চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে গুপ্তছড়া ঘাটে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝায় নৌকায় উঠতে অসম্মতি জানানোয় দুই প্রবাসীসহ চার যাত্রীকে পিটিয়ে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টার দিতে সার্ভিস বোট থেকে কূলে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত লালবোটে অতিরিক্ত যাত্রী হিসেবে উঠতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাদের ওপর এই হা*** হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
হা***র শিকার হওয়া ওই চারজন উপজেলার মুছাপুরের আলীমিয়ার বাজার এলাকার মান্দিরগো বাড়ির বাসিন্দা।
স্থানীয়রা জানায়, সোহেল ও শিবলু দুজন প্রবাস থেকে সদ্য বাংলাদেশে এসেছেন। তাদের এগিয়ে আনতে যাওয়া পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম থেকে সন্দ্বীপ আসেন তারা। পরে ঘাটে সার্ভিস বোট থেকে যাত্রীদের কূলে নামানোর জন্য আসা লাল বোটে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় তাতে উঠতে অস্বীকৃতি জানান সোহেল। তিনি বোটের কর্মীদের জানান, তার সঙ্গে ছোট বাচ্চা, মা-বোন ও স্ত্রী আছেন, তিনি পরের বোটে যাবেন।
এ কথা বলার পর বোটের কর্মীদের একজন সোহেলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন৷ এর প্রতিবাদ করলে বোটকর্মীরা প্রথমে সোহেলকে ধাক্কা দিয়ে সার্ভিস বোট থেকে লাল বোটে ফেলে দেন। সেখানে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। সোহেলকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বাবা মানিক এবং ছোট দুই ভাই শিবলু ও শিহাবকেও মারধর করেন ঘাট ইজারাদারের লোকজন। এ সময় সার্ভিস বোটে থাকা অন্য যাত্রীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ইজারাদারের লোকজন লালবোট চালিয়ে দূরে সরিয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাদের আরেক দফা মারধর করা হয়। পরে তীরের কাছাকাছি এলে এক কর্মচারি সোহেলকে লাথি দিয়ে নদীতে ফেলে দেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আবজাল হোসেন ও মাহবুবুর রহমান শিমুল জানান, অতর্কিত দেখি ঘাটের লোকজন মিলে লালবোটে ফেলে একজনকে মারছেন। এরপর ওই লোকটাকে বাঁচাতে আরও তিনজন সার্ভিস বোট থেকে লাফিয়ে লালবোটে যান। সঙ্গে সঙ্গে কর্মচারিরা লালবোটটা সার্ভিস বোটের কাছ থেকে সরিয়ে নেন। এরপর দূরে নিয়ে গিয়ে নৌকা থামিয়ে নদীর মাঝখানে তাদের আবার পেটান ঘাট ইজারাদারের লোকজন। পরে তীরের কাছাকাছি নিয়ে লাথি মেরে বোট থেকে ফেলে দেন। লোকটাকে যখন পেটানো হয় তখন তার সঙ্গে আসা স্ত্রী, ছোট একটা মেয়ে ও তার মা-বোন সার্ভিস বোটে ছিলো।
ঘাট ইজারাদার এস এম আনোয়ার হোসেন দেশের বাইরে থাকায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা যায়নি। তবে তার ছোটভাই সাইফুল ইসলাম জানান, ঘাটে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনায় তারা যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
