মা’র্কে’টের নিচে পড়েছিল লা’শ, করোনা আতঙ্কে পাশে যাচ্ছিলেন না কেউ!

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের আম্বরশাহ জামে ম’সজিদ মা’র্কে’টের নিচে আজ শুক্রবার দুপুরের পর অ’জ্ঞাতনামা একটি লা’শ পড়েছিল।

এই খবর শুনে আশপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। করোনাভাইরাসেআ,ক্রান্ত হয়ে মা’রা গেছেন কি না এই আতঙ্কে লা’শটির আশপাশেও কেউ যাচ্ছিলেন না।

খবর পেয়ে বিকেলে ঘটনাস্থলে যায় তেজগাঁও থানা পু’লিশ। গিয়েই ম’সজিদের নিচের গলি অব’রুদ্ধ করে দেয়। ওই গলি দিয়ে কাউকে প্রবেশ করতে নিষেধ করে। এই খবরে চারদিকে করোনা সংক্রান্ত নানা গুঞ্জন শুরু হয়।

বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মা’রা যাওয়া ব্যক্তি মা’র্কে’টের নিচের একটি দোকানের শাটারের সঙ্গে পড়ে ছিলেন। ম’রদেহের পাশে কিছু টাকা পড়েছিল। ছিল কিছু খাদ্যও। পায়ের দিকে পড়েছিল একটি বিরিয়ানির প্যাকেট। ওই প্যাকে’টে থাকা বিরিয়ানি তিনি দুপুরে খেয়েছিলেন।

ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে কেউ যাচ্ছিলেন না। দুই পাশের রাস্তার মোড়ে ছিল উৎসুক মানুষের জটলা। যাতে কেউ ঘটনাস্থলে না যেতে পারে সেজন্য বিকেল ৫টা থেকে মেট্রোরেল প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী ওহিদুল ইস’লামকে তেজগাঁও থানা পু’লিশ দাঁড় করিয়ে রেখে যায়।

নাজমুল হোসেন নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, ‘লোকটি কয়েকদিন ধরে এদিকে এসেছেন। রাস্তার ধারেই শুয়ে থাকতেন। ভিক্ষাও করতেন। তবে আজ সকালের দিকে তাকে অ’সুস্থ অ’সুস্থ মনে হচ্ছিল।’

সন্ধ্যা ৬টার পর তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদুল তাঁর টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। সে সময় তিনি বলেন, ‘এটা আসলে সাধারণ মৃ’ত্যু হতে পারে। তিনি একজন ভিক্ষুক। করোনাভাইরাস আতঙ্ক সাধারণ মানুষ এমনিতেই ভয় পেয়েছিল। আমি আঞ্জুমানে মফিদুল ইস’লামকে (জনকল্যাণ সংস্থা) এই ঘটনা জানিয়েছিলাম। তারা বলেছে, আগামীকাল লা’শ নিতে পারবে। তাই এখন আম’রা শহীদ সোহরাওয়ার্দীমে,ডিকেল কলেজ ম’র্গে লা’শ রেখে আসব।’

এদিকে গতকাল রাজধানীর মালিবাগের চৌধুরীপাড়ার একটি বাসার ফ্লাট থেকে রাজু (৩৫) নামের এক ব্যক্তির লা’শ উ’দ্ধার করে রামপুরা থানা পু’লিশ। করোনাভাইরাসে মা’রা গেছে এই সন্দেহে কেউই লা’শের কাছে যায়নি। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় পু’লিশ।

এই ব্যাপারে রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মক’র্তা (ওসি) কুদ্দুস ফকির বলেন, ‘মা’রা যাওয়ার খবর পেয়ে আম’রা ঘটনাস্থলে যাই। গিয়ে দেখি লা’শের পাশে কেউ যাচ্ছিলেন না। হুজুগে বাঙালি হলে যা হয়। তবে আমা’র কাছে স্বাভাবিক মৃ’ত্যুই মনে হয়েছে। ময়নাত’দন্তের রিপোর্ট পেলেই আম’রা বিস্তারিত জানতে পারব।’