মগবাজার বি’স্ফোরণ : ভাইয়াকে চিনতে খুব কষ্ট হয়েছে

মো. ইমরান হোসেন। স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন শান্তিনগরে। কাজ করেন মগবাজার ওয়্যারলেস গেট এলাকার বেঙ্গল মিটে। সন্ধ্যায় তাদের পাশের ভবনে বিকট শব্দে ভয়াবহ বি’স্ফো’রণ ঘটনা ঘটে। পুরো এলাকা ল’ণ্ড’ভণ্ড হয়ে যায়।

এ ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন ইমরান। তার পুরো শরীর পুড়ে গেছে। চিকিৎসক বলেছেন, তার শরীর ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন পার্থ শংকর পাল গণমাধ্যমকে বলেন, ইমরানের শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তার অবস্থা অনেক বেশি আশঙ্কাজনক।

এদিকে রাত পৌনে ১১টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বি’স্ফো’রণের ঘটনায় মৃ’ত্যু বেড়ে ৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দ’গ্ধ ও আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকায় তিনতলা ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। বিকট শ’ব্দে’র পর ওই এলাকা কেঁপে ওঠে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, ভবনটির নিচতলায় সিঙ্গার শো-রুম, শর্মা হাউস ও গ্র্যান্ড কনফেকশনারি দোকান রয়েছে। বি’স্ফো’রণে ভবনের ধসে পড়েছে। এ ছাড়া সিঙ্গার শো-রুমের ভেতর থেকে জেনারেটর উড়ে এসে রাস্তায় বাসে পড়ে। এতে দুটি বাসের কাচসহ মা’রা’ত্মক ক্ষ’তি’গ্রস্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় দগ্ধ ৩৯ জনকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বি’স্ফো’রণের এ ঘটনায় পথচারীসহ অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। দগ্ধ ও আ’হ’তদের মধ্যে ১৭ জনের অবস্থা আ’শ’ঙ্কাজনক।

আরও জানা গেছে, ভয়াবহ এই বি’স্ফো’রণে আশেপাশের বেশ কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বি’স্ফো’রণের ভবনটির উল্টো পাশে (উত্তর) আড়ং এর ভবনও ক্ষ’তি’গ্রস্ত হয়েছে। ভবনটির গ্লাস ভেঙে পড়েছে।

এ ঘটনায় মারাত্মকভাবে দগ্ধ ইমরান বেঙ্গল মিটের সেলসম্যান হিসেবে কাজ করেন। ঢামেক বার্ন ইউনিটের সামনে তার বোন আইরিন গণমাধ্যমকে বলেন, মগবাজারের বেঙ্গল মিটে দুই বছর ধরে সেলসম্যান হিসেবে কর্মরত। ভাইয়া মাত্র তিন বছর আগে বিয়ে করেছেন।

আমরা মগবাজারেই থাকি। ভাইয়া থাকেন শান্তিনগরে। প্রতিদিনের মতো আজও ভাই সকালেই বেরিয়ে পড়েছিল। আমরা আজ শান্তিনগরের বাসাতেই ছিলাম। কিন্তু তার আর ফেরা হলো না। খবর পেলাম ভাই দগ্ধ হয়েছে। ঢামেক বার্ন ইউনিটে ভর্তির খবরে ভাবি তামান্না ও মাসহ ছুটে এসেছি।

আইরিন বলেন, ভাইয়াকে চিনতে খুব কষ্ট হয়েছে। এভাবে আজ ভাইয়াকে দেখতে হবে ভাবিনি। ভাইয়ের পুরো শরীর র’ক্তা’ক্ত ও পোড়া। ভাইয়ের জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। পাশেই স্ত্রী তামান্না বার বার মুর্ছা যাচ্ছিলেন আর বিলাপ করছেন স্বামীর জন্য।