মন্ত্রীর বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক; ছেড়ে গেলেন স্ত্রী

ব্রিটেনের রাজনীতিতে এই সময়ে সম্ভবত সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন। সম্প্রতি সময়ে তিনি মন্ত্রীপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। আর এখন বেরিয়ে এসেছে তার রগরগে যৌন জীবনের কাহিনী।

একে একে তার শিকারে যারা পরিণত হয়েছিলেন তারা মুখ খুলতে শুরু করেছিলেন। এমন একজন তার সাবেক এক রক্ষিতা পেট্রোনেলা উয়াট (৫০)। এক সময় তার কাছে বরিস জনসন বলেছিলেন, একজন পুরুষ একজন নারীকে নিয়ে সারাজীবন কাটিয়ে দেবেন এটা অযৌক্তিক।

পেট্রোনেলা উয়াট এসব বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তার সঙ্গে বরিস জনসনের যৌন সম্পর্কে একবার তার মিস ক্যারিজ হয়। ফলে তাকে গর্ভপাত করাতে হয়।

বরিস জনসন যখন দ্য স্পেকটেটর ম্যাগাজিনের সম্পাদক তখন তার ডেপুটি হিসেবে কাজ করছিলেন পেট্রোনেলা উয়াট। তিনি বরিস জনসনের সৌন্দর্য্যে তার প্রেমে পড়ে যান। তারপর চার বছর টিকে ছিল তাদের প্রেম।

তারই এক পর্যায়ে বরিস জনসন তাকে বলেছিলেন, আমার মতে এটা একেবারেই অযৌক্তি যে, পুরুষরা একজন নারীকে নিয়ে সারা জীবন কাটিয়ে দেবেন। এমন এক স্ত্রী নিয়ে জীবন কাটানো হলো পূর্বাঞ্চলীয় রীতি। পেট্রোনেলা উয়াটের সঙ্গে প্রেমের কারণে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাকরি হারাতে হয় বরিস জনসনকে। কারণ, এ নিয়ে তিনি মিথ্যাচার করেছিলেন।

এদিকে বরিস জনসনের দীর্ঘ ২৫ বছরের সংসার ভাঙতে চলেছে। বরিস জনসন এবং তার স্ত্রী মারিনা হুইলার তাদের ডিভোর্সের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এক যৌথ বিবৃতিতে তারা জানান, ডিভোর্সের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কয়েক মাস আগেই ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন তারা। তবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মাধ্যমে তারা তাদের চার সন্তানের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবেন বলেও জানিয়েছেন।

১৯৯৩ সালে মারিনাকে বিয়ে করেন বরিস জনসন। তাদের চার সন্তান লারা লেটিস, মিলো আর্থার, ক্যাসিয়া পিচেস এবং থিওডোর অ্যাপোলো। এর আগে বরিস জনসন অ্যালেগ্রা মোস্তিন ওয়েনকে বিয়ে করেন।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন জনসন। ২০০৪ সালে সাংবাদিক পেট্রোনেলা ওয়্যাটের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলে নিজেই স্বীকার করেন বরিস। ওয়্যাট অন্তঃসত্ত্বা হন ও গর্ভপাত করান। তাদের সম্পর্ক ছিল চার বছরের।

২০০৯ সালে হেলেন ম্যাকিনটায়ার নামে এক শিল্প পরামর্শদাতার সঙ্গে নাম জড়ায় বরিস জনসনের। হেলেনের সন্তানের বাবা হন তিনি। এত কিছুর পরেও মারিনার সঙ্গে তার সম্পর্ক টিকে ছিল। কিন্তু এবার বিচ্ছেদের পথেই হাঁটলেন তারা।