সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়া কাপ-২০১৯ এর ফাইনালের শিরোপা জিতে নিয়েছে কাতার। জাপানের বিপক্ষে কাতারের এমন বিজয়কে তাই প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ফুটবল ভক্তরা। কিন্তু যেদেশের ভেন্যুতে এই শিরোপা জিতেছে কাতার ফুটবল দল, সেই তাদের সঙ্গেই চলছে এখন চরম বৈরিতা। তাই এএফসি কাপে কাতারের জয়কে আমিরাত সরকার কিভাবে দেখছে তা নিয়েই ছিল নানা আলোচনা-সমালোচনা।
কিন্তু সে ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে কাতারের খেলোয়াড়দের বিলাসবহুল উপহার সামগ্রী দিয়ে রীতিমত ‘চোখ কপালে’ তুলে দিয়েছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সরকার প্রধান শেখ খলিফা বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।
ইরানের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দলের প্রত্যেক খেলোয়াড়কে দেশটির আমির লন্ডনে একটি অ্যাপার্টমেন্ট, নগদ ২০ লাখ ডলার, সারা জীবনের জন্য মাসিক বেতন, লেটেস্ট মডেলের লেক্সাস গাড়ি ও নিজের রাজপ্রাসাদে মধ্যহ্নভোজনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। টুর্নামেন্টে শিরোপা জয়ের অংশ হিসেবে কোনো দলকে এত মূল্যবান উপহার সামগ্রী এটাই বিশ্বে প্রথম।সিনা সায়েমিয়ান নামে মধ্যপ্রাচ্যের একজন ফুটবল লেখক এ নিয়ে টুইট করেছেন। এ খবর দিয়েছে ফক্স এশিয়া।

এএফসি এশিয়ান কাপ ২০১৯-এ দারুণ খেলে ফাইনালে ৩-১ গোলে জাপানকে হারিয়েছে কাতার। দেশটি আবার পরবর্তী বিশ্বকাপের আয়োজক। পুরো টুর্নামেন্টে তারা ১৯টি গোল দিয়েছে। কিন্তু খেয়েছে মাত্র ১টি। দলের আলমোজ আলি ৯টি গোল দিয়ে রেকর্ড গড়েছেন।টুর্নামেন্টের ইতিহাসে একবারে এটিই সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ড। তার সঙ্গে ছিলেন আকরাম হাসান আফিফ। তার নামের পাশে রয়েছে ১টি গোল ও ১০টি অ্যাসিস্ট!
টুর্নামেন্টে ফুটবলের আঞ্চলিক পরাশক্তি বলে পরিচিত সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউএই ও জাপানকে হারিয়েই শিরোপা জয় করেছে কাতার। এর মধ্যে সৌদি আরব ও ইউএই-এর সঙ্গে কাতারের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। খেলাও হয়েছে আবার ইউএই’র মাটিতে। কাতরের সঙ্গে ইউএই-এর সম্পর্ক কেমন তা টুর্নামেন্ট চলাকালে কোনো কাতারি নাগরিককে ভিসা না দেওয়ায় বোঝা গেছে। এ কারণে সমর্থনশূন্য অবস্থায়ই খেলতে হয়েছে কাতারকে। ফলে খেলার বাইরেও এক ধরনের রাজনৈতিক আবরণ ছিল টুর্নামেন্টজুড়ে।
