মাশরাফির বাড়ি ঘিরে অন্যরকম নির্বাচনী আমেজ

নড়াইল বাসস্ট্যান্ড থেকে ইজিবাইকে (ব্যাটারিচালিত থ্রি হুইলার) মিনিট দশেক গেলেই জেলা স্কুল। পেছনে ঈদগাহ, তার সামনে বিশাল মাঠ। এককোনায় অনুশীলন করছে কয়েকজন ক্রিকেটার। মাঠের ঠিক উত্তর কোণের প্লটে সুদৃশ্য বাংলো ধরনের দোতলা বাড়ি। পাশাপাশি দুটি গেইট। ছোটটির পাশে পাথর ও গ্রাফাইটের টুকরো দিয়ে বাঁধানো শিল্পী প্রীতিশ গাঙ্গুলির করা ক্রিকেট তারকার মুর‌্যাল। গায়ে বাংলাদেশের জার্সি।প্রবেশদ্বারই জানিয়ে দিচ্ছে এটা মাশরাফিদের বাড়ি।

বাড়ির সামনে সকালবেলা থেকে ভিড়। বিকাল গড়িয়ে সন্ধ্যায় ফেরার সময়ও একই দৃশ্য। বাড়িটিকে পেছনে রেখে চলছে ছবি তোলার উৎসব। বাড়ির দুয়ারও প্রায় সকলের জন্য উন্মক্ত। ড্রইংরুমে মাশরাফির জেতা ট্রফি ও ছবির সামনে দাড়িয়ে ছবি তুলছেন কয়েকজন।

তবে এই সময়ে বাড়িটির ব্যস্ততা একটু অন্যরকম। ভবনের পাশের খোলা অংশে বিশাল সামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। সেখানে শ’খানেক চেয়ার- গোলটেবিল রাখা। কাঠের তৈরি নৌকা স্বাগত জানাচ্ছে; নিবাচর্নী আনন্দের উঠানে। ছোট ছোট টেবিলে ভাগ হয়ে বসাদের মধ্যে চলছে আলোচনা। পরিকল্পনা। কাজের দায়িত্ব ভাগাভাগি করে দেয়া হচ্ছে। তুমুল উৎসাহ চারধারে। প্রচুর ব্যস্ততা।

বাড়ির সামনেই দাড়িয়ে সাদা লুঙ্গি ও গায়ে ফতুয়া, কাঁধে গামছা জড়ানো, ঘাড় বেয়ে নেমে যাওয়া চুলের এক ত্রিশোর্ধ বাউল গায়কের সঙ্গে দেখা। আবেগ-আনন্দে ঠিকমতো কথাও বেরুচ্ছিলো না তার মুখ থেকে। শুধু খানিকক্ষণ ধরে ‘বাবু, আমার বাবুই’ উচ্চারণ করে যাচ্ছিলেন। সামিয়ানার ওপরের চাতালে রাখা কাঠের নৌকাটা সঞ্জয় নামের এই বাউল গায়কই তৈরি করে এনেছেন।

নাহ, কোনও বিনিময় মূল্য তিনি চান না! মাশরাফিকে ভালবাসেন, তাই ‘বাবু’র জন্য এই উপহার!

মাঠে যখন খেলেন। তখনো প্রতিক্ষণ মানুষকে আনন্দ-উচ্ছাসে ভরিয়ে রাখেন অধিনায়ক মাশরাফি। এখন রাজনীতির মাঠে পা রাখা তাকেই ঘিরেই অবহেলিত নড়াইল দেখছে অনেক দুরের রঙিন স্বপ্ন। জেতার স্বপ্ন। সফল হওয়ার স্বপ্ন।