নোয়াখালীর সদর উপজেলার একটি মাদরাসা ভবনের চার তলা থেকে এক ছাত্রকে ফেলে দেয়া অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত শনিবার ভোর ৪টার দিকে মাইজদী জহুরুল হক মিয়ার গ্যারেজের জান্নাত প্লাজার মাদরাসাতুস সুফ্ফাহ আল ইসলামিয়ার মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ছাত্রকে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলাম জিহাদ (১৫)। সে সদর উপজেলা মুরাদপুর গ্রামের মো. জিলনের ছেলে। ওই ছাত্র মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ছিলো। গতকাল সোমবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সুধারাম থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এদিকে মাদরাসার একটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, গত শনিবার ভোরে ওই মাদরাসার আবাসিক শিক্ষক মোসলেহ উদ্দিন ওই ছাত্রকে ঘুম থেকে ডেকে ওঠান। তার রুমের একটি বিছানা নিয়ে যেতে দেখা যায় ওিই শিক্ষকের অফিসে। সেই অফিসরুমের জানালা দিয়ে ছাত্রটি লাফিয়ে নিচে পড়ে। বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করেন অনেকে। অপর দিকে ৩য় তলা ভবনের একটি সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায় ওই ছাত্রটি লাফিয়ে পড়ার পর নিচে মুখোশ পরা চাদর দিয়ে ঢাকা একটি ব্যক্তি ভোরে ছাত্রটিকে টানার চেষ্টা করে, একবার চলে যায়, একবার আসে।
ছাত্রটির স্বজনদের অভিযোগ হয়তো, আভ্যন্তরীণ কোন বিরোধ অথবা শিক্ষকের অন্যয়ের প্রতিবাদ করায় এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। এ ঘটনায় তারা সবগুলো সিসিটিভির ফুটেজ দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদরাসার অধ্যক্ষ আব্বাস কামাল বলেন, ৬ষ্ঠ তলা থেকে আসা একটি ব্যানারের রশির সাহায্যে লাফ দিয়ে পড়ে যায়। বিষয়টি পুলিশ তদন্ত করছে।
সুধারাম থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন জানান, অভিযোগের আলোকে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। সিসিটিভির ফুটেজ গুলো পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
