বরগুনার রিফাত হ’ত্যাকা’ণ্ড নিয়ে সারাদেশে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। রিফাত হ’ত্যার প্রধান আসামী সুমন বন্ড ইতোমধ্যে পু’লিশের সাথে বন্ধুকযু’দ্ধে নি’হত হয়েছে। বাকি আ’সামিরাও গ্রে’ফতার হয়েছে।
তবে গত ২ দিন আগে এ ঘটনায় নতুন মোড় নেয়। এ মামলার প্রধান স্বাক্ষী রিফাতের স্ত্রী’ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিও হয়ে গেছেন মামলার আসামী। তাকে গ্রে’ফতার করে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। পু’লিশ দাবি করছে, এ হ’ত্যাকা’ণ্ডের সাথে মিন্নি সরাসরি জড়িত।
এ বিষয় নিয়ে এবার মুখ খুললেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) তিনি তার নিজের ফেসবুক পেইজে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি ও এই হ’ত্যাকা’ণ্ড নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, কুখ্যাত খু’নী, ধ’র্ষক, দূর্নীতিবাজ, মা’দকব্যবস্যায়ী সবার জন্য আইনজীবিরা লড়তে পারেন। তাহলে মিন্নির জন্য কেন কোন আইনজীবি নেই? এটা দেখে আমা’র তো সন্দেহ হচ্ছে নয়ন বন্ড-এর গড়ফাদাররা আছে তাকে ফাসিয়ে দেয়ার পেছনে। না হলে তার পক্ষে লড়তে ভয় বা অনীহা কেন সেখানকার সব আইনজীবীর। মিন্নির পক্ষে দাড়ানোর জন্য নেই কোন মানবাধিকার সংগঠনও?
‘মিন্নি নয়ন বন্ডের বাড়িতে গিয়ে রিফাত হ’ত্যার পরিকল্পনা করে’
বরগুনায় রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্যে কু’পিয়ে রিফাত শরীফকে হ’ত্যাকা’ণ্ডের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তার স্ত্রী’ আয়েশা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নি জড়িত ছিলেন। তিনি হ’ত্যা পরিকল্পনায়ও অংশ নেন। হ’ত্যাকা’ণ্ডের আগের দিন তিনি নয়ন বন্ডের বাড়িতে গিয়ে এ হ’ত্যার নীলনকশায় অংশ নেন। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বুধবার (১৭ জুলাই) আ’দালতকে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, রিফাত শরীফ হ’ত্যার ঘটনায় মূল নায়ক নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজীর সঙ্গে মিন্নি পরিকল্পিতভাবে এ হ’ত্যাকা’ণ্ড ঘটান।
আলোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী ও নি’হতের স্ত্রী’ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে আ’টকের পর বুধবার (১৭ জুলাই) আ’দালতে হাজির করা হয়।
বুধবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে মিন্নিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আ’দালতে হাজির করে তদন্তের স্বার্থে ও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বরগুনা থানার পু’লিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হুমায়ূন কবির। আ’দালতের বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইস’লাম গাজী শুনানি শেষে তার বি’রুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিকে, বুধবার সকালে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ডেকে এনে মিন্নিকে গ্রে’ফতার দেখানো ও আ’দালতে নেওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানায় মিন্নির পরিবার।
পু’লিশ বলছে- পরিকল্পিতভাবে ঘটানো এ হ’ত্যাকা’ণ্ডে মিন্নির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তবে আ’দালতে আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বলেছেন, ‘আমা’র স্বামী রিফাত শরীফ। আমি আমা’র স্বামীর হ’ত্যাকারীদের বিচার চাই। হ’ত্যাকা’ণ্ডে আমি জড়িত নই। এ মামলায় আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁ’সানো হয়েছে।’
প্রায় ১৫ মিনিট তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য শেষে বিচারক জানতে চান আ’সামির পক্ষে কোনও আইনজীবী আছেন কিনা? উপস্থিত আইনজীবীরা এ সময় নীরব ছিলেন। পরে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়ানো মিন্নিকে উদ্দেশ্য করে জানতে চান তার কোনো বক্তব্য আছে কিনা? মিন্নি এসময় নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, ‘স্যার আমি এই ঘটনার সাথে জড়িত নই, ওইদিন যে এই ঘটনা ঘটবে তা আমি জানতাম না।’
আ’দালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মিন্নি বলেন, বিভিন্ন সময় আ’সামিরা তাকে ফোনে বির’ক্ত করতো ও ভয় ভীতি দেখাতো। এমনকি প্রাণনাশের হুমকিও দিতো।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি বা আমা’র পরিবার আ’সামিদের ভয়ে কোথাও মুখ খুলতে পারিনি। আমা’র স্বামী রিফাত শরীফ হ’ত্যাকারীদের বিচার চাই। আমাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।’ বক্তব্যের একপর্যায়ে বিচারক হ’ত্যাকারীর কল লিস্টে তার নম্বর কিভাবে এলো জানতে চাইলে মিন্নি নিরব থাকেন।
