যে যু’দ্ধের শেষ নেই !

ই’সরায়ে’ল এবং ফি’লি’স্তিনের মধ্যে চলমান ল’ড়াই যের’কম তী’ব্র হয়ে উঠেছে তাতে খুব শি’গগিরই এই সংঘা’ত একটি ‘পূর্ণাঙ্গ যু’দ্ধে’ রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আ’শঙ্কা করা হচ্ছে। গাজার ফিলি’স্তি’নিদের কাছে ঈদের পরদিন ভোরটি দুঃস্বপ্ন ভরা ছিল। এদিন ১৬০ টি যু’দ্ধবি’মান নিয়ে হা’ম’লা চা’লিয়েছে ইস’রায়ে’লি বাহিনী।

সঙ্গে ট্যা’ঙ্কের বহরও হা’ম’লায় অংশ নিয়েছিল। সাঁ’ড়াশি এই অ’ভিযানে প্রাণ হা’রিয়েছে অন্তত ১৩ জন। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ইস’রায়ে’লি হা’ম’লায় ১২৬ ফি’লিস্তি’নি নি’হ’ত হ’য়েছে। নি’হ’তদের মধ্যে ৩১ শিশু রয়েছে। এছাড়া আ’হ’ত হ’য়েছেন ১ হাজারের কাছাকাছি।

সবশেষ এই সং’ঘা’তের শুরুটা হয়েছে ইস’রা’য়েল অধি’কৃত পূর্ব জে’রুজা’লেমে দী’র্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসা কয়েকটি ফি’লি’স্তিনি পরি’বারকে উ’চ্ছে’দের প্র’ক্রিয়া শুরুর পর থেকে। এরপর ই’সরা’য়েলের ‘জে’রুজা’লেম দিবস’ পালনকে কেন্দ্র করে উ’ত্তেজনা চর’মে পৌঁছায়। কিন্তু ইস’রায়ে’লি আর ফি’লিস্তি’নিদের এই দীর্ঘ সং’ঘা’তের পেছনের ই’তিহাস আসলে কী?

একশো বছরের পুরনো সংকট: মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন নামের যে এলাকা, সেটি ছিল অ’টোমান সা’ম্রাজ্যের অধীন। প্রথম বি’শ্বযু’দ্ধে অ’টোমা’নদের প’রাজয়ের পর ব্রিটেন ফি’লিস্তি’নের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন ফি’লিস্তি’নে যারা থাকতো তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল আরব, সেই সঙ্গে কিছু ইহুদী, যারা ছিল সং’খ্যালঘু।

কিন্তু এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উ’ত্তেজনা বাড়তে শুরু করলো যখন আ’ন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ব্রি’টেনকে দা’য়িত্ব দিল ই’হুদী জনগোষ্ঠীর জন্য ফি’লিস্তিনে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার। ইহুদীরা এই অ’ঞ্চলকে তাদের পূর্বপুরুষদের দেশ বলে দাবি করে। কিন্তু আরবরাও দাবি করে এই ভূমি তাদের এবং ইহু’দী’দের জন্য সেখানে রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টার তারা বিরো’ধিতা করে।

১৯২০ থেকে ১৯৪০ দশকের মধ্যে ইউরোপ থেকে দলে দলে ইহু’দীরা ফি’লিস্তিনে যেতে শুরু করে এবং তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ইউরোপে ইহু’দী নি’পী’ড়ন এবং দ্বিতী’য় বি’শ্বযু’দ্ধে ভ’য়ংক’র ই’হুদী নিধ’নয’জ্ঞের পর সেখান থেকে পা’লিয়ে এরা নতুন এক মাতৃ’ভূমি তৈরির স্বপ্ন দেখছিল। ফি’লিস্তিনে তখন ইহু’দী আর আর’বদের মধ্যে স’হিং’সতা শুরু হলো, একই সঙ্গে স’হিং’সতা বা’ড়ছিল ব্রিটিশ শা’সনের বি’রুদ্ধেও।

১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে এক ভোটাভুটিতে ফি’লিস্তিনকে দুই টুক’রো করে দুটি পৃথক ই’হুদী এবং আরব রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। যেখানে পবিত্র নগরী জে’রুজা’লেম আ’ন্তর্জা’তিক নগরী হিসেবে থাকবে বলে বলা হয়। ইহু’দী নেতারা এই প্রস্তাব মেনে নেন, কিন্তু আরব নেতারা প্রত্যাখ্যান করেন। জাতি’সংঘের এই পরি’কল্পনা কখনোই বাস্তবায়িত হয়নি।

