সিলেট-১ আসনে মহাজোটের প্রার্থী করা হয়েছে জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. একে আবদুল মোমেনকে। কোটিপতি এই প্রার্থী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ভাই।
তবে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন, তা এখনো পরিষ্কার হয়নি। দুজনের মধ্যে একজন দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমদ চৌধুরী ও খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এর মধ্যে ইনাম আহমদ চৌধুরীর মূল আয়ের পথ বাড়িভাড়া। আর মুক্তাদির সব প্রার্থীর মধ্যে বিত্তবান হলেও ডুবে আছেন ঋণের সাগরে। নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এ আসনের ১০ প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ শিক্ষিত আওয়ামী লীগের ড. একে আবদুল মোমেন। তিনি পিএইচডি ডিগ্রিধারী, আবার পেশায় শিক্ষক। সম্পদের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি অন্য প্রার্থীদের চেয়ে ঋণের দিক থেকেও এগিয়ে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ মামলাও রয়েছে তার নামে।
অন্যদিকে বিএনপির আরেক প্রার্থী প্রাক্তন সচিব ইনাম আহমদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
এ ছাড়া জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী স্বশিক্ষিত, খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা নাসির উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলনের রেদওয়ানুল হক চৌধুরী ও বাসদের প্রণব জ্যোতি পালের পেশা শিক্ষক, এনপিপির ইউসুফ ব্যবসায়ী এবং বাসদের (মার্কসবাদী) উজ্জল রায় সার্বক্ষণিক রাজনৈতিক কর্মী বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এদের মধ্যে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন উজ্জল রায়; অন্যরা এবারই প্রথম।
ড. মোমেন : সিলেট-১ আসনের বর্তমান এমপি ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের ছোট ভাই ড. মোমেন নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নের সঙ্গে নিজের হলফনামাও জমা দিয়েছেন। তা থেকে জানা যায়, মোমেনের হাতে নগদ আছে ১ কোটি ৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ১ হাজার ৯৪৬ দশমিক ৬৩ ইউএস ডলার।
পিএইচডি করা মোমেন শিক্ষকতা ও অন্যান্য পেশায় জড়িত। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনি বছরে বাড়ি, দোকান বা অন্যান্য খাত থেকে ভাড়া বাবদ ৩ লাখ ৯৮ হাজার; ব্যবসা থেকে ৩৮ হাজার; শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত থেকে ৩ লাখ ৮০ হাজার; পেশা থেকে ২৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করেন।
ইনাম আহমদ : এলএলবি পাস ইনাম আহমদ চৌধুরীর আয়ের উৎস বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকানভাড়া। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
প্রাক্তন এই সচিব অবসরের পর থেকেই সমাজকল্যাণমূলক ও রাজনৈতিক কর্মকা-ে জড়িত। বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা দোকানভাড়া থেকে তিনি বছরে ৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা আয় করেন। তার নামে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র বা ব্যাংক আমানত আছে ২৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকার। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে নগদ ১১ লাখ টাকা এবং ১৪ হাজার ৯২০ ইউএস ডলার রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ৬৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা। স্ত্রীর কাছে নগদ ১৫ লাখ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
খন্দকার মুক্তাদির : ঋণে ডুবে আছেন বিএনপি নেতা খন্দকার মুক্তাদির। তার নামে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকার একক ঋণ। তিনি ট্রাস্ট ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান এবং ইউনিয়ন ক্যাপিটাল লিমিটেডের চেয়ারম্যান, এমডি বা পরিচালক পদে রয়েছেন।
তার নামে ট্রাস্ট ব্যাংকে ১৭২ কোটি ৩৬ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, এক্সিম ব্যাংকে ৪৩ কোটি ৫৫ লাখ ৬৩ হাজার টাকা, ব্র্যাংক ব্যাংকে ৯ কোটি ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা, আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে ৮৭ কোটি ৪৬ লাখ ৩১ হাজার টাকা, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে ৫ কোটি এবং ইউনিয়ন ক্যাপিটালে ১৩ কোটি ৫০ লাখ ২৩ হাজার টাকা ঋণ রয়েছে। মুক্তাদিরের নামে বিপুল অঙ্কের দায়ও রয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানে তার দায় ৮ কোটি ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, এক্সিম ব্যাংকে ৮৭ লাখ টাকা, সিটি ব্যাংকে প্রায় ১৮ লাখ টাকা। এমএসসি পাস মুক্তাদিরের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা আদালতে বিচারাধীন
