বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। সৈাম্য সরকার ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অতিমানবীয় ইনিংসের সুবাধে প্রথমবারের মতো কোনো ত্রিদেশীয় শিরোপা জিতল বাংলাদেশ।এমন জয়ে উল্লাসিত টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া।এ দিন দুর্দান্ত খেলে এক রেকর্ড গড়েন মোসাদ্দেক। ভেঙে দেন আশরাফুলের ১৪ বছরের পুরোনো রেকর্ড। তবে ম্যাচের পরের দিন সেই রেকর্ডটি নিয়ে দেখা দেয় বিতর্ক।
ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ‘ক্রিকইনফো’ আর ‘ক্রিকবাজ’ বলছে, ২০ বলে ফিফটি হাঁকিয়েছেন মোসাদ্দেক। আর ম্যাচ শেষে তিনি অপরাজিত থাকেন ২৪ বলে ৫২ রানে। এমনকি তারা একটি গ্রাফিক্সের মাধ্যমেও তা দেখিয়েছে।
ওই গ্রাফিক্সে দেখানো হয়েছে, ২০ বলের মধ্যে মোট ২ টি ডট বল খেলেছেন সৈকত। সিঙ্গেল নিয়েছেন ১০ টি, ছয় মেরেছেন ৫ টি এবং আর চার মেরেছেন ২ টি। আর ২০ তম বলে ডাবল নিয়ে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তিনি।

১৮ তম ওভারের ৫ম বলে সিঙ্গেল নেন মোসাদ্দেক। যদিও গ্রাফিক্স বলছে ওই বলে তিনি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। টিভি পর্দায় দেখা যাচ্ছে এই ওভার শেষে সৈকত ৮ বলে ৭ রানে অপরাজিত রয়েছেন। ফলে সৈকতের প্রথম ৮ বলের গ্রাফিক্স হবে এরকম ১১০৪১০৬১ । কিন্তু ক্রিকইনফো বলছে ১১০৪১০৬১ !
সবচেয়ে অদ্ভুদ ব্যাপার হলো, ক্রিকইনফোসহ ক্রিকেট বিষয়ক সব ওয়েবসাইটের বল বাই বল আপডেটে লিখে, ১৮ তম ওভারের প্রথম বলে মাহমুদউল্লাহ সিঙ্গেল নেওয়ার পর দ্বিতীয় বলে মোসাদ্দেক সিঙ্গেল নিয়েছেন এবং পরের তিন বল মাহমুদউল্লাহ ডট দিয়েছেন।
অথচ ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ১৮ তম ওভারের প্রথম বলে সিঙ্গেল নিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। দ্বিতীয়-তৃতীয় আর চতুর্থ বল ডট দেওয়ার পর পঞ্চম বলে সিঙ্গেল নিয়েছেন সৈকত। ষষ্ঠ বলে আবার সিঙ্গেল নেন মাহমুদউল্লাহ।
১৮ তম ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ১৫৫। সৈকত ৮ বলে ৭ ও মাহমুদউল্লাহ ৮ বলে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু ‘ইউএসপিএন’ ১৮ তম ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে দেখাচ্ছে সৈকত ৫ বলে ৭ ও মাহমুদউল্লাহ ১১ বলে ৬ রান করেছেন। অর্থাৎ সৈকতের খেলা ৩ বল মাহমুদউল্লাহর নামে যোগ করেছেন।
সুতরাং, ক্রিকেটের বিশ্বস্থ দুটি পোর্টালই ভুল কথ্য চাউর করেছিল।
উল্লেখ্য, ক্রিকেটের বড় দুইটি ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিয়ে খবর ছাপিয়েছিলো ‘বার্তাবাজার’সহ বাংলাদেশের প্রায় সবকটি অনলাইন পোর্টাল।
তাই বলা যায়, ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির মালিক সৈকত নয়। অক্ষত রইলো ২০০৫ সালে নটিংহ্যামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২১ বলে ফিফটি করা মোহাম্মদ আশরাফুলের সেই রেকর্ডটি।
