বার্মিংহ্যামে ভারতের বিপক্ষে টাইগারদের মরণ-বাঁচন ম্যাচে হারের জন্য সেমিফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেল বাংলাদেশ।
সেই হারের পিছনের কারণগুলো বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বার বার উঠে আসছে বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজার নাম। টাইগার অধিনায়ককে প্রশ্নবিদ্ধ করে প্রতিবেদন ছাপিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী পত্রিকা আনন্দবাজার।
যে প্রতিবেদনে তারা বলেছে, ওয়ানডেতে বাংলাদেশ দলে মাশরাফিকে নিয়ে খেলা মানে দশ জন টাইগারকে নিয়ে মাঠে নামা।
এই ম্যাচে প্রথম ওভারেই বল করতে এসে ১০ রান দেন তিনি। ডিপ স্কোয়ার লেগে রোহিতের সপাটে করা পুল বুঝিয়ে দেয় মাশরাফির পক্ষে রোহিতকে আ***ানো মুশকিল। সঙ্গে সঙ্গেই তিনি নিজেকে সরিয়ে সইফুদ্দিনকে নিয়ে আসেন।
কিন্তু তিনিও চার ওভারে ২৫ রান দিলে আবার বল করতে ফিরে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এসেই আবার দিয়ে দেন ১০ রান। তাঁর করা ৫ ওভারে ভারত নেয় ৩৬ রান। দলে বোলার হিসেবে থাকা মর্তুজা পুরো ১০ ওভার বল করার মতো সাহস দেখাতেও ব্যর্থ। রুবেল এবং মুস্তাফিজুরের মতো বোলার দলে থাকতেও তাঁদের ঠিক মতো ব্যবহারই করতে পারলেন না তিনি।
এই বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচ খেলে একটি মাত্র উইকেট পেয়েছেন মাশরাফি মর্তুজা। ১০ নম্বরে ব্যাট করতে নেমে সব মিলিয়ে করেছেন ১৯ রান। ব্যাট-বল সবেতেই ব্যর্থ তিনি। ৩৫ বছরের মর্তুজাকে শুধুমাত্র অধিনায়ক হিসেবে দলে রেখে বাংলাদেশ হয়তো দল হিসেবেও ভুগছে।
কারণ মাশরাফি খেলা মানে কার্যত দশ জনে খেলছে টাইগাররা। দলে টেস্ট ও টি-২০ অধিনায়ক শাকিব থাকলেও মর্তুজাকেই একদিনের অধিনায়ক রেখেছে বাংলাদেশ। কিন্তু একজন অধিনায়ক যখন সামনে থেকে নেতৃত্ব করতে পারেন না, তখন গোটা দলের মনোবলেও আঘাত লাগা স্বাভাবিক।
২০০৭-এর বিশ্বকাপে একাই ৪ উইকেট নিয়ে ভারতকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ২৩ বছরের মর্তুজা। কিন্তু এখন সেই মাশরাফি যেন শুধুই সেই দিনের ছায়া। প্রশ্ন আরও উঠছে তাঁর দলের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়ে। ৪৪তম ওভারে ভুবির প্রথম বলটাই ছয় মে*রে পরের বলেও মারতে যান তিনি। এবং বল ব্যাট ছুঁয়ে ধরা পরে ধোনির গ্লাভসে।
উল্টো দিকে তখন ২৮ বলে ৩৩ করা সইফুদ্দিন সঙ্গী খুঁজছেন ম্যাচ শেষ করার। মর্তুজার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন শট ক্রিজে নিয়ে আসে রুবেল, মুস্তাফিজুরদের। যাঁদের ফেরাতে বেশি সময় নেননি এই ম্যাচে ৪ উইকেট নেওয়া বুমরা।
এই বিশ্বকাপই মধ্য তিরিশের মর্তুজার যে শেষ বিশ্বকাপ তা বলাই যায়। তবে এই বিশ্বকাপে আসার আগেও ফর্মে ছিলেন না তিনি। নিয়মিত উইকেটও পাচ্ছিলেন না। দলে আরও বোলার থাকলেও অধিনায়ক মর্তুজাই শুরু করছেন বার বার এবং ব্যর্থ হচ্ছেন। এই জায়েগাটা নিয়ে এ বার ভাবতেই হবে বাংলাদেশকে।