ইসরা’য়েল প্রতিষ্ঠা এবং ‘মহা-বিপ’র্য’য়: ব্রিটিশরা এই স’মস্যার কোন সমাধান করতে ব্যর্থ হয়ে ১৯৪৮ সালে ফি’লিস্তিন ছাড়ে। ইহু’দী নে’তারা এরপর ইস’রায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেয়। সেসময় বহু ফিলিস্তিনি এর প্রতিবাদ জানান এবং এরপর যু’দ্ধ শুরু হয়। প্র’তিবেশী আরব দেশগুলোর সৈন্য’রাও সেই যু’দ্ধে অংশ নেয়।

হা’জার হা’জার ফি’লিস্তি’নিকে তখন হয় তাদের ঘ’রবা’ড়ি ফেলে পালা’তে হয় অথবা চলে যেতে বাধ্য করা হয়। ফিলি’স্তিনিরা এই ঘট’নাকে ‘আল নাকবা’ বা ‘মহা-বি’পর্য’য়’ বলে থাকে। পরের বছর এক যু’দ্ধবি’রতির মাধ্যমে যখন যু’দ্ধ শেষ হলো, তত’দিনে ইসরা’য়েল ফি’লিস্তি’নের বে’শিরভাগ অঞ্চল দখল করে নি’য়েছে। জ’র্ডান দখল ক’রেছিল একটি অঞ্চল, যেটি এখন পশ্চিম তীর বলে পরিচিত। আর মিশর দখল করেছিল গাজা উপত্যকা।

পবিত্র জেরু’জালে’ম নগরী ভাগ হয়ে যায়, ইসরা’য়েলি বাহিনী দখল করে নগরীর পশ্চিম অংশ, আর জ’র্ডানের বাহিনী পূর্ব অংশ। দু’পক্ষের মধ্যে যেহেতু কখনোই কোন শা’ন্তি চুক্তি হয়নি, তাই উভয় পক্ষই অপর প’ক্ষকে দো’ষারো’প করতে থাকে। দুই পক্ষের মধ্যে পরের দ’শকগুলোতে এরপর আ’রো বেশ কয়েটি সর্বাত্ম’ক যু’দ্ধ হয়েছে।

১৯৬৭ সালে আরেকটি যু’দ্ধে ইস’রায়ে’ল ফি’লিস্তি’নিদের পূর্ব জে’রুজা’লেম এবং পশ্চিম তীর, সি’রি’য়ার গোলান মালভূমি, গা’জা, এবং মিশরের সিনাই অ’ঞ্চল দখল করে নেয়। বেশিরভাগ ফি’লি’স্তিনি শ’রণার্থী থাকে গা’জা এবং পশ্চিম তী’রে। প্রতিবেশী জ’র্ডান, সিরিয়া এবং লে’বাননেও আছে অনেক ফি’লিস্তি’নি।

ই’সরা’য়েল এই ফি’লিস্তি’নি এবং তা’দের বং’শধ’রদের কাউ’কেই আর তা’দের বাড়িঘরে ফি’রতে দে’য়নি। ইস’রায়েল বলে থাকে, এদের ফি’রতে দিলে সেই চাপ ইস’রায়েল নিতে পারবে না এবং ইহু’দী রাষ্ট্র হিসে’বে ইস’রায়ে’লের অ’স্তিত্বই হুম’কির মুখে পড়বে। ইস’রায়ে’ল এখনো পশ্চিম তীর দ’খল করে আ’ছে। গা’জা থেকে তারা যদিও সৈন্য প্রত্যা’হার করে নি’য়েছে, কিন্তু জা’তিসংঘের দৃষ্টিতে এটি এখনো ইস’রায়ে’লের দখ’লে থাকা একটি এলাকা।

ইসরায়েল এখন পুরো জে’রুজালে’ম নগরীকেই তাদের রা’জধানী বলে দাবি করছে। অন্যদিকে ফিলি’স্তিনি’রা পূর্ব জে’রুজা’লেমকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের রা’জধানী হি’সেবে চায়। পুরো জে’রুজালে’মকে ইসরা’য়েলে’র রাজধানী হিসেবে স্বীকৃ’তি দিয়েছে কেবল যুক্তরাষ্ট্রসহ হাতে গোনা কয়েকটি দেশ।

