বাংলাদেশী চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সমালোচিত অভিনেত্রীদের একজন নায়ীকা ময়ূরী। রসিকতা করে হোক আর সাভাবিক ভাবেই হোক এই অভিনেত্রীর নামটিই ব্যাবহার হয় অশ্লীলতার বিপরীত শব্দ হিসেবে। ১৯৯৮ সালে ‘মৃত্যুর মুখে’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে আগমন করেন।
চলচ্চিত্রের জুনিয়র শিল্পী সেতুর মেয়ে ময়ূরী। তাকে চলচ্চিত্রে নিয়ে আসেন মাহমুদ নামে একজন প্রযোজক। ছবির পরিচালক ছিলেন কবি আবুল হাসানের ছোট ভাই পরলোকগত আবিদ হাসান বাদল।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছবিটি নির্মিত হলেও ময়ূরী ছবিটিতে ছিলেন না। তিনি ক্যারিয়ার শুরু করেন ‘রাজা’ নামের একটি ছবি দিয়ে। এরপর তিনি ক্যারিয়ার সজীব রাখার জন্য এমন একটি ঘরানার প্রযোজকদের ছবিতে জড়িত হতে থাকেন যারা কখনও ভালো ছবি নির্মাণ করেন না।
ময়ূরী অর্থ উপার্জন করেছেন সে সময় অনেক এবং মগবাজার এলাকায় একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। বর্তমানে তিনি সেই ফ্ল্যাটেই আছেন। সংসার করছেন এবং তার দুই সন্তান রয়েছে।
ময়ূরীর স্বামী রেজাউল করিম খান মিলন মারা যান ২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর। মিলন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
কাটপিস সিনেমার সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন অভিনেত্রী ছিলেন তিনি। তখন এ অভিনেত্রীকে স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় বেশকিছু অশ্লীল সিনেমায় দেখা যায়। দেশীয় চলচ্চিত্র সুস্থ ধারায় ফিরলে অনেকটাই অন্তরালে চলে যান এ অভিনেত্রী। কয়েকবছর আগে ‘ডার্টি পিকচার’ সিনেমার আদলে একটি সিনেমা নির্মাণেরও ঘোষণা দিয়েছিলেন ময়ূরী।
তবে এটিও এখন বন্ধ রেখেছেন। চলচ্চিত্রের কোনো কাজ তার হাতে নেই। তিনি এখন স্টেজ শোয়ে অংশ নিচ্ছেন। গত বছরে দেশের বাইরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন।
ময়ূরী অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র ‘বাংলা ভাই’। নব্বই দশক থেকে এ পর্যন্ত ময়ূরী অভিনীত তিনশত সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমাগুলোতে তিনি যতটা প্রশংসিত হয়েছেন তার চেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন।
নার্গিস আক্তার পরিচালিত ‘চার সতীনের ঘর’ শিরোনামের সিনেমায় শক্তিমান চলচ্চিত্রাভিনেতা আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছিলেন ময়ূরী।
