দিতে রাজপথে নামেন। বিএনপির বড় বড় নেতা-মন্ত্রীরা এরশাদের স’ঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। বিএনপি ভে’ঙেচুরে চুরমা’র হলেও তারুণ্যের শ’ক্তি ছাত্রদলের ওপর ভর করেই খালেদা জিয়া সেদিন গণতন্ত্রের নেত্রী হন।

’৯০ সালে এরশাদের পতনের পর ’৯১ সালের নির্বাচনে শেখ হাসিনা যেখানে আদর্শিক দলের পোড় খাওয়া নেতাদের মনোনয়ন দেন সেখানে নেতৃত্বহীন বিএনপি ব্যবসায়ী আর সামরিক শাসকদের আজ্ঞাবহ সরকারি ক’র্মকর্তাদের হাতে দেন ধানের শীষ।

এরশাদের জাতীয় পার্টিকে কোনো ছাড় না দেওয়ার নীতি, অসংগঠিত আটদল, বাইরে থাকা পাঁচদলীয় বামজোট- সব মিলিয়ে নির্বাচনী ফলাফল ছিল হিসাবের বাইরে। যেখানে আওয়ামী লীগের নি’শ্চিত ক্ষ’মতায় আসার কথা, সেখানে জামায়াতের সমর্থনে ক্ষ’মতায় এলো বিএনপি। রাজনীতিতে তার অব’স্থান আওয়ামী লীগবিরো’ধী মত হিসেবে শ’ক্তিশালী হলো। আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে মু’ক্তিযু’দ্ধের অসাম্প্রদায়িক গণতন্ত্রের শ’ক্তি হয়েই থাকল আর বিএনপি আওয়ামী লীগবিরো’ধী শ’ক্তির ঠিকানা। পরের ইতিহাস সবার জা’না।

’৮৪ সালের উপজে’লা নির্বাচন তুমুল আন্দোলনের মুখে বা’তিল ক’রতে হলেও ’৮৫ সালে সেটি সে’নাশাসক এরশাদ ক’রতে সফল হন। সেই সময়ের প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আবদুস সামাদ আজাদ আমাকে একবার বলেছিলেন, এরশাদের সামরিক গোয়েন্দাপ্রধান জেনারেল চিশতি এক বৈঠকে ভীষণ দাপুটে কথা’বা র্তা বলছিলেন। সামাদ আজাদ অনেকের স’ঙ্গে বসে চুপ’চা’প শুনছিলেন, চিশতি বিএনপিকে শেষ করে দেওয়ার ফিরিস্তি দিচ্ছিলেন। একপর্যায়ে সামাদ আজাদ বললেন, জেনারেল সাহেব রাজনীতির বেলা অনেক হলো। অনেককাল, অনেক কিছুই দেখেছি। যত যাই বলুন, আওয়ামী লীগবিরো’ধী শ’ক্তি বেগম সাহেবার (খালেদা জিয়ার) আঁচলেই বাঁ’ধা থাকবে। সে সময় বলা হতো চিশতি প্রবেশ করলে মন্ত্রীরাই নন, তাদের চেয়ারও দাঁড়িয়ে যেত। এতটাই দাপুটে ছিলেন। আওয়ামী লীগ র’ক্তাক্ত আগস্টের পর ক’ঠিন বৈরী দুঃসময় নিপীড়ন ষড়যন্ত্র মো’কাবিলা করে যেভাবে ২১ বছর রাজনীতিতে দক্ষ’তার পরিচয় দিয়েছে সেখানে বিএনপি ১৩ বছরে কিছুই দেখাতে পারেনি। ক্ষ’মতার বাইরে কদিন পারবে তাও বড় প্রশ্ন। বড় প্রশ্ন তার নেতৃত্বহীনতা। যাক, এখন বিএনপির প’রিণতি সামনে কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে তা দেখার বিষয়। আর এতটা ক্ষয়ে যাওয়া জাতীয় পার্টি কীভাবে বিএনপির জায়গা সংসদে দখল করে আসে তাও ভাবার বিষয়। তবে রাজনীতিতে সামনে যে আরও খেলা বাকি তার আলামত দেখা যাচ্ছে। জ’ন্ম থেকে যে বিএনপি ইতিহাসের মীমাংসিত সত্যকে অস্বী’কার করেছে, ইতিহাস বিকৃতি করেছে সেই বিএনপি আজ ৭ মা’র্চ পা’লনের সিদ্ধা’ন্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগ অভিনন্দন জা’নিয়েছে। একেই বলে সত্য কখনো চা’পা দিয়ে রাখা যায় না। বিএনপি ইতিহাসের কাছে নিজেদের সমর্পণ করেছে। এটা ইতিবাচক, এই সময়ে।

২. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স’ম্প্রতি সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশের জনগণকে আরেকটি আনন্দ সংবাদ দিয়েছেন। ছোটবোন শেখ রেহানা তাকে এ বিরল কৃতিত্বের খবর দিয়েছিলেন জা’নিয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেন। শেখ রেহানা তখন তার পাশে ছিলেন। মঞ্চের একপাশে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং আরেক পাশে ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল (লোটাস কামাল)। সংবাদ সম্মেলনে জা’নানো হয়েছে, বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে প্রবেশ করেছে। জাতিসংঘ এ সুপারিশ করেছে। মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ক্ষ’মতা গ্রহণের এক যুগে ধাপে ধাপে নানা প্রতিকূল পরিবেশ মো’কাবিলা করে যে অর্জন এনেছেন দেশের জন্য এ এক বিরল কৃতিত্ব। পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশ এখন মর্যাদাশালী সম্মানিত দেশ। মু’ক্তিযু’দ্ধের বিরো’ধিতাকারী মা’র্কিন প্রশা’সনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার একদিন বৈরী মনোভাব নিয়ে যে দেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিলেন, জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা তা অসার প্রমাণ করে দেশকে উন্নয়ন-অগ্রগতির মহাসড়কে নিয়ে পশ্চিমাদের কাছে বিস্ময় সৃষ্টি ক’রেছেন। আজ স্বপ্ন তার হাতের মুঠোয়। দেশের রাজনীতি হরতাল-অবরো’ধ-সহিংসতা মু’ক্ত, জঙ্গিবাদ-স’ন্ত্রাসবাদ দমনে সাহসী সাফল্যের মুকুট পরে শেখ হাসিনা এ অর্জন ক’রেছেন। শেখ হাসিনার পাশে দেশের শী’র্ষ ব্যবসায়ী থেকে নিম্ন ও মাঝারি আয়ের ব্যবসায়ীরাও সমর্থন দিয়েছেন। পর্যবেক্ষকদের অনেকে বলছেন, কেবল দক্ষিণ এশিয়ায়ই দেশকে উঁচু করেননি। করো’না র মহাবিপর্যয়কালে পশ্চিমা দুনিয়ার অর্থনীতিও যেখানে মুখ থুবড়ে প’ড়েছে সেখানে শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতির হাল শক্তভাবে ধ’রেই করো’না র চ্যালেঞ্জেও সাফল্য এনেছেন। সংবাদ সম্মেলনে একসময় এক যুগের বেনিফিশিয়ারিরা তৈলাক্ত ভাষণ দিয়ে আমেজ ন’ষ্ট ক’রতেন। স’মালোচনার মুখে অনেকে মুখে লা’গাম টেনেছেন। কিন্তু সবাই কি আর পারে? স্বার্থে লাভে-লোভে প্রশ্ন বাদ দিয়ে তারা তাদের মতো বয়ান দেন। তাই বলে পেশাদাররা বসে থাকেন না। তারা প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন পছন্দ করেন। যারা প্রশ্ন ক’রেছেন আলজাজিরা থেকে ডিজিটাল নি’রাপত্তা আ’ইন নিয়ে প্রশ্নের জবাবও দিয়েছেন। মিডিয়াবান্ধব শেখ হাসিনা প্রশ্ন ছুড়লেই দ্রুত জবাব দেন। কিন্তু এক যুগে এমন আদম জ’ন্ম নিয়েছেন গণমাধ্যমে যে নিজেদের আখের গোছাতে সংবাদ সম্মেলনে অভিনব ভাষণ চালু ক’রেছেন। এ নিয়ে তাদের গ্লানি বা লজ্জা নাই থাকল।

যাক, সবাই জা’নেন বঙ্গব’ন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার বি’রুদ্ধে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের নকশা বারবার আঁকা হচ্ছে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের যেখানে নিয়ে গেছেন তা নিয়ে একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তান নামের শত্রুরাষ্ট্রই নয়, ব’ন্ধুরাষ্ট্র ভারতেও আর্তনাদ চলছে। তাদের সরকারকে তুলাধোনা করছে বিরো’ধী দল থেকে গণমাধ্যম ও সিভিল সোসাইটি। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তা অনেকের কাছে ঈর্ষার কারণ হতে পারে, অপরাধ হতে পারে কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের জন্য বিশাল গৌরবের।