গত ৫০ বছর ধরে ই’সরায়ে’ল এসব দখ’লীকৃত জা’য়গায় ই’হুদী বস’তি স্থাপন করে যাচ্ছে। ছয় লাখের বেশি ইহু’দী এখন এসব এলা’কায় থাকে। ফি’লিস্তি’নিরা বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে এগুলো অবৈ’ধ বসতি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে অ’ন্তরায়। তবে ইস’রা’য়েল তা মনে করে না।

এখন কী ঘটছে? পূর্ব জে’রুজালে’ম, গা’জা এবং পশ্চিম তীরে যে ফি’লি’স্তিনিরা থাকেন, তাদের সঙ্গে ইস’রায়ে’লিদের উত্তে’জনা প্রায়শই চরমে উঠে। গা’জা শা’সন করে ক’ট্টর’পন্থী ফিলিস্তিনি দল হামাস। ইস’রায়ে’লের সঙ্গে তাদের অনেকবার যু’দ্ধ হয়েছে। গা’জার সী’মান্ত ক’ঠোরভাবে নি’য়ন্ত্র’ণ করে ইস’রা’য়েল এবং মি’শর, যাতে হামা’সের কাছে কোন অ’স্ত্র পৌঁ’ছাতে না পারে।

গা’জা এবং প’শ্চিম তী’রের ফি’লিস্তিনি’রা বলছে, ইস’রায়ে’লের নানা পদ’ক্ষেপ এবং কঠো’র বি’ধিনিষেধের কারণে তারা খুবই দুর্দ’শার মধ্যে আছে। অন্যদিকে ই’সরা’য়েল দাবি করে যে, ফি’লি’স্তিনিদের স’হিং’সতা থেকে নিজেদের রক্ষার জন্য তাদের এই কাজ করতে হয়।

এবছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি রম’জানের শুরু থেকে উত্তে’জনা বাড়তে থাকে। তখন প্রায় প্রতি রাতেই ফি’লি’স্তিনিদের সঙ্গে পুলিশের সং’ঘ’র্ষ চ’লছিল। পূর্ব জেরু’জা’লেম হতে কিছু ফি’লিস্তি’নি পরি’বারকে উ’চ্ছে’দের হুম’কি ফি’লিস্তি’নিদের আরো ক্ষু’ব্ধ করে তোলে। এরপর ইস’রায়ে’লের ‘জে’রুজা’লেম দিবস’ পাল’নকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়।

মূল সম’স্যাগুলো কী? ইস’রায়েল এবং ফি’লি’স্তিনিরা বেশ কিছু ইস্যুতে মোটেই এক’মত হতে পারছে না। এর মধ্যে আছে- ফি’লিস্তি’নি শর’ণার্থীদের ব্যা’পারে কী হবে? পশ্চিম তীরে যেসব ইহু’দী বসতি স্থাপন করা হয়েছে সেগুলো থাকবে, নাকি সরিয়ে নেয়া হবে?

জে’রুজা’লেম নগরী কি উ’ভয়ের মধ্যে ভাগা’ভাগি হবে? আর সবচেয়ে জ’টিল ইস্যু হচ্ছে- ইসরা’য়ে’লের পাশাপাশি একটি স্বাধীন ফি’লিস্তি’নি রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্ন। গত ২৫ বছর ধরেই এই প্রশ্নে আলো’চনা চলছে থেমে থেমে। কিন্তু কোন সমাধান এখনো মেলেনি।

ভবিষ্যৎ তাহলে কী? এক কথায় বলতে গেলে, খুব স’হসা এই পরিস্থি’তির কোন সমাধান মিলবে না। সং’কট সমাধানের সবশেষ উদ্যো’গটি নিয়েছিল যুক্ত’রাষ্ট্রের সদ্য বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তখন ইস’রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এটিকে ‘ডিল অব দ্য সেঞ্চুরি’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।

কিন্তু ফি’লিস্তি’নিরা ট্রাম্পের সেই উদ্যোগকে না’কচ করে দি’য়েছিল। তাদের অ’ভিযোগ ছিল এটি একেবারেই একতরফা একটি উ’দ্যোগ। ভবি’ষ্যতের যে কোন শা’ন্তি চুক্তির আগে দুপক্ষকে জ’টিল সব সমস্যার সমাধানে একমত হতে হবে। সেটি যতদিন না হচ্ছে, দুপক্ষের এই সং’ঘা’ত চলতেই থাকবে।