মোদির বাংলাদেশে আসা নিয়ে আলোচনায় ওড়াকান্দি!

চলতি মাসেই বাংলাদেশ সফরে আসার কথা রয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এ সফরে তিনি গোপালগঞ্জে’র কাশিয়ানী উপজে’লার ওড়াকান্দিতে অবস্থিত মতুয়া সম্প্রদায়ের একটি মন্দির পরিদ’র্শনে যেতে পারেন এমন খবরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যা’পক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ক’র্মকর্তা জানিয়েছেন, যে ওড়াকান্দিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্যতা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয় প্রশা’সন বলছেন, মোদির এমন ক’র্মসূচির বিষয়ে তারা এখনও অবগত নন। উপজে’লা নির্বাহী ক’র্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান ওড়াকান্দিতে, কিন্তু সেখানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যাবেন কিনা, সে বিষয়ে কোনো নির্দে’শনা তারা পাননি।

কাশিয়ানী উপজে’লা পরিষদ চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর নিজেও মতুয়া সম্প্রদায়েরই একজন এবং ‘মতুয়াবাদ’-এর প্রতিষ্ঠাতা হরিচাঁদ ঠাকুরের বংশধ’র। সুব্রত সংবাদমাধ্যমকে নি’শ্চিত ক’রেছেন যে ওড়াকান্দিতে সরকারের নানা সংস্থার লোকজনকে আসা যাওয়া ক’রতে দেখা যাচ্ছে, তবে নরেন্দ্র মোদি আসবেন কিনা তা তারা এখনও জা’নেন না।

তবে বাংলাদেশ মতুয়া মহাসংঘ কে’ন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুবল চন্দ্র রায় বলেন, মন্দির পরিদ’র্শনের সিদ্ধা’ন্ত এখনও না এলেও তারা আশা করছেন যে মোদির এই ক’র্মসূচি শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হবে। তিনি বলেন, ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আসার খবরে তারা উ’চ্ছ্বসিত এবং আশা করছেন যে সফরের দ্বিতীয় দিনে মোদি ওড়াকান্দির মন্দিরে যাবেন।

মুজিব জ’ন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ২৬ মা’র্চ দুদিনের সফরে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে। সফরকালে তিনি গোপালগঞ্জে’রই টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গব’ন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জা’নাবেন বলে কথা রয়েছে।

গোপালগঞ্জে’র কাশিয়ানী থা’নার একটি ইউনিয়ন হলো ওড়াকান্দি। এখানেই ১৮১২ সালে জ’ন্মেছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর। মূলত তিনিই সূচনা করেন মতুয়াবাদের, যা পরে বিস্তৃত হয় তার ছেলে গুরুচাঁদ ঠাকুরের হাত ধ’রে। মতুয়া সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বিশেষ সম্প্রদায়, যারা হরিচাঁদ ঠাকুরকেই তাদের দেবতা মান্য করে।

মতুয়া মতবাদে বিশ্বা’সীরা একেশ্বরবাদে বিশ্বা’সী এবং এতে নারী ও পুরুষের সমান অধিকার নি’শ্চিত করা ছাড়াও বিধবা বিবাহকে উৎসাহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুবল চন্দ্র রায়। সুবল চন্দ্র সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ওড়াকান্দিতেই মতুয়াদের প্রধান মন্দির এবং প্রতি বছর ফাল্গুন মাসের ত্রয়োদশী তিথিতে হরিচাঁদ ঠাকুরের জ’ন্মদিনে সারা বিশ্ব থেকে লাখ লাখ মতুয়া এখানে সমবেত হন ও পুণ্যস্নানে অংশ নেন।

সুবল জা’নান, হিন্দু ধ’র্মে যারা ব্রাক্ষ্মণের শাসনে অব’হেলিত ছিলো, যাদের নমঃশূদ্র বা চণ্ডাল বলা হতো, তাদের জন্যই জ’ন্মেছিলেন হরিচাঁদ ঠাকুর। তিনি ব্রাক্ষ্মনদের বি’রুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। তখন ব্রাক্ষ্মণ ছাড়া কারও শিক্ষার অধিকার ছিলো না, যোগ করেন সুবল রায়। তবে গুরুচাঁদ ঠাকুর বৃহত্তর ফরিদপুর, বরিশাল, যশোর ও খুলনায় প্রায় চার হাজার পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।সুবলের দেয়া তথ্য মতে, তখন নারীদের অধিকার ছিলো না।

ঠাকুর সেখানে নারী শিক্ষার আন্দোলন ক’রেছেন। বিধবা বিবাহ প্রচলনের পক্ষে কাজ ক’রেছেন। আমাদের মধ্যে কোন জাতিভেদ নাই। আম’রা একেশ্বরবাদে বিশ্বা’সী। ওড়াকান্দির স্থানীয়রা বলছেন, আম’রা আশা করছি নরেন্দ্র মোদী আসবেন। ঠাকুর বংশের সন্তান শান্তনু ঠাকুরও আসবেন। আমাদের এ অঞ্চলে হিন্দুদের অধিকাংশই মতুয়া। তাদের জন্য এটি অত্যন্ত আনন্দের। স’ম্প্রতি ভারতীয় হাইকমি’শনের প্রতিনিধিরা মন্দির এলাকা পরিদ’র্শন ক’রেছেন।