মিরাজের অপেশাদারি মনোভাব ভবিষ্যতে মেনে নিবে না বিসিবি

বিপিএল মানেই খেলার বাইরের ইস্যু নিয়ে হইচই। বঙ্গবন্ধু বিপিএলে সে উত্তাপ ছড়ালেন চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ায় টুর্নামেন্ট থেকেই নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুমকি দেন তিনি। গতকাল বিকেলে বায়োসিকিউর বাবল ভেঙে ঢাকায় ফেরার জন্য হোটেল থেকে বেরিয়ে পড়েন স্ত্রী-পুত্রকে নিয়ে। গাড়িতে ওঠার আগেই ফ্র্যাঞ্চাইজির এক প্রতিনিধি মিরাজকে ঢাকায় ফেরা থেকে বিরত করেন।

বিসিবির হস্তক্ষেপ শেষে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। মিরাজের চাওয়ামতো চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) ইয়াসির আলমকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানান, মিরাজ টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে খেলবেন। চট্টগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে, মিরাজ দলের সঙ্গেই থাকছেন। তবে অধিনায়কত্ব তিনি আর ফিরে পাচ্ছেন না। তার এই অপেশাদারি মনোভাব বিসিবি এখন মেনে নিলেও ভবিষ্যতে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

শনিবার সিলেট সানরাইজার্সের বিপক্ষে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে নেতৃত্ব দেন নাঈম ইসলাম। মিডিয়াকে মিরাজ জানান, ম্যাচের তিন ঘণ্টা আগে জানাতে পারেন, তিনি আর অধিনায়ক নন। তিনি বলেন, ‘ক্যাপ্টেন্সি করা-না করা কোনো ব্যাপার না। কিন্তু ম্যাচের তিন ঘণ্টা আগে কেন জানাবে! আমারও তো রেপুটেশনের আছে। ওই যে সিওও ইয়াসির- ওই কালপিট, ও থাকলে আমি খেলব না। ও-ই সবকিছু করে। ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক ভালো আছেন। ইয়াসির মালিকদের ভুল বুঝিয়ে সবকিছু করে।’

মিরাজ শনিবার রাতেই বিসিবি সিইও নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে ফোনে বিষয়টি জানান। বোর্ড কর্মকর্তারা ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সুরাহা করার নির্দেশ দেন। ফ্র্যাঞ্চাইজিও মিরাজের একগুঁয়েমি মেনে নিতে চায়নি। বিসিবির কারণে শেষ পর্যন্ত নমনীয় হয় তারা। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব মল্লিক শনিবার রাতেই ফোনে কথা বলে টুর্নামেন্টে খেলতে বলেন। কিন্তু গতকাল দিনে মিরাজ মিডিয়াকে জানান, তিনি চট্টগ্রামের হয়ে বিপিএলে আর খেলবেন না। বিকেলেই ঢাকায় ফিরে যাবেন। বিসিবি কর্মকর্তারাও তাকে মানাতে পারছিলেন না।

শেষ পর্যন্ত সিওও ইয়াসিরকে সরিয়ে দেওয়ায় শান্ত হন মিরাজ। এ নিয়ে ইয়াসিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘দলের স্বার্থে না হয় বাইরে থাকলাম। আমি চাই, মিরাজ খেলুক।’ মিরাজের ‘ডমিনেটিং ক্যারেক্টারের’ কারণে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও সমস্যা হয়েছে। অভিযোগ আছে, বড় দলগুলো এখন তাকে নিতে চায় না।

মিরাজের নাটক নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের এক ক্রিকেটার। তিনি বলেন, ‘ক্যাপ্টেন্সি কেন পরিবর্তন হয়েছে, নিশ্চয়ই সেটার কারণ আছে। সাধারণত দলের যে পরিকল্পনা, সেটা মিরাজ বাস্তবায়ন করতে চায় না। ও পাওয়ার প্লেতে নরমাল ক্রিকেট খেলে শেষে গিয়ে রান তুলতে চায়। জ্যাকসকে নিচে খেলিয়ে নিজে ওপেন করবে।

কোচ একটা পরিকল্পনা করে দেয়, মাঠে করে অন্যটা। আগে দলেরটা চিন্তা করতে হয়। সেটা না করে নিজেরটা ভাবলে ম্যানেজমেন্ট তো সরিয়ে দেবেই। সে নিঃসন্দেহে খুবই ভালো খেলোয়াড়। দলের জন্য অপরিহার্য। সে যেটা করল সেটা তার নিজের, দল এবং বিপিএলের জন্য খারাপ হলো।’