৩. স’ম্প্রতি কাশিমপুর কা’রাগারে ডিজিটাল নি’রাপত্তা আ’ইনে আ’টক মুশতাকের মৃ’ত্যুর পর একটা মৃদু ঝ’ড় বয়ে গেছে। ১০ মাস আ’টক থাকার পর মৃ’ত্যুর কারণ তদ’ন্ত করে দেখা হবে বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাম ছাত্র সংগঠন আর ছাত্র অধিকার পরিষদের মশাল আন্দোলনে পু’লিশের আ’ক্রমণ হয়েছে। দুই পক্ষ যার যার বক্তব্য দিয়েছে। মানুষ যা দেখার দেখেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ডিজিটাল বাংলাদেশে নি’রাপত্তা আ’ইন থাকবে। আ’ইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। শুরু থেকেই ডিজিটাল নি’রাপত্তা আ’ইন নিয়ে বিত’র্ক আছে। পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি আছে। এমনকি এর অপপ্রয়োগ বা অপব্যবহার যাতে না হয় সে কথাও বলা হয়েছে। আ’ইনমন্ত্রী পুনর্বিবেচনার কথা বিভিন্ন সময় বললেও তা আর বিবেচিত হয়নি। তবে সংবিধান যেখানে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা নি’শ্চিত করেছে, বাক ও মতামত প্র’কাশের স্বাধীনতা দিয়েছে সেখানে এমন আ’ইনের বি’রুদ্ধে শুরু থেকেই বলেছি। সম্পাদক পরিষদ আ’ইনের কালো ধারাগুলো বা’তিলের সুপারিশ করেছিল, তা হয়নি। ’৭৪ সালের বিশেষ ক্ষ’মতা আ’ইনে ২১ বছর আওয়ামী লীগকে নিপীড়ন ভোগ ক’রতে হয়েছে। বিএনপি জমানায় বিরো’ধী দলের প্রতিবাদের মুখে স’ন্ত্রাসবিরো’ধীসহ পাস করা নিবর্তনমূলক আ’ইনে এখন তাদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। এ ডিজিটাল নি’রাপত্তা আ’ইনের অপপ্রয়োগ আওয়ামী লীগ বিরো’ধী দলে গেলে হবে না, গণমাধ্যমের গলা চে’পে ধ’রবে না তার গ্যারান্টি কোথায়? বিদেশে পাড়ি দিয়ে ঘেউ ঘেউ করা জামায়াতি অর্থে লালিতরা ইউটিউব চ্যানেলে কীভাবে নোংরামি মিথ্যাচার করেছে তাদের বি’রুদ্ধে তো ব্যব’স্থা নেওয়া হয়নি। ফেসবুক ইউটিউব থেকে যে কোনো বিকৃত মিথ্যাচারের ডিজিটাল স’ন্ত্রাস মুছে ফেলা যাচ্ছে না। মুশতাকের সহযোগী কিশোর অসু’স্থ। জা’মিন নেই। আটবার জা’মিন চেয়েও মুশতাকের জা’মিন মেলেনি। এদের স’ঙ্গে জড়িত অনেককে পু’লিশ অব্যা’হতি দিল কীভাবে? অনেকের জা’মিন মিলল কীভাবে?

মুশতাকের আ’টক, কারাভোগ ও মৃ’ত্যু কি সরকারের ইমেজ বাড়িয়েছে? নাকি আঁচড় বসিয়েছে? ডিজিটাল নি’রাপত্তা আ’ইনে এ পর্যন্ত যারা সারা দেশে নাজেহাল হয়েছেন তাদের মধ্যে মাঠের সংবাদক’র্মী কতজন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠকের প্র’তিক্রিয়া কোন দিকে ঝুঁকছে এটা কি সরকারের ডিজিটাল মন্ত্রী-কর্তারা দেখছেন? সবাই তো আর অন্ধ জামায়াত-বিএনপি নয়! কথায় আছে অন্ধ হলেও প্র’লয় ব’ন্ধ থাকে না।

এ রাষ্ট্র র’ক্তক্ষয়ী মু’ক্তিযু’দ্ধে গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক চেতনায় জ’ন্ম নিয়েছে। রাষ্ট্র কি কোনো দায় এড়াতে পারে? জাতির পিতা বঙ্গব’ন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে যে দেশের জ’ন্ম সেটি তো মানবিক রাষ্ট্র হবে। জনগণের স’ঙ্গে রাষ্ট্রের চুক্তিনামা সংবিধান। সংবিধানের স’ঙ্গে সাংঘর্ষিক এমন আ’ইন কি গণতান্ত্রিক শাসনব্যব’স্থায় থাকতে পারে? সরকারসহ সবাইকে ভাবতে হবে।

৪. আজকের লেখা শেষ ক’রতে চাই গ’ভীর বে’দনার স’ঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃ’ত্যুতে শো’ক জা’নিয়ে। দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত ও শেয়ারবাজার নিয়ে তার যে সাহসী ভূমিকা তা স্মরণীয়। একজন দেশপ্রেমিক সাহসী অর্থনীতিবিদের এই মৃ’ত্যুর শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। লেখক-সাংবাদিক-কলামিস্ট-গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদের মৃ’ত্যুও আমাদের ব্যথিত এবং শো’কার্ত করেছে। এ শূন্যতা পূরণ হওয়ার নয়। সুনামগঞ্জে’র প্রিয় অগ্রজ বীর মু’ক্তিযোদ্ধা, লেখক-গবেষক, রাজনীতিক, সমাজ আলোকিত করা আ’ইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট বজলুল মজিদ চৌধুরী খসরুর অকালমৃ’ত্যু শহরকে শো’কস্তব্ধ করেছে। মনে প’ড়ে ’৮৪ সালে রেহান উদ্দিন আহমেদ রেজুর নেতৃত্বে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠার সময় খসরু ভাইয়ের কাছ থেকে তার সাপ্তাহিক সুরমা’র আইডি কার্ড নিয়েছিলাম। দেশে দিন দিন ভালো মানুষ কমে যাচ্ছে। আল্লাহ তাদের জান্নাত দিন।

লেখক : নির্বাহী সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন।