
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে টনসিল অপারেশনের পর ৯ বছর বয়সী শিশু তাসরিফা আক্তারের মৃত্যু হয়। ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বিস্তারিত জানুন।
মির্জাপুরে বেসরকারি ক্লিনিকে টনসিল অস্ত্রোপচারের পর শিশুর মৃত্যু, তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি
কী ঘটেছিল সেই দিন — চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রাণ হারাল শিশু তাসরিফা
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ভয়াবহ এক চিকিৎসা ঘটনার শিকার হয় ৯ বছরের শিশু তাসরিফা আক্তার। গত শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে টনসিলের সমস্যার কারণে তাকে ভর্তি করা হয় মির্জাপুর মডার্ন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। অপারেশন সফল হয়েছে দাবি করলেও, অস্ত্রোপচারের পর পরই মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পরই অচেতন — দায় এড়াতে পারছে না নার্স ও কর্তৃপক্ষ
তাসরিফার পরিবারের দাবি, অপারেশনের পরপরই মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়ে। বারবার ডাকাডাকির পরও দায়িত্বরত নার্সরা সাড়া দেয়নি। পরে শিশুটিকে কুমুদিনী হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক মো. মাসুম বিল্লাহ প্রথমে বলেন, “অপারেশন সফল হয়েছে এবং জ্ঞান ফেরার পর মেয়েটির সঙ্গে কথাও হয়েছে।” তবে এর কিছুক্ষণ পরই বিপরীত চিত্র দেখা যায়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি
রবিবার (২৭ জুলাই) ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম এক পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
কমিটির সদস্যরা হলেন:
-
মো. আলী, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) — সভাপতি
-
রাজীব কর্মকার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি)
-
লিটন চন্দ সাহা, আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
-
মো. বাবুল আক্তার, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (রোগ নিয়ন্ত্রণ)
-
ইসরাত জাহান, স্যানিটারি ইন্সপেক্টর
কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির দায়িত্ব ও ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুল হালিম বলেন, “আমরা এখনো তদন্ত কমিটির বিষয়ে কিছু জানি না।” বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদারকি থাকবে বলে নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম।
তাসরিফার মতো একটি নিষ্পাপ শিশুর জীবন একটি সাধারণ অস্ত্রোপচারের পর হারিয়ে যাওয়া সত্যিই বেদনাদায়ক। যদি চিকিৎসা অবহেলা প্রমাণিত হয়, তবে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা জরুরি। এমন ঘটনায় প্রতিটি হাসপাতালের নিরাপত্তা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
